বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে নতুন দিগন্তের ছোঁয়া। এ প্রথমবার বাংলাদেশের কোনো ফুটবল ক্লাব নিজস্ব ভেন্যুতে লিগ ম্যাচের আয়োজন করেছে। ২০০৭ সাল থেকে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শুরু হলেও কোনো ক্লাবেরই নিজস্ব স্টেডিয়াম ছিল না। অবশেষে তা করে দেখিয়েছে নতুন ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। বিকেল ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় স্বাগতিক বসুন্ধরা মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ পুলিশের ফুটবল ক্লাবের। রেফারি আনিসুর রহমান সাগর কিক অফের বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস শুরু হয়। এটাই কিংস অ্যারেনায় প্রথম ম্যাচ।

নিজস্ব ভেন্যুর ইতিহাসের দিন দারুণও খেলাু উপহার দিয়েছে দলটি। বাংলাদেশ পুলিশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে বসেছে বসুন্ধরা। দলের জয়ে জোড়া গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবিনহো এবং একটি গোল করেন এলিটা কিংসলে। এ জয়ে ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্টে দুইয়ে ঢাকা আবাহনী।

আজকের এই ম্যাচকে সামনে রেখে বসুন্ধরা কমপ্লেক্সে ছিল সাজ সাজ রব। চারদিকে তাদের ফুটবলার, কোচের ছবি দিয়ে সজ্জিত। এখনো কমপ্লেক্সটি নির্মিতব্য তবে লিগের ম্যাচ আয়োজনের জন্য যথেষ্ট। ফুটবলে প্রেসবক্স থাকে মাঠের মাঝামাঝি। সাময়িকভাবে এই লিগের জন্য পোস্টের পেছনে প্রেসবক্স করা হয়েছে। সাময়িক হলেও এই বক্সের সুযোগ সুবিধা কমলাপুর স্টেডিয়ামের চেয়ে কম নয়।

গ্যালারিতে কয়েকজন দর্শক ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। এরা অবশ্য প্রায় বসুন্ধরার সাথে সংশ্লিষ্ট। ভিআইপি বক্সে উপস্থিত ছিলেন ফুটবল ফেডারেশন ও বসুন্ধরা কিংসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

নতুন ভেন্যু হলেও পেশাদারিত্বের ছোঁয়া ছিল পরতে পরতে। কমেন্ট্রি বক্স, ড্রেসিং রুম, ডাগ আউট সবই আধুনিকতা ও পেশাদারিত্বের ছোঁয়া। এমনকি প্রেসবক্সে সরবরাহ করা বোতলেও বাণিজ্যিক কোম্পানির স্টিকারের পরিবর্তে কিংসের লোগো। আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো নিরাপত্তা রক্ষী ও ভলান্টিয়াররা ছিলেন সদা দায়িত্বরত। 

কিক অফের জন্য মাঠে বল আনা হয়েছে ছোট গাড়িতে। প্রযুক্তির সাহায্যে সেই গাড়ি ধীরে ধীরে রেফারির কাছে যায়। রেফারি বল তুলে সেন্টারে বসান। তাতে পা ছুঁইয়েই অল্প কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে বসুন্ধরা কিংস।