প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব পেল বাংলাদেশ।
নেপালের কাঠমান্ডুতে আজ ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে স্বাগতিকদের ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা
জিতে নিল লাল-সুবজ জার্সিধারীরা।
উল্লেখ্য,
ছেলেদের সাফ
চ্যাম্পিয়নশিপে ১৪ আসরে বাংলাদেশ একবার শিরোপা জিততে পেরেছে। ২০০৩ সালে ঢাকায়
অনুষ্ঠিত সেই শিরোপা জয়ের পর দেশে বড় কোনো শিরোপা উত্সব হয়নি। এবার মেয়েদের
কল্যাণে ঘুচল দীর্ঘ আক্ষেপ।
ভারতের দাপটে সাফে আগের পাঁচ আসরে অন্য কেউ শিরোপা জিততে পারেনি, পাঁচবারই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবার
ফাইনালের আগে বিদায় নিয়েছে ভারত। এই সুযোগে নারী সাফ পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন। আসরের
শুরু থেকেই দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলে চলা বাংলাদেশের নারীদের মাথায়ই উঠল মুকুট।
দ্বিতীয়বারের মতো সাফ ফাইনাল খেলে শিরোপার নাগাল পেল গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। আর
নেপাল পঞ্চমবারের মতো ফাইনাল খেলেও শিরোপার দেখা পেল না। আগে চার ফাইনালে ভারতের
কাছে ও এবার বাংলাদেশের কাছে হারল তারা।
দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের ১৪ মিনিটে শামসুন্নাহারের গোলে
লিড নেয় বাংলাদেশ। অথচ এর মাত্র দুই মিনিট আগেই তিনি সিরাত জাহান স্বপ্নার বদলি
হিসেবে মাঠে নামেন। মনিকা চাকমার বাড়ানো বলে দারুণ ফ্লিকে গোল করেন ‘সুপার সাব’ শামসুন্নাহার। ৪২ মিনিটে কৃষ্ণা রানী
সরকার ব্যবধান ২-০ করেন। সাবিনা খাতুনের পাসে বক্সের ভেতর থেকে নেয়া শটে গোল করেন
বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা কৃষ্ণা। তার এই গোলের পর স্তব্ধ হয় যায় স্বাগতিক
শিবির।
দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল পরিশোধ করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে স্বাগতিকরা। ৭০
মিনিটে গোল করেন আনিতা বাসনেত। এরপর তারা বাংলাদেশের গোলমুখে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে
খেলতে থাকে। যদিও বাংলাদেশের রক্ষণ আর গোলকিপার মিলে এই আক্রমণ সামাল দিতে থাকেন।
এরই মধ্যে কৃষ্ণার কল্যাণে তৃতীয় গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশ (৩-১)। সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
হয়ে যায়। এরপর প্রাণান্ত চেষ্টায়ও আর গোল করতে পারেনি গোরখালি মেয়েরা।
২০১৬ সালে শিলিগুঁড়ি আসরে প্রথমবার ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। যদিও
স্বাগতিক ভারতের শক্তি,
সামর্থ্যের
সঙ্গে পেরে ওঠেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ১-৩ গোলে হেরে
হূদয় ভাঙে সাবিনা খাতুন,
সিরাত জাহান
স্বপ্নাদের। তখনকার কিশোরী স্বপ্না, কৃষ্ণা রানী,
মারিয়া মান্দা, সানজিদারা আজ অনেক পরিণত। মাঝের এই
সময়ে অনেক উন্নতিও করেছে ছোটনের দল। চলতি আসরে মালদ্বীপ, পাকিস্তান, ভারত ও ভুটানকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে
ফাইনালে নাম লিখিয়েছেন সাবিনারা। এবার সাফ জয়ের স্বপ্নও পূরণ করলেন বাংলাদেশের
তরুণরীরা।










