আসন্ন ঈদযাত্রায় ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করে যাত্রীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। বেশিরভাগ রেলপথ সিঙ্গেল লাইন ও গরম আবহাওয়ার কারণে ট্রেনের গতি কম রাখার কারণে ঈদের সময় ট্রেনের সময়সূচিতে হেরফের হওয়ার আশঙ্কা করছেন মন্ত্রী।

আজ রোববার (১৬ এপ্রিল) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে এমন আশঙ্কার কথা জানান তিনি। রেলমন্ত্রী বলেন, আমাদের বেশিরভাগই সিঙ্গেল লাইন, কোনো একটি ট্রেনের ১০ মিনিট বিলম্ব হলে অনেকগুলো ট্রেনকে বিলম্বের মুখে পড়তে হয়, তাছাড়া এখনকার আবহাওয়ায় তাপমাত্রা অনেক বেশি তাই ট্রেনের গতি কম রাখতে হচ্ছে। কাজেই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যাত্রী সাধারণকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

টিকিটবিহীন কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না জানিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, স্টেশনগুলোতে আমরা এক্সেস কন্ট্রোল করেছি কাজেই টিকেটবিহীন যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না। অতীতে বিভিন্ন সময় যাত্রীদের চাপের কারণে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো এবার আমরা সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। কমলাপুর, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর স্টেশনে অস্থায়ী বাঁশের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে যাতে যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে টিকেট দেখিয়ে ঢুকতে পারে এবং টিকেটবিহীন কোনো যাত্রী ঢোকার সুযোগ না পায়।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এ সময় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য এবং গ্রামের বাড়িতে ঈদ কাটানোর উদ্দেশে কয়েক লক্ষ মানুষ আসা-যাওয়া করে। ঈদের সময় যাত্রীদের আসা-যাওয়ার প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। এই চাপ সামলাতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করি। একমাস আগেই আমরা গণমাধ্যমকে আমাদের পরিকল্পনা আমরা জানিয়ে দিয়েছি।

এ সময় মন্ত্রী আরো জানান, ১৭ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনসমূহের ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রা বিরতি থাকবে না।

কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনের সময় অন্যদের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপারেশন সরদার শাহাদত আলীসহ আরো অনেকে।