শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ১৬০ বলে ১০৭ রান করে ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশের ফারজানা হক। নারীদের ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। ইতিহাস গড়া ফারজানা স্বীকার করেছেন, দেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের তারকা মুশফিকুর রহিম কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে তিনি অনুপ্রেরণা খুঁজেছেন।

 

সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৩ নম্বরে ব্যাট করলেও তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে তিনি ওপেনিং করতে নামেন ফারজানা। আর এই ম্যাচেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ইতিহাস গড়েন ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার।

 

ফারজানা জানান, নব্বইয়ের ঘরে থাকার সময় তিনি কিছুটা নার্ভাস ছিলেন এবং তখন অনুপ্রেরণা খুঁজেছেন মুশফিকুর রহিম ও তরুণ ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে, যারা সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময় সাহসী শট খেলেন। তার কথায়, ‘এই পর্যায়ে আমি সেঞ্চুরি করিনি। কিন্তু মানুষকে দেখেছি সেঞ্চুরি করতে। আমি দেখেছি মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) ভাই সেঞ্চুরি করেছেন। নাজমুল হোসেন শান্তকে সম্প্রতি দেখেছি দুটি সেঞ্চুরি করতে। উইকেটে তারা কীভাবে টিকে থাকে, সেটি আমি দেখেছি।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে সেঞ্চুরি করার কথা আমি ভাবিনি, কিন্তু চেয়েছি মেধা অনুযায়ী প্রতিটি বল খেলে যেতে। যখন আমি ৯৬ রানে পৌঁছি, তখন খানিকটা ভীত হয়ে পড়ি। আমি কয়েকটি ডেলিভারি খেলে ফেলি। তখন নিজে নিজে বলি, ভালো ব্যাটার হতে চাইলে আমাকে শেষ পর্যন্ত খেলে যেতে হবে। আগের ম্যাচে যখন ৪৭ রানে আউট হই, তখন আমার বন্ধুরা হতাশ হয়েছে। আমি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছিলাম, যা আমাকে বড় স্কোর পেতে সাহায্য করেছে।’


 

ম্যাচ শেষে ফারজানাসহ গোটা দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিজের ফল নিয়ে খুশি। যদিও সিরিজ জিততে পারলে আমাদের আরো বেশি আনন্দ হতো। আমি মনে করি আমরা সামনের দিকে সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেক মানুষ জানেই না, বাংলাদেশ দলে কে কে খেলে। এখন তারা চিনবে, কে নাহিদা (আক্তার), কে পিংকি (ফারজানা হক) কিংবা কে মারুফা (আক্তার)।’