গত জুনে লন্ডনের লর্ডসে প্রথম আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে নিউজিল্যান্ড। ওই মাঠেই ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে কেন উইলিয়ামসনের দল হেরেছিল ইংল্যান্ডের কাছে। আর গত বছর শেষ দিকে আরব আমিরাতে টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে উইলিয়ামসেন দল হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। সব মিলে, গত চার-পাঁচ বছরে ফর্মের তুঙ্গে থাকা কিউই দলটির বিপক্ষে আজ তাদেরই মাঠে টেস্ট খেলতে নামছে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দল। শনিবার ভোর ৪টায় শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা।


সব ফরম্যাটেই অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। গত বছর টি২০ বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে খর্বশক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করে টি২০ সিরিজে হেরে যায় ব্ল্যাকক্যাপসরা। যদিও ওই দলের কেউই পরের মাসের টি২০ বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি! বাংলাদেশের মাটিতে পরাজয় দিয়ে যে নিউজিল্যান্ড দলটিকে বিচার করা সমীচীন হবে না, তার প্রমাণ তারা দেয় টি২০ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে।


বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজে প্রায় পূর্ণশক্তির দলই মাঠে নামাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। কনুইয়ের চোটের কারণে কেন উইলিয়ামসন খেলছেন না, তার জায়গায় এসেছেন ডেভন কনওয়ে। আর দলকে নেতৃত্ব দেবেন টম ল্যাথাম। বাংলাদেশ দলকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না কিউইরা। এমনকি চিরাচরিত পেসবান্ধব উইকেটে স্পিনাররা খুব একটা ভালো করেন না বলে গত মাসে ভারতের বিপক্ষে মুম্বাই টেস্টে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়া এজাজ প্যাটেলকেও বাদ দিতে কুণ্ঠিত হয়নি নিউজিল্যান্ড নির্বাচকরা। তার মানে, বাংলাদেশ সিরিজটাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছে স্বাগতিকরা।


আত্মবিশ্বাসের নিরিখে নিউজিল্যান্ডের ঠিক বিপরীত চিত্র বাংলাদেশ শিবিরে। টি২০ বিশ্বকাপ শেষে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে টি২০ ও টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্ট যেদিন শেষ হয় সেদিন রাতেই নিউজিল্যান্ডগামী বিমানে উঠতে হয় মুমিনুলদের। নিউজিল্যান্ডে পৌঁছার পর দীর্ঘ কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশনসহ নানা নিয়মকানুন প্রতিপালনে ক্লান্ত হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। কোয়ারেন্টিন শেষে একটি দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। এমনিতে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর মতো পরীক্ষিত সেনানী নেই দলে, তার ওপর অনুশীলনের ঘাটতি তো থেকেই যাচ্ছে।      


এরপর দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেই বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো আজ মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, দলের খেলায় উন্নতি চোখে পড়েছে তার। প্রোটিয়া এই কোচের কথায়, মাস দুয়েক ধরে খুব কঠিন সময় যাচ্ছে, সন্দেহ নেই। টেস্ট ম্যাচে আমরা দল হিসেবে উন্নতি করছি। ফলাফলে হয়তো সেই প্রতিফলন নেই, তবে টেস্ট ম্যাচে আমরা আগের চেয়ে ভালো করছি। আমাদের দু-একজন বড় ক্রিকেটার এখানে নেই, যা খুব একটা আদর্শ নয়। তবে অনেক ইতিবাচক দিকও আছে এটির। অনেক তরুণ ক্রিকেটার এখানে এসেছে, যারা নিউজিল্যান্ডে খুব একটা টেস্ট খেলেনি। আগের পারফরম্যান্সের ক্ষত তাই তাদের থাকবে না। এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে হবে আমাদের। আমরা জানি যে, টেস্ট ম্যাচে আমাদের রেকর্ড ভালো নয় এখানে। তবে আমরা রোমাঞ্চিত যে তরুণদের সামনে ভালো সুযোগ নিউজিল্যান্ডের স্বাদ পাওয়ার ও ভালো পারফর্ম করার।


কোচ যাই বলুন না কেন, মাঠে নামার আগে একটি রেকর্ড নিশ্চিতভাবেই চাপে রাখবে মুমিনুল ও তার দলকে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কখনই কোনো  সংস্করণে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সব সংস্করণ মিলিয়ে দলটির বিপক্ষে তাদের মাটিতে ৩২ ম্যাচ খেলে সবকটিতে হেরেছে তারা। দেখা যাক, ৩৩তম লড়াইয়ে দেশকে গৌরব এনে দিতে পারেন কিনা মুমিনুল, মুশফিকুর রহিমরা।


নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম বলেন, এই কন্ডিশনে আমরা বেশ ভালো কিছু সাফল্য পেয়েছি, সেই সঙ্গে অ্যাওয়েতেও। এই দলটি যে সাফল্য পেয়েছে সেই ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখতে হবে আমাদের।


টেস্টে এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ১২টিই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ যে তিনটি ম্যাচে ড্র করতে সমর্থ হয়েছে তার সবগুলোই নিজেদের মাঠে।