আগের ম্যাচেই একাদশ থেকে ছিটকে পড়া রোনালদো এবার জবাব দিলেন হ্যাটট্রিক করে। শনিবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার অনবদ্য হ্যাটট্রিকে চড়েই টটেনহামকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দু দুবার ম্যানইউকে লিড এনে দেন রোনালদো। টটেনহামের পক্ষে হ্যারি কেন একটি গোল করেন, ম্যানইউর হ্যারি মাগুইয়ারের আত্মঘাতী গোল একটি পর্যায়ে সমতাও এনে দিয়েছিল ম্যাচে। যদিও ৮১ মিনিটে রোনালদোর হেডের গোলে জয় নিশ্চিত করে ম্যানইউ।

 

হ্যাট্রিটক হিরো রোনালদোর অনুভুতি ঝরেছে এভাবেই, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরার পর প্রথম হ্যাটট্রিক, আমি অনেক অনেক আনন্দিত। দলে ফেরা এবং দলকে জিততে সাহায্য করার চেয়ে আনন্দের অনুভুতি আর হতে পারে না। এটা প্রমাণ করেছি, নিজেদের সেরা দিনে আমরা যেকোনো দলকেই হারাতে পারে। আর ম্যানইউর কোনো সীমা নেই! সামনে এগিয়ে যাও, ডেভিলস!

 

এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে ম্যানইউর হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো। সেবার তার হ্যাটট্রিকে নিউক্যাসলকে ৬-০ গোলে হারায় ম্যানইউ। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস ঘুরে গত বছর তিনি পুনরায় নাম লেখান ম্যানইউতে।

 

বলা হচ্ছে, ফিফা স্বীকৃত খেলায় সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় জোসেফ বাইকানের ৮০৫ গোলের রেকর্ড টপকে গেলেন রোনালদো। যদিও চেক ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, ১৯৩১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত খেলা বাইকান লিগ, কাপ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিলিয়ে গোল করেছেন ৮২১টি। যদিও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক একটি ওয়েবসাইটে তার গোলসংখ্যা ৮০৫ দেখানো হচ্ছে। সেই হিসেবে চেক-অস্ট্রিয়ানের রেকর্ড টপকে গেছেন ৩৭ বছর বয়সী রোনালদো।

 

ম্যানইউর হয়ে ১৩৬, রিয়ালের হয়ে ৪৫০, জুভেন্টাসের হয়ে ১০১, পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১১৫ ও স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে ৫ গোল করেছেন রোনালদো। সব মিলে, পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী খেলোয়াড় গোলসংখ্যা ৮০৭।

 

ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে (৭৫৭) ও রোমারি (৭৭২) এবং রিয়াল মাদ্রিদের হাঙ্গেরিয়ান গ্রেট ফেরেঙ্ক পুসকাস (৭৪৬)—এই তিনজনের গোলসংখ্যা ৭০০। যদিও সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া সুপারস্টার লিওনেল মেসি করেছেন ৭৫৯ গোল, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে ৮০ গোল এবং বার্সেলোনা (৬৭২) ও পিএসজির (সাত) হয়ে করেছেন বাকি গোল। 

 

এটা রোনালদোর ক্যারিয়ারের ৫৯ নম্বর হ্যাটট্রিক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি আর পেলে করেছেন সমান ৫৫টি হ্যাটট্রিক। ফুটবলের রেকর্ডের হিসেব রাখা আরএসএসএসএফের মতে, ১৪১টি হ্যাটট্রিক করেছেন জার্মান কিংবদন্তি এরউইন হেমচেন, যিনি খেলেছেন ১৯২৪ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত। এমনকি ম্যাচে ৮ গোল দুবার, সাত গোল তিনবার এবং ৬ গোল দশবার করেছেন তিনি। আর এক ম্যাচে ৫ গোল করেছেন ১৫ বার!  আরএসএসএসএফের দাবি, ৫৭৮টি অফিশিয়াল ম্যাচে ৯৮৭ গোল করে হেমচেনই ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোরার। তাদের হিসেবে বাইকানের গোল ৯৫০, ব্রিটেনের রনি রুকের ৯২৯ ও রোনালদোর ৮২৫ গোল। 

 

ম্যানইউ কোচ রালফ রাংনিক কি কিছুটা লজ্জিত নন? ম্যানচেস্টার ডার্বিতে রোনালদোকে স্কোয়াডেই রাখেননি। ওই ম্যাচে সিটির কাছে ১-৪ গোলে হেরে যায় রেড ডেভিলরা। এটা ভালোভাবে নেননি রোনালদো। অভিমান করে অনুশীলনে বাড়তি পরিশ্রম করেছেন। টটেনহামের বিপক্ষে শুরু থেকে তাকে খেলিয়ে পুরস্কারও পেলেন হাতেনাতে। পর্তুগিজ খেলোয়াড়কে প্রশংসায় ভাসালেন এবার এই কোচ। তার কথায়, আজ, অন্তত আমি আসার পর এটাই ছিল তার সেরা পারফরম্যান্স। বৃহস্পতিবার অনুশীলনে বেশ ভালো করছিল বলেই আমি তাকে শুরুর একাদশে নামিয়েছি। তার ও বাকি দলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। সেই পারে মাঠে ৭০ হাজার দর্শক নিয়ে আসতে।

 

রোনালদোর এই পারফরম্যান্সে ভর করে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মঙ্গলবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে করে মনস্তাত্ত্বিকভাবে অনেকখানি এগিয়ে গেল রেড ডেভিলরা। প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র করেছে রাংনিকের দল। ম্যানইউ কোচকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবেন রোনালদো।

বিবিসি ও স্পোর্টিং নিউজ