সিলেটে আজ সকালে ১৭তম ওভারে ৫৭ রানে শ্রীলংকার ৫ উইকেট তুলে দুর্দান্ত সাফল্য পায় বাংলাদেশ। যদিও এরপর ২৪৫ বলে ২০২ রানের অবিশ্বাস্য এক পার্টনারশিপে বাংলাদেশকে ভোগাতে থাকেন অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস। অবশেষে তৃতীয়ে সেশনের অষ্টম ওভারে কামিন্দুকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত নাহিদ রানা। পরের ওভারে তিনি সাজঘরের পথ দেখান ধনাঞ্জয়াকেও। জোড়া আঘাতে রানাই স্বস্তি ফেরান টাইগার শিবিরে। ২৫৯ রানে তার বলে ভয়ংকর এক জুটির বিদায়ের পরের ২১ রানের মধ্যে অলআউট সিংহলিজরা।  

 

৫৭তম ওভারে রানার বলে মেন্ডিস মারতে গেলে আউটসাইড এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে যায় বল বলে। ১২৭ বলে ১১টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১০২ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন মেন্ডিস।

 

নিজের পরের ওভারে ধনাঞ্জয়াকেও ফেরালেন নাহিদ রানা। তার ১৪২ কিলোমিটার গতির বল পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ অঞ্চলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দেন ধনাঞ্জয়া। ১৩১ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১০২ রান করেন লংকান দলনায়ক।  

 

এর আগে ব্যক্তিগত ৯৫ রানে তাইজুলের বলে জীবন পান ধনাঞ্জয়া। ৫৪তম ওভারের প্রথম বলে তার পায়ে বল লাগলেও লিটনের কথায় রিভিউ নেননি শান্ত। পরে রিভিউতে দেখা যায়, পিচিং ঠিকই ছিল এবং বলও স্ট্যাম্পে লেগেছে। ফলে অপূর্ব সুযোগ হারায় বাংলাদেশ, আর ৯৫ রানে জীবন পান ধনাঞ্জয়া। অবশেষে সেঞ্চুরির পর তাকে ফেরান নাহিদ রানা।  

 

৬১তম ওভারে নাহিদ রানার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন প্রবথ জয়সুরিয়া। রানার বলে পুশ করতে গিয়ে লিটনকে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলামের বলে লিটনকে ক্যাচ দেন বিশ্ব ফার্নান্দো (২৭৮/৯)। আর শেষ ব্যাটসম্যান লাহিরু কুমারা হয়েছেন রানআউট (২৮০/১০)।   

 

বৃষ্টিভেজা সিলেটের মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তটা দারুণভাবে কাজে লাগায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ব্রেকথ্রু এনে দেন পেসার খালেদ আহমেদ। এরপর একে একে ফেরান প্রতিপক্ষের আরো দুই ব্যাটারকে। শরিফুল ইসলামও একটি উইকেট শিকার করেন। টাইগার এই পেসারের তোপে দলীয় ৫৭ রানের আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলংকা।

 

এরপর হাল ধরেন ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু। দুজনের দৃঢ়তায় ২২ ওভারে ৫ উইকেটে ৯২ রান তুলে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে যায় অতিথি দলটি। তৃতীয় সেশনেও কর্তৃত্ব করে এই জুটি। ৪৯ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৭ রান তুলে নেয় দলটি। ধনাঞ্জয়া ৮৩ ও কামিন্দু ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ফেরার পর দুজন মারমুখী ব্যাটিংয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং এরপর ছন্দপতন। রানার গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে দ্রুতই ফিরে যান সাজঘরে।  

 

এর আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নিশান মাদুস্কাকে ফেরান খালেদ আহমেদ। তার ফুল লেংথ ডেলিভারি ড্রাইভ করার চেষ্টায় লংকান ওপেনারের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটের পেছনে। তৃতীয় স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মিরাজ। ৯ বলে ২ রান করে ফেরেন মাদুস্কা। ফলে দলীয় ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলংকা।

 

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামাল দিচ্ছিলেন দিমুথ করুনারত্নে (১৭) ও কুশল মেন্ডিস ৯১৬)। তারা ৫৭ বলে ৩৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছিলেন। তবে কুশল ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দারুণ এক বাউন্সার বুঝে উঠতেই পারলেন না তিনি। গালি অঞ্চলে ক্যাচ লুফে নেন জাকির হাসান। একই ওভারে করুনারত্নেকেও সাজঘরে পাঠালেন টাইগার এই পেসার। অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ঠিকঠাক খেলতে পারলেন না লঙ্কান এই ওপেনার। ব্যাটের ফাঁক গলে বল গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে।

 

টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে দল যখন ধুঁকছে, তখন চাপ আরো বাড়াল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ‘দৃষ্টিকটু’ রানআউট। খালেদ আহমেদের করা বল কাভারের দিকে ঠেলে সিঙ্গেলসের জন্য দৌড় দিয়েছিলেন দিনেশ চান্দিমাল। অন্যপ্রান্তে ম্যাথুজ যতক্ষণে এসে পৌঁছলেন, তার আগেই মিড-অফ থেকে দৌড়ে এসে সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭ বলে ৫ রান করেই বিদায়ঘণ্টা বাজল ম্যাথুজের। এরপরে শরীফুলের শিকার হন দিনেশ চান্দিমাল।