লেবরন জেমসের ডাক নাম ‘কিং জেমস’। তো রাজা রয়েছেন রাজার আসনেই। বুধবার ওকলাহোমা সিটি থান্ডারকে ১৩৩-১৩০ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে জেমসের লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স, যে ম্যাচে তার স্কোর ৩৮ পয়েন্ট। এর মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি করিম আব্দুল-জব্বারের ৩৮ হাজার ৩৮৭ পয়েন্টের ৩৯ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ফেলেন জেমস। পারফরম্যান্সের মতো আয়েও তিনি রাজা। এনবিএর ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডও তার দখলে।
এখন পর্যন্ত ৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক নিয়ে তিনিই লিগটির ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয়কারী খেলোয়াড়। এরপর রয়েছেন ক্রিস পল (৩৫ কোটি ৯১ লাখ), কেভিন ডুরান্ট (৩৪ কোটি ৯১ লাখ), রাসেল ওয়েস্টব্রুক (৩৩ কোটি ৫৬ লাখ) ও কেভিন গারনেট (৩৩ কোটি ৩৪ লাখ)।
লেবরন জেমস: (৪৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার)
চারবারের এনবিএ চ্যাম্পিয়ন জেমসের ক্যারিয়ারের ২০তম মৌসুম চলছে। ২০০৩ সালে হোমটাউনের ক্লাব ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়র্সে অভিষেক। ২০১০ সালে যোগ দেন মায়ামি হিটে। মায়ামিতে দুটি লিগ শিরোপা জয়ের পর ফের যোগ দেন ক্লিভল্যান্ডে, যাদের শিরোপা এনে দেন ২০১৬ সালে। ২০১৮ সাল থেকে তিনি গায়ে তুলছেন লেকার্সের জার্সি। এ দলটিকে ২০২০ সালে শিরোপা এনে দিতে রাখেন অগ্রণী ভূমিকা। সেবার চতুর্থবারের মতো জিতে নেন এনবিএর সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের পুরস্কার। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী এ পাওয়ার ফরোয়ার্ড নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন এনবিএর রেকর্ড বুকে।
জেমস চারবার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ১০ বার এনবিএর ফাইনাল খেলেছেন। তিনি দুবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নও।
এনবিএর ইতিহাসে তিনি অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, ক্লাবের সঙ্গে লম্বা সময়ের চুক্তিও তাই পেয়েছেন তিনি, যা এ খেলোয়াড়টিকে দিয়েছে কোটি কোটি ডলার। ক্লিভল্যান্ড, মায়ামি হিট ও লেকার্সের জার্সিতে খেলে তিনি সহজেই অন্য সবার চেয়ে বেশি আয় করেন। এখানেই শেষ নয়। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি এখনো লিগটির অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং সেটি পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করে দিচ্ছেন।
ক্রিস পল (৩৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার)
লেবরন জেমসের মতো ক্রিস পলও একাধিক ক্লাবে খেলেছেন এবং কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয় করেছেন। তিনি যেখানেই গেছেন, সেখানেই উচ্চ পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এটাই তাকে প্রায় ৩৬ কোটি ডলার পারিশ্রমিক এনে দিয়েছে।
কেভিন ডুরান্ট: (৩৪ লাখ ৯১ হাজার ডলার)
ব্রুকলিন নেটসের ৩৪ বছর বয়সী স্মল ফরোয়ার্ড ও পাওয়ার ফরোয়ার্ড ডুরান্ট ক্যারিয়ারজুড়ে ৩৪ কোটি ৯১ লাখ ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবের কাছ থেকে। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন সিয়াটল সুপারসনিকস ও ওকলাহোমা সিটি থান্ডারে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খেলেছেন গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সে এবং বর্তমানে ব্রুকলিন নেটসের হয়ে।
রাসেল ওয়েস্টব্রুক (৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার)
লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সে জেমসের সতীর্থ হিসেবে খেলা পয়েন্ট গার্ড রাসেল ওয়েস্টব্রুক ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার আয় করে তালিকার চারে অবস্থান করছেন। এর আগে তিনি ওকলাহোমা সিটি থান্ডার, হিউস্টন রকেটস ও ওয়াশিংটন উইজার্ডে খেলেছেন। ওকলাহোমায় ডুরান্টের সাবেক এ সতীর্থ একটানা সাত মৌসুম বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে উচ্চ পারিশ্রমিক পেয়েছেন। তাকে তিনবার বিক্রি করেছে আগের ক্লাবগুলো। কিন্তু এতে তার পারিশ্রমিক কমেনি, বরং তিনি আগের চেয়ে বেশিই পেয়ে এসেছেন।
কেভিন গারনেট (৩৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার)
১৯৯৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মিনেসোটা টিম্বারউলভস, বোস্টন সেল্টিকস, ব্রুকলিন নেটসের হয়ে খেলে ৩৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন সাবেক পাওয়ার ফরোয়ার্ড কেভিন গারনেট। তিনি মোট ২১ মৌসুম খেলেছেন। তিনি অল্প ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন লেকার্স গ্রেট ও প্রয়াত কোবি ব্রায়ান্টকে।
যদিও একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সবচেয়ে বেশি আয়ের রেকর্ডটা ধরে রেখেছেন ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ব্রায়ান্ট। তিনি লেকার্স থেকে আয় করেন ৩২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। ১৯৯৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই তিনি খেলেছেন।
এছাড়া গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্স থেকে স্টিফেন কারি ৩০ কোটি ২৮ লাখ ডলার, ডালার মেভারিকস থেকে ডির্ক নোভিৎস্কি ২৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার, স্যান আন্তোনিও স্পার্সের হয়ে টিম ডানকান ২৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ও পোর্টল্যান্ড ট্রেইল ব্লেজার্সের হয়ে ড্যামিয়ান লিলার্ড ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছেন। অপ্টা অ্যানালিস্ট।










