বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার
মধ্যকার দুই টেস্টের সিরিজ শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার। সিলেটে প্রথম টেস্ট। প্রায়
দুই বছর পর আবার হোম সিরিজে শ্রীলংকার মুখোমুখি বাংলাদেশ। দলে একঝাঁক তরুণ নিয়ে এই
সিরিজে ভীষণ আশাবাদী বাংলাদেশের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, তেমনি তিনি বেশ সতর্কও।
শ্রীলংকার সঙ্গে ২০০১
সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২৪টি টেস্ট খেলে একটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হার ছিল ১৮টি, ড্র
৫টি। ২০১৭ সালের মার্চে কলম্বোয় শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ও একমাত্র জয়টি পায় বাংলাদেশ।
কলম্বোতে ঐতিহাসিক সেই জয়ের পর দুই দল আরো ছয়টি টেস্টে মুখোমুখি হয়, যার মধ্যে শ্রীংলকা
তিনটি জিতেছে, আর ড্র হয়েছে বাকি তিনটি ম্যাচ। ২০২২ সালের হোম সিরিজে চট্টগ্রামে ড্র
হওয়ার পর ঢাকায় ১০ উইকেটের বড় জয় পায় সিংহলিজরা। আবার দুই দলের লাল বলের লড়াই।
যদিও শ্রীলংকার বিপক্ষে
সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান করা মুশফিকুর রহিমকে এই সিরিজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ইনজুরির
কারণে দল ঘোষণার পর তিনি ছিটকে পড়েন। চট্টগ্রামে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে তিনি আঙুলে
চোট পান। লংকানদের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচে ১৩৪৬ রান করেছেন মুশফিকুর রহিম। কলম্বোয় একটি
ডাবল সেঞ্চুরিও আছে তার। মুশফিকের পরিবর্তে এই সিরিজে ডাক পেয়েছেন সীমিত ওভারের তারকা
ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়কে।
মুশফিক ছাড়াও সাকিব আল
হাসান, তামিম ইকবালের মতো কান্ডারি নেই এবারের টেস্ট দলে। তাই এটা হবে অভিজ্ঞ এক দলের
বিপক্ষে নতুনদের লড়াই। শ্রীলংকার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (১০৭), দিমুথ করুনারত্নে (৮৯)
ও দিনেশ চান্দিমাল (৭৭) মিলে ২৭৩ টেস্ট খেলেছেন, যা গোটা বাংলাদেশ দলের ২৭০ ম্যাচের
চেয়েও বেশি!
এরপরও তরুণ টাইগাররা শ্রীলংকাকে
হারাবে বলে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি,
শ্রীলংকার ব্যাটিং লাইনআপ যথেষ্ট শক্তিশালী। তারা ভয়ংকর একটি দল। তবে আমরা চ্যালেঞ্জ
নিতে তৈরি। আমাদের ক্যাম্পে মনোবল চাঙ্গা। দলে অনেক নতুন মুখ এসেছে। সাদা ও লাল বলে
আমাদের ভিন্ন দল। তবে নতুন ছেলেগুলো দলে অনেক আশা আর উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে।’
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে
এই মাঠে জেতা ম্যাচের চেয়ে শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি ভিন্ন হবে বলে জানালেন হাথুরুসিংহে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এবার পিচটা কিছুটা ভিন্ন। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ঘাস খুব কম
ছিল, এবার সবুজ ঘাস দেখা যাচ্ছে। আবার আবহাওয়ায় একটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। এসব বিষয় এবং
প্রতিপক্ষের সীমাবদ্ধতা ও সামর্থ্যের বিবেচনায় এটি আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষমান।
শ্রীলংকাকে হারাতে হলে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।’
মুশফিকের না থাকা নিয়ে
কোচ বলেন, ‘আমরা মুশফিকের অভাব অনুভব করছি। সে ভালো ফর্মে আছে। এমন অভিজ্ঞ একজনের জায়গা
সহসাই পূরণ করা কঠিন। সেইসঙ্গে এটাও বলব, আমরা তরুণদের সমর্থন করছি। তাওহিদ হৃদয় আসছে।
আমাদের আরো আছে শাহাদাত হোসেন দিপু, সাদমান ইসলাম। অনেক তরুণ নিয়ে এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের
জন্য দারুণ এক সময়। আমি তাদের বলব, যেন প্রতিটি সুযোগ লুফে নেয়।’
নতুন দুই বোলার নাহিদ
রানা ও মুশফিক হাসানকে নিয়ে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘তারা দুজনই বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণ।
উভয়ই ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল ছুড়তে পারে। তারা বেশ তরুণও ও শক্তিশালী। দুজনই প্রচুর
বল করতে সক্ষম। এই টেস্টে তাদের দুজন না হলেও অন্তত একজনের খেলা দেখার অপেক্ষায় আছি
আমি।’










