ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ২৭ দিন বাকি। টুর্নামেন্টের সূচি আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ২০টি দলের মধ্যে শুধু বাংলাদেশই জানে না, কোথায় তাদের ম্যাচের ভেন্যু! টুর্নামেন্ট শুরু হতে যখন এক মাসও বাকি নেই তখনো ঘোর অনিশ্চয়তায় টাইগাররা।

মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটে এখন বিশ্বকাপ নিয়েই অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশের তারকা পেস বোলারকে ৯ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে কিনে নিয়েছিল আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২০২৬ আসরে তার খেলার কথা পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের দল কেকেআরে। যদিও উগ্রবাদীদের চাপে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। গত শনিবার কলকাতা বিলম্ব না করে দ্রুতই মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। ফিজকে বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ম্যাচগুলো বাংলাদেশ খেলতে চায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলংকায়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাঠে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে চায় না। তারা খেলতে চায় শ্রীলংকায়। আইসিসি এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তাই বুধবার দ্বিতীয় দফায় আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে আইন, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। আসিফ নজরুলের নির্দেশে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতে খেলতে না চাওয়ার বিষয়টি জানায় বিসিবি। প্রথম দফায় চিঠি লেখার পর বিসিবির পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করে আরেক দফা তিনি নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসিকে চিঠি পাঠায় বিসিবি।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি এ নিয়ে মিডিয়ায় কথা বলেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বিসিবিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘দর্শক আবেগে অনেক কিছু বলে। কিন্তু সবকিছু যদি আমরা ওইভাবে চিন্তা করি, তাহলে আপনি এত বড় সংস্থা চালাতে পারবেন না। কারণ আপনার আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছর পর কী প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এবং খেলোয়াড়দের জন্য কোনটা ভালো হবে, সব চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’ পাশাপাশি মুস্তাফিজের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তামিম বলেছেন, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়া অবশ্যই দুঃখজনক, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি নিজে বোর্ডে থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন? এমন প্রশ্নের মুখে তামিম বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা নিতাম ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। হ্যাঁ, অনেক কিছুই ঘটছে। এই মুহূর্তে মন্তব্য করা জটিল। তবে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে সবাই মিলে আলোচনা করে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। ক্রিকেট বিশ্বে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—সবকিছু মিলিয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিতাম।’

তামিমের মন্তব্যের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম লিখেছেন, ‘এবার আরো একজন পরীক্ষিত ভারতীয় এজেন্টের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’

নাজমুল ইসলামের এমন পোস্ট ‘দায়িত্বহীন’ বলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বোর্ডের দায়িত্বশীল পদে থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এমন মন্তব্যের কারণে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। এর প্রতিবাদ জানাতে সিলেটে সংবাদ সম্মেলন ডাকে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। ওই মন্তব্যের জন্য নাজমুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানায় কোয়াব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমান, মুমিনুল হক সৌরভ, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন প্রমুখ। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তামিমের সাবেক সতীর্থরা। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল, মুমিনুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তায় খেলোয়াড়দের মনে প্রভাব পড়ারই কথা। বাংলাদেশ জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শুক্রবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বলেছেন, ‘আপনি দেখবেন, প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে কিছু না কিছু ঘটে আমাদের। আমরা অভিনয় করি যে আমাদের কিছু হয় না, আমরা খুবই পেশাদার ক্রিকেটার। এটা আপনারাও বোঝেন যে আমরা অভিনয় করি। এটা সহজ কাজ না। আমার কাছে মনে হয় যে খেলোয়াড়রা এখনো চেষ্টা করে, এটাকে কীভাবে দূরে রেখে পারফর্ম করা যায় দলের জন্য। কিন্তু এ জিনিসগুলো না হলে ভালো। আমি বলব যে এটা আবার একটু আমাদের নিয়ন্ত্রণেরও বাইরে।’

এদিকে গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে আজ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ, যিনি বিসিসিআইয়ের সাবেক সচিব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুট করে এ সমস্যার সমাধান বের করা জয় শাহর জন্য মোটেও সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না।