ইংলিশ ফুটবল ক্লাব চেলসি এফসির মালিকানা বদল হতে যাচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। গুঞ্জন রয়েছে, আইরিশ ইউএফসি তারকা কনোর ম্যাকগ্রেগরকে নিয়েও। যদিও ৩৩ বছর বয়সী এই মিশ্রড মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় বলেছেন, চেলসি কেনার মতো অর্থ তার নেই। সম্প্রতি চেলসি কেনা নিয়ে তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি এ কথা বলেছেন।

 

ইউএফসি খেলে বিপুল অর্থ আয় করেছেন ম্যাকগ্রেগর এবং গত বছর ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করে তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অ্যাথলিট। অতীতে তিনি ফুটবল ক্লাব কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিক আর ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রয়েছে তার পছন্দের তালিকায়।

 

ম্যাকগ্রেগর চেলসির ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখালেও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ কেরিয়ান ম্যাকগায়ারের বিশ্বাস, ইউএফসি সুপারস্টার বিপুল অর্থ আয় করেছেন এবং তিনি সামনের সারির একজন ক্রেতা হিসেবে আবির্ভুত হলেও হতে পারেন। ফুটবল ইনসাইডারকে ম্যাকগায়ার বলেন, কোনো কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ক্রেতা হিসেবে আসতে পারেন ম্যাকগ্রেগর। তার নিজের হয়তো অত বেশি অর্থ নেই, কিন্তু তিনি নিজের ব্র্যান্ডকে কাজে লাগিয়ে ক্লাবটি কেনার মতো অর্থ জড়ো করতে সক্ষম।

 

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি না, তাকে একা সেল্টিক কিংবা অন্য কোনো ফুটবল ক্লাব কেনার পরামর্শ দেয়া হবে। তিনি কোনো গ্রুপের হতে পারেন। কিন্তু যদি এমন কোনো চুক্তি আলোর মুখ দেখে তবে তিনি হবেন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবন্দু।

 

কেউ একজন হোয়াটসআপে মেসেজ লিখেছেন, চেলসি ফর সেল, ৩ বিলিয়ন পাউন্ড, আসো কিনি। এর জবাবেই টুইটারে ম্যাকগ্রেগর লিখেছেন, আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, চেলসি।

 

যদিও ইউএফসির দীর্ঘদিনের ধারাভাষ্যকার জো রোগান গত বছর ম্যাকগ্রেগরের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যাথলিট হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এ সময় তার বেশিরভাগ আয়ই এসেছে হুইস্কি ব্র্যান্ড থেকে।

 

গত বছর ফোর্বসের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন ম্যাকগ্রেগর। যদিও জানুয়ারিতে ‘ইউএফসি ২৫৭’ লড়াইয়ে ডাস্টিন পোইরিয়ারের কাছে হেরে তিনি ২২ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পেরেছেন। এরপরও  এত আয়ের নেপথ্যে তার হুইস্কি ব্র্যান্ড ‘প্রোপার টুয়েলভ’। এই কোম্পানির একটি অংশ বিক্রি থেকে গত বছর ১৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হুইস্কি ব্যান্ডের বৃহদাংশ প্রোক্সিমো স্পিরিটসের কাছে বিক্রি করে তিনি এই অর্থ আয় করেন।

 

গত বছর এনডোর্সমেন্ট খাত থেকে তিনি আয় করেন ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ তিনি আয় করেন ডাফটকিংস ও ভিডিও গেম ‘ডিস্টোপিয়া: কনটেস্ট অব হিরোজ’ থেকে।

 

ম্যাকগ্রেগরের আয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই রোগানের। তবে শীর্ষ আয়কারী অ্যাথলিট হিসেবে তার র্যাংকিং নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ, কিন্তু এটা (হুইস্কি থেকে আয়) কি গণনাযোগ্য। হুইস্কি থেকে অনেক অর্থ আয় করায়ই কনোর শীর্ষ র্যাংকধারী হয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি, এর মধ্য দিয়েই সে শীর্ষ আয়কারী হয়েছে।

 

আয়ের তালিকায় ম্যাকগ্রেগরের পরেই রয়েছেন ফুটবল স্টার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শেষের দুজনের আয় অবশ্য ম্যাকগ্রেগরের মতো নয়, তারা খেলা থেকেই সিংহভাগ অর্থ আয় করেছেন।

 

মজার বিষয়, ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের এক জিমে রোনালদোর সঙ্গে সাক্ষাতে ম্যাকগ্রেগর অঙ্গীকার করেছিলেন, আয়ের তালিকায় একদিন তাকে (রোনালদো) টপকে যাবেন তিনি। এ নিয়ে ফোর্বসকে ম্যাকগ্রেগর বললেন, এ ঘটনার তো বহু বছর হতে চলল, সত্য বলতে কী, আমি সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি কিন্তু সহজেই অর্থ আয় করতে পারতাম, দ্রুত উপার্জন করতে পারতাম। আমি ঝুঁকি নিয়েছি। আমি এতে হৃদয় উজাড় করে দিয়েছি, ফলও এসেছে। আপনারা জানেন, তারা নিজেদের খেলা থেকে, এনডোর্সমেন্ট থেকে অনেক অর্থ আয় করে। কিন্তু সম্ভবত আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রান্তে রয়েছি।

 

মিরর, স্পোর্টিং নিউজ