হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন বিসিবির নির্বাচক প্যানেল গতকাল দল ঘোষণা করে। এতে অবশ্য কোনো চমক ছিল না। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ওয়ানডে সিরিজের দলে কোনো পরিবর্তন না এনে সেটিকেই নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য রেখে দিয়েছেন নির্বাচকরা। পাকিস্তানকে হোম সিরিজে ২-১-এ হারিয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
দল ঘোষণার সময় একসঙ্গে এসেছিলেন নির্বাচক প্যানেলের চার সদস্য। প্রধান নির্বাচক সাবেক টেস্ট অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে ছিলেন ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের অন্যতম নায়ক হাসিবুল হোসেন শান্ত, দেশের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক নাঈম ইসলাম ও ঘরোয়া ক্রিকেটের আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার নাদিফ চৌধুরী।
পাকিস্তান সিরিজের দল অপরিবর্তিত রাখার ব্যাখ্যায় হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজে আমাদের দলটি বেশ ভালো খেলেছে। কাজেই আমরা এ দলটিকে পরিবর্তন করতে চাইনি। আমাদের নীতি হচ্ছে যখন কেউ আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে, তারা খারাপ খেলেনি। যারা ভালো খেলেছে তারা তো অবশ্যই জায়গা ধরে রাখা ডিজার্ভ করে। আবার যারা কোনো ম্যাচ না খেলেই দলে ছিল, তাদেরও শুধু শুধু আমরা বাদ দিতে চাই না। কারণ তাদের বাদ দেয়ার কারণ তো নেই। এ কারণেই আমরা চাই দলে ধারাবাহিকতা থাকুক।’
ওপেনিং ব্যাটার সৌম্য সরকার আগের সিরিজে একটা ম্যাচেও সুযোগ পাননি। তিনি বসে ছিলেন বেঞ্চে। তাকে দলে রাখা ও একাদশে সুযোগ না মেলা নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমি নেটে সৌম্যকে দেখছিলাম। অফস্পিনটা সে দারুণভাবে সামলাচ্ছিল। তার ব্যাটিংটা দলের জন্য সম্পদ হতে পারে। আর দেখেন, তার বসে থাকাটাই প্রমাণ করে আমাদের বেঞ্চও কতটা শক্তিশালী। আশা করি, তার সুযোগ আসবে।’
দল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা ও পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়ার নীতির এ কারণেই ফর্মহীন সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেন দলে জায়গা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছেন। সাইফ পাকিস্তান সিরিজে তিন ম্যাচে করেন মোট রান ৫২। এছাড়া নয় ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ফিফটি মাত্র একটি। তবে সাইফের ওপর এখনই ভরসা হারাচ্ছেন না নির্বাচকরা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে রাখা হয়েছে এ ব্যাটসম্যানকে। তাকে নিয়ে বাশার বলেন, ‘আমরা হুট তার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চাই না, আরেকটা সিরিজ দেখতে চাই। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।’
আফিফ পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুই ইনিংস যথাক্রমে ১৪ ও অপরাজিত ৫ রান করেন। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ইনিংস মিলিয়ে করেন ৬৭ রান। তবু তিনি দলে জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন।
ওপেনিং ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম; পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা এবং স্পিনার রিশাদ হোসেন পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে পাকিস্তানে রয়েছেন। গতকাল বিকালে মুস্তাফিজের লাহোর কালান্দার্সের মুখোমুখি হয় নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের পেশোয়ার জালমি। বিসিবির কাছ থেকে আজ পর্যন্ত তাদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়া আছে। সেই মোতাবেক, কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই তারা বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশ দল পিএসএল থেকে ক্রিকেটারদের ফেরত আনলেও নিউজিল্যান্ড সেই পথে হাঁটেনি। আইপিএল ও পিএসএলে থাকা ক্রিকেটারদের বাইরে রেখে দ্বিতীয় সারির দল বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে কিউই বোর্ড। বাংলাদেশ কেন সেরা দল মাঠে নামাচ্ছে, সেটি তুলে ধরলেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনো বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে ম্যাচ জেতা। জেতার জন্যই আমরা সেরা দলটি সাজাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা স্যাক্রিফাইস করে নয়। আরেকটা কারণ হচ্ছে সিরিজের গুরুত্ব। বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার ক্ষেত্রে আমাদের এ সিরিজ থেকে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’
নিউজিল্যান্ড দল আগামীকাল ঢাকায় পৌঁছবে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৭ ও ২০ এপ্রিল প্রথম দুই ওয়ানডে। ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ওয়ানডে হবে চট্টগ্রামে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ। ২ মে মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি।










