অষ্টম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বঙ্গবন্ধু বিপিএল ২০২২) ফাইনাল আজ। সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। এর আগে দুবার ভিন্ন নামে ফাইনাল খেললেও কখনো শিরোপা জেতা হয়নি বরিশালের। অনবদ্য ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে এবার ‘প্রথম’ শিরোপার স্বাদ পেতে চায় ফরচুন বরিশাল। অন্যদিকে, কুমিল্লা দুবার ফাইনাল খেলে দুবারই শিরোপা ঘরে তুলতে সমর্থ হয়। আজ তৃতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ ভিক্টোরিয়ানদের সামনে।
বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিপিএল ফাইনালে উঠেছে কুমিল্লা। চট্টগ্রামকে ১৪৮ রানে অলআউট করার পর ৭ উইকেট ও ৪৩ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভিক্টোরিয়ানরা। এর আগে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে বরিশাল।
২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশগ্রহণ করেই মাশরাফির হাত ধরে ট্রফি জিতে নেয় কুমিল্লা। ২০১৯ সালে তারা শিরোপা পায় ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে। এবারো কুমিল্লাকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে তুলে এনেছেন ইমরুল। তার চোখ এবার শিরোপায়।
তৃতীয় ফাইনালেও অপরাজিত থাকা প্রসঙ্গে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ইমরুল বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই ফাইনালে অপরাজিত থাকতে চাই। কুমিল্লা আগে দুবার ফাইনাল খেলেছে, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আশা করি আগামীকালের (আজ) ম্যাচে একই প্রসেসে যাব। আমরা প্রথম কোয়ালিফায়ার যখন হেরে যাই তখন চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু গতকাল (বুধবার) যেভাবে কামব্যাক করেছি তাতে সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। ইনশাআল্লাহ কাল (আজ) ভালো কিছু হবে। একবার চ্যাম্পিয়ন করেছি, যদি আরেকবার করতে পারি, তাহলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব।
কাগজে-কলমে আজ বরিশালই ফেভারিট। ফাইনালের আগে তিনবারের মুখোমুখিতে ২-১-এ এগিয়ে রয়েছে বরিশাল। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা কুমিল্লাকে হারিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে আজ এগিয়ে থেকেই ফাইনাল শুরু করতে পারবে সাকিবের দল।
বরিশালকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে টেনে এনেছেন সাকিব। বল হাতে ১৫ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও অনবদ্য পারফর্ম করেছেন তিনি। টানা পাঁচ ম্যাচে হয়েছেন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’। তার জায়গায় গতকাল ট্রফি প্রদর্শনী ও সংবাদ সম্মেলনে আসা নুরুল হাসান সোহান জানালেন, সাকিব একাই দু-তিনজনের কাজ করে দিচ্ছেন। সোহানের কথায়, সত্যি বলতে সাকিব ভাই খুব ভালো ফর্মে আছেন। একাই তিনি দু-তিনজনের কাজ করে দিচ্ছেন। যেটা আমাদের দলের জন্য দারুণ কাজে লাগছে।
দলকে ফাইনালে নেয়ার পথে ১০ ইনিংসে তিন ফিফটিতে ২৭৭ রান করেছেন সাকিব। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫১। রান করেছেন ১৪৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে। বাঁহাতি স্পিনে ১৩.৬৩ গড়ে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৫.১৩ রান। আসরে সর্বাধিক উইকেট নেয়া ১০ বোলারের মধ্যে কেবল তারই ইকোনমি ছয়ের নিচে।
সাকিবকে নিয়ে কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস বলেন, সাকিব তো বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেছে, ওর অভিজ্ঞতা বেশি। ও মাঠের ভেতরে অনেক ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ থাকে, আমিও চেষ্টা করছি, যেহেতু এটা আমার বিপিএলে তৃতীয়বার অধিনায়কত্ব।
ফটোসেশনে সাকিব না থাকায় একটু হতাশ হলেও ইমরুল জানালেন, ফাইনালে বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে মাঠে দেখতে আশাবাদী তিনি। তার কথায়, সাকিব এলে আরেকটু ভালো লাগত। যেহেতু তার স্বাস্থ্যগত ইস্যু, শুনলাম তার পেটের পীড়া, তাই আসতে পারেনি। অসুবিধা নেই, কালকের (আজ) ম্যাচে তো আমাদের দুজনের দেখা হবে আবার।
এদিকে সাকিবের ‘গুরু’ খ্যাত সালাউদ্দিন জানান, বিপিএল ফাইনালের মূল লড়াইটা হবে সাকিবের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের সঙ্গে। তিনি বলেন, বরিশালের যে শক্তি আছে, সেটা হলো সাকিব। খুব ভালো অধিনায়কত্ব করছে সে এবং তার যতটুকু সম্পদ আছে, সেগুলোর খুব ভালো ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তার বোলিং বিভাগ নিয়ে। চার-পাঁচটি ম্যাচে তারা খুব কম রান ডিফেন্ড করেছে, বোঝাই যায় যে পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে। অনেক সময় ও অনেক ট্রিকস করে, যা ব্যাটসম্যানরা বুঝতে পারে না। সেটা যদি আমরা ওভারকাম করতে পারি, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা থাকবে।
তিনি আরো বলেন, বড় ম্যাচে মাথাটা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ম্যাচে মাথা দিয়ে যত খেলতে পারবেন, ততই এগিয়ে থাকবেন। তাদের যেমন আছে, আমাদেরও অনেক বড় বড় মাথা আছে। আসলে বোঝা যাবে, কালকে (আজ) কারা নার্ভ ধরে রাখতে পারে।










