গত সপ্তাহে লিভারপুলের বিপক্ষে কমিউনিটি শিল্ড ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই সাদামাটা। তাতে হয়তো লিগে ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিপক্ষ দলগুলোর কর্ণধাররা এক প্রকার বিজয়ের হাসিই হেসেছেন! কেননা এ মৌসুমে কে কার চেয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে, কিংবা কার তাবুতে তারকা খেলোয়াড়ের সন্নিবেশ, সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। তারা হয়তো ভাবছিলেন বিস্ফোরক, শারীরিক শক্তিনির্ভর গোলমেশিন হালান্ড হয়তো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আগের সেই ছন্দ খুঁজে পাবে না। কিন্তু তাদের ভুল প্রমাণ করলেন এই নরওয়েজিয়ান। রোববার রাতে তার জোড়া গোলে ভর করে ওয়েস্ট হামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি।

 

ইলকে গুন্দোয়ানের পাস থেকে ৩৬ মিনিটে গোল করে ম্যানসিটিকে এগিয়ে দেন হাল্যান্ড। ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। এবার গোল করেন পেনাল্টি থেকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে তার বদলি হিসেবে নামানো হয় জুলিয়ান আলভারেজকে। এর আগেই তিনি সিটির জয় নিশ্চিত করে ফেলেন। এর মধ্য দিয়ে লিভারপুলের সঙ্গে লড়াইয়ে নতুন আশার সঞ্চার হলো ইতিহাদে।

 

উল্লেখ্য, সার্জিও আগুয়েরো ২০১১ সালে অভিষেকেই জোড়া গোল করেছিলেন। তার পরে এই প্রথম সিটির জার্সিতে অভিষেকে জোড়া গোল করলেন কোনো খেলোয়াড়।

 

হালান্ডের গোল স্কোরিং সামর্থ্য সবারই জানা। তবে ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলার এই খেলোয়াড়টির ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে করতে চান না। তার কথায়, গোটা টিমই অবিশ্বাস্য খেলেছে, কিন্তু প্রথম দুই গোল আর্লিংয়ের জন্য ভালো এবং আমাদের জন্যও ভালো। সে আমাদের জন্য একটি অস্ত্র, কিন্তু অবশ্যই সে একা আমাদের সব সমস্যার সমাধান করে দেবে না। সে আমাদের দলে শক্তি যোগ করবে। কিন্তু আমরা যদি শুধুই তার ওপর নির্ভর করি, তখন সে ভুল করবে।

 

গার্দিওলা আরো বলেন, এক সপ্তাহ আগে (কমিউনিটি শিল্ড) সে প্রিমিয়ার লিগে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি, কিন্তু এখন সে দুই গোল পেল। আমি তাকে নিয়ে অনেক খুশি। দুই গোল, বিতর্কেরও শেষ হলো। সে সলজবুর্গে গোল পেয়েছে, ডর্টমুন্ডে পেয়েছে, কাজেই আশাকরি সে এখানেও পাবে। ছেলেটা সিটিতে এসেছে পাঁচ বছরের জন্য, আশাকরি সে আরো বেশিদিন এখানে থাকবে। সে আমাদের জন্য ও দলের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। সে শুধু গোলই করে যাবে তা নয়, একজন টিম প্লেয়ার হয়ে উঠবে বলে আমি আশাকরি।

 

হালান্ডকে উত্সাহ দিয়ে বার্সেলোনার সাবেক এই কোচ আরো বলেন, লিওনেল মেসির সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। যখন সে দুই গোল করতো, তখন তিনটি করতে চাইতো এবং যখন তিনটি হতো তখন চারটি করতে চাইতো। সব বড় খেলোয়াড়ই একই ধাঁচের। তারা কখনই আত্মতুষ্টিতে ভোগে না, সব সময় গোল ও জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত থাকে, আরো চায়।

 

হালান্ড নৈপুন্যে সিটি জিতলেও নতুন মৌসুমে লিগে প্রথম ম্যাচেই হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে তারা ১-২ গোলে হেরেছে ব্রাইটনের কাছে। তিনটি গোলই করেছে ব্রাইটন! অর্থ্যাত্, ম্যানইউর গোলটি আত্মঘাতী। ম্যানইউর সঙ্গে এর আগের ৯ দেখায় মাত্র একবার ড্র করতে সমর্থ হয় ব্রাইটন। এবারের জয়টি তাই ঐতিহাসিক। ম্যানইউর কোচ হিসেবে হারে যাত্রা হলো এরিক টেন হাগের।