ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে আজ ১৩৮ বলে ১৭০ রানের রেকর্ড ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে সপ্তমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দিলেন ৩২ বছর বয়সী অ্যালিসা হিলি। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অজিরা গড়ে ৩৫৬ রানের সৌধ, যা টপকে যাওয়া সম্ভব হয়নি ইংলিশ নারীদের পক্ষে।
এই ইনিংসে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন হিলি। নারী ও পুরুষ মিলে ওয়ানডে
বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর, আগের সর্বোচ্চ স্কোরটা অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ১৪৯, যা তিনি করেছিলেন ২০০৭ বিশ্বকাপ
ফাইনালে। এছাড়া নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে হিলির ১৭০ রানই সর্বোচ্চ।
হিলি ২৬ বাউন্ডারিতে সাজিয়েছেন স্বপ্নের এই ইনিংসটি। এই প্রতিটি
বাউন্ডারির পর আর সেঞ্চুরির পর হাতহালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, উত্সাহ জুগিয়েছেন স্বামী মিচেল
স্টার্ক, যিনি অস্ট্রেলিয়া পুরুষ দলের ফাস্ট বোলার।
স্বামী-স্ত্রী দুজনই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে
ও টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করলেন। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে অজিরা
বিশ্বকাপ জয় করার পর মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বামীর সঙ্গে শিরোপার আনন্দ
ভাগাভাগি করেন হিলি। আজ হ্যাগলি ওভালে স্ত্রীর শিরোপা জয়ের গৌরবময় মুহূর্তে পাশে
ছিলেন স্টার্ক।
এবার আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়েও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন বলে তিনি ‘না’ করে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে থেকেই তিনি
স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন,
এমনকি
অ্যাশেজের সময়ও ছিলেন জৈব সুরক্ষা বলয়ে। এ সময় তিনি অস্ট্রেলিয়া দলের তরুণী বোলারদের
প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। এরপর তিনি স্ত্রীকে উত্সাহ দিতে ছুটে যান নিউজিল্যান্ডে।
এবারের আসরে সর্বোচ্চ ৫০৯ রান টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন হিলি। ৪৯৭ রান
নিয়ে তার পরেই বেথ মুনি। এ দুজনই এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন। ১৯৯৭
সালে নিউজিল্যান্ডের ডেবি হকলির ৪৫৬ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন তারা দুজনই।
এই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও সেঞ্চুরি করেন হিলি। ফাইনালে খেললেন
মহাকাব্যিক এক ইনিংস। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালেও ৭৫ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে
শিরোপা এনে দেন হিলি।
এরই মধ্যে পাঁচবার টি২০ বিশ্বকাপ ও একবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছেন
হিলি। এটা তার দ্বিতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা। তার মতো স্টার্কও বিশ্বকাপের ‘ডাবল’ জিতেছেন। ২০১৫ সালে ওয়ানডে ও ২০২১ সালে টি২০
বিশ্বকাপ জয় করেন ৩২ বছর বয়সী স্টার্ক।
স্লোভেনিয়ান বংশোদ্ভূত স্টার্ক ও হিলির দেখা সাত বছর বয়সে, তখন তারা দুজনই উইকেটকিপিং করতেন।
পরবর্তীতে দুজনই হয়েছেন জাতীয় দলের তারকা। বিখ্যাত এ যুগলের বাগদান হয় ২০১৫ সালে, আর দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২০১৬
সালের ১৫ এপ্রিল। টেস্ট ক্রিকেট খেলা মাত্র তৃতীয় দম্পতি এ দুজন। এছাড়া
ইংল্যান্ডের রজার ও রাথ প্রাইডক্স দম্পতি ১৯৫০ ও ১৯৬০ এর দশকে এবং শ্রীলংকার
রোনাল্ড গাই ডি অলউইস ও রাসাঞ্জলি ডি অলউইস দম্পতি ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশকে টেস্ট
খেলেছেন।
ক্রিকইনফো,
দ্য
স্পোর্টসরাশ










