মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘রবি’ আগামী সাড়ে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর হলো। শুক্রবার দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি ও রবি আজিয়াটা লিমিটেডের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। রবির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাজীব শেঠি এবং বিসিবির পক্ষে সংস্থাটির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় বিসিবির মিডিয়া বিভাগের প্রধান তানভীর আহমেদ টিটু, রবির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমাদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিসিবির সিইও জানান, এ চুক্তি থেকে ৫০ কোটি টাকা পাবে বিসিবি। 

বিসিবির সঙ্গে রবির নতুন যুগলবন্দির যাত্রা আগামী মাসে শ্রীলংকার বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ। 

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের পাশাপাশি এ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের (নারী ও পুরুষ) জার্সিতেও রবির লোগো ব্যবহৃত হবে। ঘরের মাঠে ও বিদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, আইসিসি ইভেন্টসহ ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ ও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের জার্সিতে লোগো ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিসিবির সঙ্গে আমাদের চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে যুক্ত করা আছে, সে অনুযায়ী সবকিছু হবে।’

২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিসিবির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল রবি। ২০১৫ সালে রবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে ৪২ কোটি টাকার মতো পেয়েছিল বিসিবি। পরে ২০১৭ সালে আবার দুই বছরের জন্য রবি চুক্তি করে ৬৪ কোটি টাকায়। সেটির মেয়াদ শেষের ১০ মাস আগে তারা সরে দাঁড়ায়। এবার তারা ৫০ কোটি টাকায় সাড়ে তিন বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলো।

রবির এমডি ও সিইও রাজীব শেঠি বলেন, “‍এ দেশের ক্রিকেটের অনেক প্রথম সাফল্যের সঙ্গে রবির নামটি যুক্ত। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রবির ‘পারবে তুমিও’ চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে টাইগাররা আগামীতেও বিশ্বমঞ্চে আরো বড় বড় সাফল্য বাংলাদেশের জন্য নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আবারো নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে রবি গর্বিত। সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগোনোর এ রোমাঞ্চকর যাত্রায় রবিকে সবসময় পাশে পাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট।”

সর্বশেষ ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় দলের পৃষ্ঠপোষক ছিল দারাজ। বিশ্বকাপের পর তাদের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে স্পন্সর ছিল না বাংলাদেশ দলের। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে টেস্ট সিরিজ, ফিরতি ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ স্পন্সর ছাড়াই খেলেছে টাইগাররা। একটু দেরি হলেও রবিকে স্পন্সর হিসেবে পেল বিসিবি।

আগের চুক্তিটা পূর্ণ হওয়ার আট মাস আগেই সমাপ্তি টানতে হয়। আবার ঠিক কী কারণে ফিরে এল রবি? এমন প্রশ্নের জবাবে রবির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমাদ বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করা সবসময়ই একটা গর্বের ব্যাপার। আমরা সবসময়ই এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। আগে মিউচুয়ালি দুই পক্ষের চুক্তিটা শেষ হয়েছে। আমরা আবার নতুন আশা নিয়ে বিসিবিতে ফিরে এসেছি। আশা করি, এবার আমাদের পার্টনারশিপটা সফল হবে।’

বিসিবির সিইও জানিয়েছেন, রবির সঙ্গে যতদিন চুক্তি থাকবে ততদিন ক্রিকেট দলের কোনো খেলোয়াড় আলাদাভাবে অন্য কোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে স্পন্সর চুক্তি করতে পারবেন না। বিসিবির সিইও জানান, বর্তমানে কোনো ক্রিকেটারের অন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থাকলে তারা এটি শেষ করার পর আর কোনো চুক্তি করতে পারবেন না।

অফিসার সাহেদ আলমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে রেকর্ড আয় করেছে রবি। এ বিষয়টিই কি ক্রিকেটে বিনিয়োগ করতে আপনাদের উদ্বুদ্ধ করেছে? উত্তরে তিনি বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে রবির সম্পৃক্ততা অনেক দিনের। তৃতীয় দফায় স্পনসর হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা আরো আগে থেকেই চলে আসছিল। কোম্পানির আয় আর ব্র্যান্ডিং—এ ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন বিষয়।  ক্রিকেট এ দেশে এমন একটি খেলা যা আমাদের পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। একইভাবে আমাদের ব্র্যান্ড স্লোগান “‍‌পারবে তুমিও’’-এর মাধ্যমে আমরা পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেয়ায় ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদের মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদও সবসময়ই খেলাধুলার সঙ্গে জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, শ্রীলংকায়ও আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনের স্পন্সর হিসেবে কাজ করেছে।’

এদিকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ড্রিংকিং পার্টনার হয়েছে টি কে গ্রুপের ব্র্যান্ড পুষ্টি ড্রিংকিং ওয়াটার। তেল, আটা, ময়দা, চায়ের পর পুষ্টি সর্বশেষ বাজারে এনেছে পুষ্টি পানি। এ পণ্যের প্রচারের লক্ষ্য নিয়েই তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পানীয় সরবরাহের সহযোগী হিসেবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলো। চুক্তি হয় এ মাসের শুরুর দিকে। এর আগে ২০২২ সালে পুষ্টি ড্রিংকিং ওয়াটার দুই বছরের বাংলাদেশ ফুটবল দলের অফিশিয়াল ড্রিংকিং পার্টনার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিসিবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই বছরের (১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) জন্য শুধু হোম সিরিজে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে পুষ্টি। এ সময়ে ঘরের মাঠে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ মিলিয়ে ছয়টি সিরিজে ৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

খাওয়ার পানি ছাড়াও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের এনার্জি ড্রিংকসও সরবরাহ করবে পুষ্টি ব্র্যান্ড।

এর আগে ক্রিকেট দলের ড্রিংকিং পার্টনার ছিল মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পানির ব্র্যান্ড সুপার ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার।

এর বাইরে বিসিবিকে প্রতিটি সিরিজের টাইটেল স্পন্সর ও কো-স্পন্সর জোগাড় করে দেয় ইমপ্রেস-মাত্রা কনসোর্টিয়াম। তাদের সঙ্গে বিসিবির বর্তমান চুক্তিটা পরবর্তী তিন বছরের জন্য।