ইনিংসের শেষ ওভারে বাংলাদেশের
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বল তুলে দিয়েছিলেন ফাহিমা খাতুনের হাতে। এক ওভারেই তিনি
দিলেন ২৯ রান! ৪ ছয় আর ১ চারে ২৮ রান নিয়েছেন নয় নম্বরে নামা অ্যালানা কিং। তাতেই অজি
নারীদের স্কোর ১৪৬/৭ থেকে শেষ পর্যন্ত ২১৩/৭। স্বাগতিক বাংলাদেশের সামনে জয়ের টার্গেট
দাঁড়িয়েছে ২১৪ রান।
তবে ম্যাচের শুরুতে ৫০
রানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অজি
মেয়েরা। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের দারুণ এক ফিফটি, সঙ্গে অ্যাশলি গার্ডনারের ত্রিশ
পেরুনো ইনিংসে ভর করে শেষদিকে রানের চাকা ঠিকই ঘুরিয়েছে সফরকারীরা। আর সেই সঙ্গে অধিনায়ক
অ্যালিসা হিলির ২৪ এবং বেথ মুনির ২৫ রানের দুই ইনিংস অজিদের দিয়েছে চ্যালেঞ্জিং এক
স্কোর।
প্রথম ওভারেই পেস বোলার
মারুফা আক্তার আভাস দিয়েছিলেন এই পিচে সুইং থাকবে। আর দ্বিতীয় ওভারে সুলতানা খাতুন
দিলেন পূর্ণতা। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। অধিনায়ককে সমর্থন দিতেই যেন নিজের প্রথম বলেই সুলতানা
পেলেন উইকেটের দেখা।
ইনফর্ম ফোবে লিচফিল্ডকে
দারুণ সুইংয়ে বোকা বানান সুলতানা। গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। অভিজ্ঞ
এলিস পেরি থিতু হতে চেয়েছিলেন। ১০ বলে ২ রান করে তাকেও ফেরান সুলতানা। রাবেয়া খানের
হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
ক্রিজে থেকে রানের গতি
বাড়াচ্ছিলেন হিলি। সবাই যখন থিতু হতেই সময় নিয়েছেন, তখন শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন
হিলি। ৩৯ বলে ২৪ রান করে ভয় ছড়াচ্ছিলেন তিনিই। তবে তাকে আর বড় হতে দেননি মারুফা। এদিন
শুরু থেকেই সুইং পাচ্ছিলেন এই পেসার। অজি অধিনায়ক হিলিকে ফিরিয়েছেন তিনিই। উইকেটের
পেছনে জ্যোতিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হিলি।
সহ-অধিানয়ক নাহিদা আক্তার
আক্রমণে এসে ফেরান তালিয়া ম্যাকগ্রাকে। দারুণ এক সুইংয়ের ফলে পরাস্ত এই ব্যাটার। লেগবিফোরে
ফিরতে হয় সময়ের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়কে। এরপরেই অবশ্য গার্ডনারকে নিয়ে বড় জুটি গড়েন
অভিজ্ঞ মুনি। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার অবশ্য খেলেছেন ধীরগতির এক ইনিংস। খানিক সময় নিয়ে
আক্রমণাত্মক হতে চেয়েছিলেন। তবে সেখানেও বাধা হয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ফাহিমার বলে
উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে গার্ডনারের সঙ্গে গড়েছেন ৩০ রানের জুটি।
৭৮ রানে ৫ উইকেটের পতন
থেকে অজিদের ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। গার্ডনার ও জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম দুজনের সঙ্গেই ৩৪ রানের
জুটি গড়েছেন অ্যানাবেল। গার্ডনার ৩২ করে ফেরেন নাহিদার বলে। স্ট্যাম্পিংয়ে তাকে ফেরান
জ্যোতি। আর ওয়্যারহ্যাম ফিরেছেন স্বর্ণার বলে। স্লিপে চোখে পড়ার মতো ক্যাচ নিয়েছিলেন
রাবেয়া।
সাদারল্যান্ড ৭৬ বলে ৫৮
ও অ্যালানা ৩১ বলে ৪৬ রান করেন। ৫৬ বলে ৬৭ রানের দুর্দান্ত এক পার্টনারশিপ গড়ে বাংলাদেশের
কাজটা কঠিনই করে দিলেন এ দুজন। বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদা ও সুলতানা ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।
মারুফা, ফাহিমা ও স্বর্ণা নেন একটি কর উইকেট।










