নিজেদের দূর্গে ওয়ানডেতে গত কয়েক বছরে সমীহ জাগানো কিছু সাফল্য থাকলেও এবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সঙ্গে পেরে উঠল না বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টানা দুই ম্যাচে হেরে বসল তামিম ইকবাল বাহিনী। তাতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০তে সিরিজ জয় নিশ্চিত হলো জস বাটলারের দলের। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পর এই প্রথম দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হারল টাইগাররা। সর্বশেষ হারও এসেছিল এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। মাঝে সাতটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল।
ইংলিশ ব্যাটারদের দুর্দান্ত প্রদর্শনীর পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপন গুঁড়িয়ে দেন পেসার স্যাম কামার আর স্পিনার আদিল রশিদ। দুজনই নেন সমান চারটি করে উইকেট। ৩২৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে ১৯৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
প্রথম ওয়ানডেতে ডেভিড মালানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জেসন রয়। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে অতিথিরা। ১২৪ বলে ১৩২ রান করে তিনি সাকিব আল হাসানের শিকার হন।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ইংলিশদের ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ দলনায়ক তামিম ইকবাল। সপ্তম ওভারে তাসকিন আহমেদের কল্যাণে প্রথম সাফল্য পায় স্বাগতিকরা। ফিল সল্টকে স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি (২৫/১)। প্রথম উইকেট পতনের পর মারমুখী খেলতে থাকেন রয় ও মালান। ১৬তম ওভারে মালানকে (১১) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। যদিও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই ৫৪ বলে ৫৮ রান যোগ করেন দুজন।
পরের জুটিটা অবশ্য বড় হতে দেননি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। জেমস ভিন্সকে ব্যক্তিগত ৫ রানে আউট করেন তিনি (৯৬/৩)। তাইজুলের বলে আউটসাইড এজ হয়ে তিনি ক্যাচ দেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমকে। এরপর অধিনায়ক জস বাটলারকে নিয়ে ৯৩ বলে ১০৯ রানের বড় পার্টনারশিপ গড়ে দলের রান দুশ পার করেন রয়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি আউট হয়ে যান। খুব বেশি সময় থাকা হয়নি উইল জ্যাকসেরও। তিনি এক রানের সময় তাসকিনের বলে শর্ট মিডউইকেটে সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে।
এরপর বাটলার (৬৪ বলে ৭৬), মঈন আলী (৩৫ বলে ৪২) ও কারানের (১৯ বলে ৩৩*) তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেয়ে যায় ইংলিশরা। তাসকিন আহমেদ তিনটি ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি উইকেট নেন।
বড় রান তাড়া করতে
নামা বাংলাদেশকে শুরুতেই আহত করেন কারান। তিনি প্রথম ওভারেই লিটন দাস ও ইনফর্ম
নাজমুল হোসেন শান্তকে আউট করেন। পরের ওভারে এসে সাজঘরে ফেরান মুশফিকুর রহিমকেও।
এরপর তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান মিলে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। ২১তম
ওভারে মঈন আলীর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তামিম ইকবাল। এরপর আদিল রশিদের
ঘূর্ণিতে এলোমেলো হয়ে যায় স্বাগতিকদের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। তিনি একে একে তুলে নেন
সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন ও মিরাজকে। তাসকিন হয়েছেন রানআউট। আর একেবারে শেষ
ব্যাটার মুস্তাফিজুর রহমানকে উইকেটের পেছনে বাটলারের ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশকে
অলআউট করেন কারান।
সাকিবের ৬৯ বলে ৫৮
রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।
সোমবার
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশ
সিরিজে হেরে যাওয়া ম্যাচটি এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিল।










