ইনজুরি ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজ এবং এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলেননি তামিম ইকবাল। ওই বিশ্বকাপে ভরাডুবি হয় বাংলাদেশের। আরেকটি টি২০ বিশ্বকাপ আসন্ন। এ বছর অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় বসছে সংক্ষিপ্ত ভার্সনের বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপেও হয়তো তামিমকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তামিম জানালেন, আগামী ছয় মাস তিনি আন্তর্জাতিক টি২০ খেলবেন না। তাতে কার্যত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা শেষই হয়ে গেল তার। যদিও তিনি বলেছেন, ফিট থাকলে এবং বিসিবি চাইলে তিনি বিশ্বকাপে খেলতেও পারেন। পাশাপাশি এও বলেছেন, তিনি আশা করেন না যে বিশ্বকাপে তার প্রয়োজন পড়বে।

ক’দিন আগে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান জানান, আন্তর্জাতিক টি২০ আর খেলতে চান না তামিম। পরে বিসিবি পরিচালক ও জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, সমস্যা জানতে বাঁহাতি ওপেনারের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। তামিমের সঙ্গে মাঠে কথা বলতেও দেখা যায় সুজনকে। এরপর আগামী ছয় মাস টি২০ না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানান তামিম।

২০২০ সালের ৯ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ দেশের হয়ে টি২০ খেলেছেন তামিম। বৃহস্পতিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেট আগামী ছয় মাস খেলব না আমি। এই সময় আমার পুরো মনোযোগ টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে থাকবে। আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আছে। পুরোপুরিভাবে আমার মনোযোগ থাকবে এই দুই সংস্করণে। আশা করব, এই ছয় মাসে যে তরুণরা খেলবে, এরা এতই ভালো করবে, যে আমার আর প্রয়োজন পড়বে না। তার পরও ছয় মাস পর যদি এমন সময় আসে, যেখানে ক্রিকেট বোর্ড, নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে আমাকে দরকার বিশ্বকাপের আগে, সঙ্গে আমিও যদি তৈরি থাকি, তখন আবার এটা নিয়ে আলাপ হবে। কিন্তু এই ছয় মাস ভাবছি না।

টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। ১১৭.৪৭ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ১ হাজার ৭০১ রান। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তিনি। ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত টি২০ ফরম্যাটে দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন তামিম, এ সময় দলের ৮৪ ম্যাচের মধ্যে তিনি খেলেন ৭৫টি। কিন্তু এরপরের তিন বছরে বাংলাদেশের ৩৮ ম্যাচের মধ্যে তিনি খেলেন মাত্র তিনটি ম্যাচ।

আন্তর্জাতিক টি২০ থেকে ছয় মাসের বিরতি নেয়ার ঘোষণা যেদিন দিলেন তার পরদিনই বিপিএলে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন তামিম ইকবাল। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ৬৪ বলে ১১১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে তিনি মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকাকে এনে দিয়েছেন ৯ উইকেটের বিশাল জয়।

এটা সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে মুশফিকুর রহিমকে টপকে বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হলেন তামিম। ৭৫ ম্যাচে তার রান সংখ্যা ২ হাজার ৪৩৭, গতকাল বরিশালের বিপক্ষে ৪০ রান করার পর ৮৯ ম্যাচে মুশফিকের রান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭৫। চলতি বিপিএলে ৫ ইনিংসে করেছেন ৫৪ গড়ে ২১৬ রান; দুটি হাফসেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি একটি। শুক্রবারের অনবদ্য সেঞ্চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচকদের কি কোনো বার্তা দিলেন তামিম?