জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা ‘ছায়া দল’ গঠনের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিষয়টি নিয়ে এত দিন ধরে গুঞ্জনই শুধু চলছিল। অবশেষে বিসিবির বিশেষ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে এই বাংলাদেশ টাইগার্সের জন্য প্রথম স্কোয়াডও ঘোষণা করলেন বিসিবির কর্মকর্তারা।

আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওই সফর সামনে রেখে ২৩ জনের বেঙ্গল টাইগার্স স্কোয়াড ঘোষণা করা হলো, যাতে বাংলাদেশ টেস্ট দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে আছেন সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে (বিপিএল, জাতীয় লিগ, বিসিএল) ভালো করা ক্রিকেটাররাও। এছাড়া আছেন জাতীয় দলের আশপাশে থাকা কিছু ক্রিকেটার। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে এ ২৩ ক্রিকেটারকে নিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ টাইগার্সের কার্যক্রম। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে বাংলাদেশ টাইগার্সের প্রথম ক্যাম্প।

বগুড়ায় বাংলাদেশ টাইগার্সের প্রস্তুতি ক্যাম্পটি পরিচালনা করবেন বিসিবির কোচ মিজানুর রহমান। ব্যাটিং কোচ হিসেবে থাকবেন জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ। বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার নাজমুল হাসান। ক্যাম্পে বিদেশী বিশেষজ্ঞ কোচ হিসেবে থাকবেন  শ্রীলংকার চম্পকা রামানায়েকে। এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টাইগার্সের প্রধান কাজী ইনাম আহমেদ।

প্রশ্ন জাগতেই পারে, বাংলাদেশ টাইগার্সের কাজ কী? এই স্কোয়াড গড়া হয়েছে কিন্তু কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কথা মাথায় রেখে নয়। বাংলাদেশ টাইগার্সের কার্যক্রম চলবে সারা বছর ধরে। আগামী ১৫ মার্চ শুরু হবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এরপর মে মাস থেকে বাংলাদেশ টাইগার্সের নতুন দল ঘোষণা করে প্রস্তুতি ক্যাম্প আয়োজনের কথা জানান কাজী ইনাম আহমেদ।

বাংলাদেশ টাইগার্সের হেড কাজী ইনাম আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বললেন, প্রোগ্রামটি সারা বছর ধরেই চলবে। আপাতত আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনের কথা ভেবে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুলের পরামর্শে বগুড়াকে ক্যাম্পের ভেনু হিসেবে বেছে নিয়েছি। পরে প্রিমিয়ার লিগ শেষ হলে মে মাস থেকে অফ সিজনে আমাদের কাজ চলবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ টাইগার্সের সঙ্গে বাংলাদেশ ‘এ’ দল কিংবা হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের কার্যক্রম সাংঘর্ষিক হবে না। কাজী ইনাম আহমেদ বলেছেন, আমাদের এ দলটায় এইচপির ক্রিকেটার নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি যারা ভালো করেছেন, তারাই আছেন। আর ‘এ’ দলের সঙ্গে টাইগার্সের কোনো সম্পর্ক নেই।

সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস যেমন আছেন এই ক্যাম্পে, তেমনি ডাক পেয়েছেন তরুণ পেস বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। সৈকত আলী, নাহিদুল ইসলাম, জাকির হাসান, মেহেদী হাসান রানার মতো সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাররা এই স্কোয়াডে রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় দলের আশপাশে থাকা এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আবু হায়দার রনিও রয়েছেন ক্যাম্পে। সৌম্য সরকারও আছেন ক্যাম্পে।

তরুণদের মধ্যে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে গেলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট শিকার করে এবারের বিপিএলে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন এই পেস বোলার। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলা সাতক্ষীরার এই বোলার একটি হ্যাটট্রিকও করেছেন। স্কোয়াডে থাকা কুমিল্লার স্পিনার নাহিদুল ইসলাম ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। প্লে-অফে জায়গা না পাওয়া খুলনা টাইগার্সের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি ৭ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। স্কোয়াডে থাকা আরেক পেসার খুলনার পেসার খালেদ আহমেদ নিয়েছেন ১০ উইকেট।

সৈকত আলী, জাকির হাসান ও মেহেদী হাসান রানাদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতেই বাংলাদেশ টাইগার্সে যুক্ত করা হয়েছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে নিজেদের ঝালিয়ে নেবেন মুমিনুল, সাইফ হাসান, সাদমান ইসলামরা।