বার্সেলোনার জার্সির স্পন্সরশিপ পেতে মরিয়া পুমা। তারা নাইকির কাছ থেকে চুক্তিটি ছিনিয়ে নিতে চায়। নাইকির সঙ্গে বার্সার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। ২০১৬ সাল থেকে বার্সার জার্সির স্পন্সর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে নাইকি। যদিও আমেরিকান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কাতালানরা। বর্তমান খারাপ আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা জার্সি স্পন্সর খাত থেকে আরো বেশি সুবিধা চায়, যা পূরণে আগ্রহ প্রকাশ করেনি নাইকি। ফলে তাদের বিকল্প খুঁজছে ক্লাবটি। এ সুযোগই নিতে চায় জার্মান অ্যাপারেল কোম্পানি পুমা। তারা বার্সা কর্মকর্তাদের রাজি করাতে আকর্ষণীয় প্রস্তাব নিয়ে হাজির হচ্ছে।

সম্প্রতি পুমার প্রস্তাবের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। তাদের খবরে বলা হয়, বার্সাকে রাজি করাতে সাইনিং বোনাস দিতেও রাজি আছে পুমা। বার্সাকে সাইনিং বোনাস হিসেবে ১০ কোটি ইউরো দিতে চায় পুমা। সেই সঙ্গে বার্সার দীর্ঘ অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার অঙ্গীকারও করছে কোম্পানিটি।

নাইকির চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি অর্থের প্রস্তাব করছে পুমা। তারা বছরে দিতে চায় ১২ কোটি ইউরো। অথচ নাইকি দেয় বছরে ৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর মতো। আমেরিকান কোম্পানিটি এর বাইরে বোনাস হিসেবে দেয় আরো ২ কোটি ইউরো। যদিও সেই বোনাসের বিষয়টি বেশ জটিল এবং অনেক শর্ত যুক্ত থাকে। যেমন পারফরম্যান্স বোনাসের ক্ষেত্রে পারফর্ম করতে হবে এবং শিরোপা জয়ের বাধ্যবাধকতা থাকে। 

বার্সাইউনিভার্সাল ডটকমের খবরে বলা হচ্ছে, নাইকির কাছ থেকে বার্সার জার্সির মূল স্পন্সরের চুক্তিটা নেয়ার কাছাকাছি রয়েছে পুমা। ক্লাবটিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাছাকাছি। যদিও এখন তারা নাইকির কাছ থেকে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পুরনো ‘বন্ধু’ হিসেবে নাইকি যদি আর্থিক অংক বাড়িয়ে দেয় তবে হয়তো এ যুগলবন্দিটা ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করবে।

তবে নাইকির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পুমার সঙ্গে চুক্তি করতে হলে বার্সেলোনাকে কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এমনকি কিছু রিলিজ ফিও দিতে হতে পারে। নাইকির সঙ্গে বার্সার চুক্তিটা যে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে বার্সার পরিকল্পনা হলো পুমা যে সাইনিং বোনাস দেবে সেটি দিয়ে নাইকির সঙ্গে তাদের আইনি শর্ত পূরণে খরচ করা যাবে।

মাঠে কাতালানদের ভালো সময় যাচ্ছে। নাপোলিকে দুই লেগে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তারা। এ জয় বার্সার ১ কোটি ইউরো ফি প্রাইজমানি নিশ্চিত করেছে। তারা যদি এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে প্রাইজমানি হিসেবে পাবে আরো ৩ কোটি ১০ লাখ ইউরো। সে সঙ্গে টিকিট বিক্রির খাতটি তো রয়েছেই।

স্পোর্টসওয়্যার কোম্পানি পুমার চুক্তি রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, এসি মিলান, বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে। এবার বার্সার মতো আরেক ইউরোপিয়ান হেভিওয়েট ফুটবল ক্লাবকেও নিজেদের পরিবারে যুক্ত করতে পারে তারা। 

বার্সা বর্তমান সংকট কাটিয়ে আবার ফিরতে চায় স্বরূপে, হতে চায় ইউরোপের পরাশক্তি। লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তারা ইউরোপ শাসন করেছেন, ঠিক তেমনই আবার হয়ে উঠতে চায় কাতালান দলটি। এ কারণেই আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি। 

তবে যেকোনোভাবে আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে চায় না তারা। তাই তো তরুণ তুর্কি লামিন জামালের জন্য পিএসজির ২০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে আগামী গ্রীষ্মেই পিএসজি ছেড়ে যাবেন বলে গুঞ্জন চরমে। এমন অবস্থায় ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে ১৬ বছর বয়সী জামালকে দলভুক্ত করতে চায় পিএসজি। এদিকে বার্সাও খেলোয়াড়টির মাঝে ভবিষ্যতেই সুপারস্টারের দেখা পেয়েছে। আরাউহো, গাভি, পেদ্রি ও জামালকে নিয়ে ক্লাবের গৌরব ফেরাতে মরিয়া বর্তমান ম্যানেজমেন্ট। তাই তাকে ধরে রাখতে মরিয়া লা লিগা জায়ান্টরা। 

ইউরোপের ফুটবলে অবশ্য শেষ বলে কিছু নেই। ২০১৭ সালে দুনিয়া কাঁপানো দলবদলে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে ছিনিয়ে নিয়েছিল পিএসজি। বার্সা তাকে ছাড়তে চায়নি বলে রিলিজ ক্লজের ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো পরিশোধ করে নেইমারকে দলে টানে ফরাসি জায়ান্টরা। জামালের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

তবে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেটি নিশ্চিত করতে জামালের রিলিজ ক্লজ ১০০ কোটি ইউরো করে রেখেছে বার্সেলোনা। দলবদলের বিশ্বরেকর্ডই যেখানে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো সেখানে ১০০ কোটি ইউরো দিয়ে কি পিএসজি তাকে কিনতে যাবে? নিশ্চয়ই না। আপাতত এ কৌশলে ভবিষ্যতের সুপারস্টারকে আগলে রাখতে চাইছে কাতালানরা। আর যদি তারা অর্থের কাছে হার মানে, তাহলে হয়তো পিএসজির সঙ্গে দরকষাকষিতে যাবে। 

বার্সা একাডেমি লা-মেসিয়ার ছাত্র জামাল। সম্প্রতি ইউরোপের ফুটবলে তার ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব। বিশেষ করে মায়োর্কার বিপক্ষে তার মোহনীয় গোল, নিয়মিত মূল একাদশে জায়গা করে নেয়া, প্রতিটি ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করা—সবকিছু মিলিয়ে তিনি বার্সার ভবিষ্যৎ বলেই ধরে নিচ্ছে সবাই।

এদিকে এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে যে আটটি দল উঠেছে তার চারটি দলেরই কোচ বার্সার সাবেক ছাত্র। বার্সা একাডেমি থেকে উঠে গিয়ে এখন তারা ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাবগুলোর কোচ। ম্যানসিটির পেপ গার্দিওলা, বার্সেলোনার জাভি হার্নান্দেজ, আর্সেনালের মিকেল আরতেতা ও পিএসজির লুই এনরিকে। কাকতালীয় হলেও সত্যি, এনরিকে, গার্দিওলা ও জাভি তিনজনই একটি সময় বার্সার মূল একাদশে খেলেছেন একসঙ্গে। যদিও আরতেতা বার্সার ‘বি’ টিমের সদস্য ছিলেন এবং কখনো সিনিয়র টিমে খেলেননি। 

এ চারজনের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান পেপ গার্দিওলা। তিনি বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টারের কোচ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ইউরোপের তিনটি ক্লাবের হয়েই তিনি সাফল্য পেয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন বার্সেলোনা ও সিটির হয়ে। আর বায়ার্নের হয়ে একাধিক লিগ শিরোপা জিতেছেন। 

ফোর্বস, মার্কা ও বার্সাইউনিভার্সাল ডটকম