সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টাইগাররা খেলছে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে ১৪১তম ম্যাচ। ২০তম জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ।
২০০০ সালে টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত মোট ১৪০ ম্যাচ খেলে ১৯টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। হার ১০৩ টেস্টে, ড্র হয়েছে ১৮টি ম্যাচ। টেস্টে জয়ের চেয়ে হারের পাল্লা বেশিই ভারী।
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ১৮ টেস্টে আটটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ২০ টেস্টে চারটি, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ১৯ টেস্টে দুটি, আফগানিস্তানের সঙ্গে দুই টেস্টে একটি, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ছয় টেস্টে একটি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ১০ টেস্টে একটি, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে এক টেস্টে একটি ও শ্রীলংকার সঙ্গে ২৪ টেস্টে একটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে এখনো হারানো যায়নি ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
দেশের মাঠে ৭৫টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ১৩টি, হার ৪৮টি, আর ড্র ১৪টি। দেশের বাইরে টাইগাররা জিতেছে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দুটি), জিম্বাবুয়ে (দুটি), নিউজিল্যান্ড (একটি) ও শ্রীলংকায়।
বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২৭টি টেস্ট খেলেছে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। এ মাঠে আটটি জয় এসেছে টাইগারদের। আর ১৬টি হারের সঙ্গে ড্র করেছে তিনটি ম্যাচ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩টি ম্যাচ খেলেছে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সাগরিকায় দুটি ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টেস্ট ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে। এ মাঠে টাইগাররা ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে গেলেও গত বছর হারিয়ে দেয় নিউজিল্যান্ডকে।
টেস্টে শ্রীলংকার সঙ্গে বাংলাদেশের রেকর্ড উজ্জ্বল নয়। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২৪টি টেস্ট খেলে একটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হার ১৮টি, ড্র ৫টি। ২০১৭ সালের মার্চে কলম্বোয় শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ও একমাত্র জয় পায় বাংলাদেশ।
সিংহলিজদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সফলতম বোলার সাকিব আল হাসান। তিনি সর্বোচ্চ ৩৮ উইকেট শিকার করেছেন। এ সিরিজে অবশ্য সাকিব নেই। তিনি ‘বিশ্রাম’ নিয়েছেন। বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার তাইজুল ইসলাম সাত টেস্টে ২৭ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তাইজুল চলতি সিরিজে খেলছেন। এছাড়া বর্তমান স্কোয়াডের সদস্য মেহেদী হাসান মিরাজ ছয় টেস্টে নিয়েছেন ১৯ উইকেট। তিনিও এ সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন। হয়তো শেষের দুজন এ সিরিজে লংকানদের বিপক্ষে উইকেট শিকারের সংখ্যাটা আরেকটু সমৃদ্ধ করতে সমর্থ হবেন।
সব মিলিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও সাকিব। ৬৬ ম্যাচে ১১১ ইনিংসে বল করে তিনি নিয়েছেন ২৩৩ উইকেট। ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগার ৭/৩৬, ম্যাচসেরা বোলিং ফিগার ১০/১২৪। পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন মোট ১৯ বার, ১০ উইকেট নেন দুবার। ৪৫ ম্যাচে ১৯২ উইকেট নিয়ে সাকিবের পরেই আছেন বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার সেরা বোলিং ফিগার ৮/৩৯। ম্যাচে ১৭০ রানে ১১ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব রয়েছে তাইজুলের। ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ১২ বার, ১০ উইকেট নিয়েছেন দুবার।
এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৪২ ম্যাচে ১৫৯ উইকেট, মোহাম্মদ রফিক ৩৩ ম্যাচে ১০০ উইকেট ও মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩৬ ম্যাচে ৭৮ উইকেট শিকার করেছেন।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম। ৮৮ ম্যাচে ৩৮.০৯ গড়ে তিনি করেছেন ৫ হাজার ৬৭৬ রান (চলতি সিলেট টেস্টের আগ পর্যন্ত)। ১২টি সেঞ্চুরি ও ২৭টি ফিফটি করেছেন মুশফিক। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও তারই খেলা। ২০১৮ সালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংস। এছাড়া আরো দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি আছে তার। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে করেছেন ২০০ রান, ২০২০ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেন ২০৩ রানের হার না মানা ইনিংস।
রানে এর পরই তামিম ইকবাল। তিনি ৭০ ম্যাচে করেছেন ৫ হাজার ১৩৪ রান। মুশফিকের সমান ১০টি সেঞ্চুরি করেছেন তামিম, তার ফিফটি ৩১টি। সর্বোচ্চ ২০৬ রানের ইনিংস খেলেছেন এ বামহাতি ব্যাটিং তারকা। ৬৬ ম্যাচে ৪ হাজার ৪৫৪ রান নিয়ে এর পরই সাকিব আল হাসান। তার সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭ রানের। পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ৩১টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
রান সংগ্রাহকদের তালিকায় এর পরই মুমিনুল হক (৩৮৮৩) ও হাবিবুল বাশার (৩০২৬)। দেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল হক। তিনি ১২টি সেঞ্চুরি ও ১৬টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ১৮১ রানের।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস ৬৩৮ রানের। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে এ রান তুলেছিল টাইগাররা। ওই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৯৫/৮ (ডি.), ২০২০ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫৬০/৬ (ডি.), ২০১২ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৫৬, খুলনায় ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৫৫/৬, পাল্লেকেলেতে ২০২১ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫৪১/৭ (ডি.), মিরপুরে ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫২২/৭ (ডি.), চট্টগ্রামে ২০১৮ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫১৩, মিরপুরে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০৮, চট্টগ্রামে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫০৩ ও চট্টগ্রামে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০১ রানের সৌধ গড়েছিল বাংলাদেশ।










