প্যারিস অলিম্পিকে বৃহস্পতিবার রাতটি ছিল দুই আমেরিকান সুপারস্টার সিমোন বাইলস ও কেটি লেডেকির। আগেই একের পর এক রেকর্ড গড়া এ দুজন বৃহস্পতিবার রাতে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।

 

অল-অ্যারাউন্ড জিমন্যাস্টিকসের স্বর্ণ জিতেছেন বাইলস। এটি চলতি আসরে তার দ্বিতীয় ও সব মিলে ষষ্ঠ অলিম্পিক শিরোপা। এর মধ্য দিয়ে তিনি অমরত্বে পথে হাঁটছেন। আর লেডেকি জিতেছেন ১৩তম অলিম্পিক পদক। বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে যুক্তরাষ্ট্র দলের হয়ে হয়ে রৌপ্য জিতেছেন তিনি।

 

সবার চোখ ছিল জিমন্যাস্টিকসের ভল্টে। বাইলস ছিলেন আলোতে। বাইলসের খেলা মানেই গ্যালারিতে থাকে হলিউড তারকার মেলা। এদিনও ব্যতিক্রম হয়নি। তাদের নিরাশ করেননি তিনি। জিতে নেন টানা দ্বিতীয় স্বর্ণ পদক। এ রাতে ব্রাজিলের রেবেকা আনদ্রাদে রৌপ্য ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সুনিসা লি ব্রোঞ্জ জিতেছেন।  

 

রিও অলিম্পিকে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করা বাইলস টোকিওতেও ছিলেন ফেভারিট। যদিও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি সরে দাঁড়ান। প্যারিসে ফিরেই টানা দুটি ইভেন্টে স্বর্ণ জিতলেন তিনি।

 

মেয়েদের অল-অ্যারাউন্ড জিমন্যাস্টিকসে সর্বোচ্চ (ছয়টি) স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব এখন বাইলসের। সর্বোচ্চ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশি পদক (৩০) জয়ের রেকর্ডও তার দখলে। দুটি অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী তৃতীয় নারী বাইলস। তার আগে এই কীর্তি আছে লারিসা লাতিনিনা (১৯৫৬, ১৯৬০) ও ভেরা কাসলাভস্কার ((১৯৬৪ ও ১৯৬৮)।

 

৭২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতলেন বাইলস। এর আগে সর্বশেষ ১২ জন স্বর্ণজয়ী ছিলেন টিনএজ জিমন্যাস্ট। এমনকি ১৯৭২ সালে সর্বশেষ তিনি নন-টিনএজ ছিলেন সেই লুদমিলা তুরিশেভাও সদ্য বিশে পা রেখেছিলেন। আর বাইলস জিতলেন ২৭ বছর বয়সে।   

 

এদিকে, সাঁতারের পুলে লেডেকির নামের পাশে রৌপ্য বড়ই বেমানান। তবু এই পদকেই তিনি ইতিহাস গড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলকে আলোকিত করে স্বর্ণ জিতেছেন কানাডার কিশোরী সামার ম্যাকিনটোশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কেট ডগলাস। এই রাতেই লেডেকি সতীর্থদের নিয়ে জিতলেন রিলের রৌপ্য। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে তার দল। অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলেন আরিয়ার্নে টিটমাস ও মলি ও’ক্যালাহান, যারা ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন আগেই। এবার রিলেতেও দেশকে স্বর্ণ এনে দেন।

 

রৌপ্য দিয়েই গড়েছেন ইতিহাস। আমেরিকান ডারা টোরেস, নাতালি কফলিন ও জেনি থম্পসন প্রত্যেকেই ১২টি করে অলিম্পিক পদক জিতেছেন। বৃহস্পতিবার রিলেতে রৌপ্য জিতে এদের সবাইকে টপকে গেলেন লেডেকি। কোনো আমেরিকান নারী লেডেকির চেয়ে বেশি অলিম্পিক পদক জেতেননি। মাইকেল ফেলপস জিতেছেন ২৮টি। এছাড়া আর তিনজন পুরুষ লেডেকির চেয়ে বেশি পদক জিতেছেন।

 

এখানেই শেষ নয়। প্যারিসে আরো একটি ইভেন্ট বাকি লেডেকির। আজ রাতে ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের স্বর্ণ জিতলে তিনি আরেকটি রেকর্ড গড়বেন। সাবেক সোভিয়েত জিমন্যাস্ট লারিসা লাতিনিনার ৯ স্বর্ণপদকের রেকর্ড তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন।  

 

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসেও খেলবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে লেডেকির। যদি সেটি পারেন, তবে এই রেকর্ডটি অনেকদূর নিয়ে যেতে সমর্থ হবেন।