আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ আজ
তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটিও জিততে চেয়েছিল আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগ টেবিলে ১০
পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্যেও। যদি বাংলাদেশকে জিততে দিল না অতিথিরা। আজ চট্টগ্রাম জহুর
আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বল-ব্যাটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ৭ উইকেটের জয় তুলে
নেয় তারা। আগে ব্যাটিং করে ১৯২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে রহমানউল্লাহ
গুরবাজের হার না মানা সেঞ্চুরিতে অতিথি দলটি ৫৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
গুরবাজ ১১০ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ বছর
বয়সী গুরবাজের এটা আট ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এছাড়া রহমত শাহ ৪৭ ও রিয়াজ হাসান
৩৫ রান করে আফগানিস্তানকে জিততে সাহায্য করেন। উদ্বোধনী জুটিতে গুরবাজ ও রিয়াজ
হাসান ৯৩ বলে ৭৯ রান তুলে দেয়ার পর কাজটি সহজ হয়ে যায় আফগানদের জন্য। এরপর দ্বিতীয়
উইকেটে রহমত শাহ ও গুরবাজ বোর্ডে যোগ করেন ১২৩ বলে ১০০ রান।
বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৭ রানে দুটি ও সাকিব আল হাসান ৪৭ রানে
একটি উইকেট নেন।
এর আগে লিটন দাসের লড়াইয়ের পরও বোর্ডে দুশ তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের
ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন এ ম্যাচেও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮৯
রানে আউট হন। এছাড়া সাকিব আল হাসান ৩০ ও মাহমুদউল্লাহ ২৯ রান করেন।
আগের ম্যাচে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেলেও শেষ ম্যাচে অপরিবর্তিত দল নিয়ে
হোয়াইটওয়াশ মিশন নামে তামিম ইকবালবাহিনী। কিন্তু রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবির ঘূর্ণি
বলের সামনে সাবলীল ব্যাটিং করতে পারেনি টাইগাররা।
দেশে-শুনে শুরু করেন
দুই ওপেনার তামিম-লিটন। তামিমকে
ফিরিয়ে ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন ফজলহক ফারুকি। ২৫ বল খেলে ১১ রান করেন তামিম। ওয়ানডে
সিরিজের তিনটি ম্যাচেই ফারুকির শিকার হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর সাকিব ফেরেন ৩৬
বলে ৩০ রান করে। মুশফিকুর রহিম ৭, ইয়াসির আলী ১, আফিফ হোসেন ৫, মেহেদি হাসান
মিরাজ ৬ ও শরিফুল ইসলাম ৭ রানে আউট হন। বিপর্যয়ের মধ্যে একপ্রান্ত আগলে লিটন তুলে
নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি। নবির শিকার হওয়ার আগে ১১৩ বলে ৮৯ রান
করেন তিনি। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইনিংসটি সাজিয়েছেন সাতটি চারের
বাউন্ডারিতে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন ৩০ রান। আফগান
বোলারদের মধ্যে রশিদ তিনটি ও নবি দুটি উইকেট নেন।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানকে জেতানো গুরবাজ হয়েছেন ম্যাচসেরা
খেলোয়াড়।
এবার টি২০ সিরিজে মুখোমুখি হবে দুটি দল। ৩ ও ৫ মার্চ মিরপুর শেরেবাংলা
স্টেডিয়ামে দুটি টি২০ ম্যাচ।










