উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মঙ্গলবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এ ম্যাচে একটি গোল করেন সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। এর মধ্য দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। এভাবেই প্রতি ম্যাচে নতুন সব রেকর্ড গড়া আর রূপকথা লেখা চলছেই এ নরওয়েজিয়ান বিস্ময় খেলোয়াড়ের।
বায়ার্ন ম্যাচে এক গোল করায় চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় তার নামের পাশে এখন ৪৫ গোল, যা করেন মাত্র ৩৯ ম্যাচে। গতকাল রাতে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে লেস্টারের বিপক্ষে খেলেছে ম্যানসিটি। এ ম্যাচেও লক্ষ্যভেদ করলেন গোলসংখ্যা আরো বাড়বে তার।
চলতি মৌসুমে ছয়টি অ্যাসিস্টও আছে হালান্ডের। তার মধ্যে একটি আবার এ ম্যাচে। তিনি গোল করিয়েছেন বার্নার্দো সিলভাকে দিয়ে। তার অবদান নিয়ে ম্যানইউর সাবেক স্ট্রাইকার ডিওন ডাবলিন বলেন, ‘এ ম্যাচে সে অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে। সিটি তিন গোল করলে স্কোরশিটে অবধারিতভাবেই তার নাম থাকবে।’
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চালু হওয়ার পর এ প্রথম লিগের কোনো খেলোয়াড় ৪৫ গোল করলেন। ম্যানইউর হয়ে ডাচ স্ট্রাইকার রুদ ফন নিস্টেলরয় ও লিভারপুলের মিসরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৪৪ গোল করেন। এজন্য দুজনই আবার খেলেছেন সমান ৫২ ম্যাচ। তাদের চেয়ে ১৩ ম্যাচ কম খেলে রেকর্ড গড়েছেন ২২ বছর বয়সী হালান্ড। নিস্টেলরয় ৪৪ গোল করেন দ্বিতীয় মৌসুমে, সালাহ প্রথম মৌসুমে করলেও এর আগে তিনি খেলেছেন ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে।
নিজের আগের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন হালান্ড। ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ৪৪ গোল করেছিলেন তিনি—সলজবুর্গের হয়ে ২৮ গোল ও ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৬ গোল করেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে মাত্র ১২ জন খেলোয়াড় মৌসুমে ৩০-এর বেশি গোল করেছেন। তাদের অন্যতম হালান্ড। ৩৪ গোল নিয়ে রেকর্ডের অধিকারী অ্যান্ডি কোল (১৯৯৩-৯৪ মৌসুম) ও অ্যালান শিয়েরার (১৯৯৪-৯৫ মৌসুম)। ৩০ গোল নিয়ে দুজনের রেকর্ড ভাঙার পথে হালান্ড। কোল ও শিয়েরার দুজনই ৩৪ গোল করেন ৪২ ম্যাচের মৌসুমের সময়। অবশ্য তার আগে সালাহর ৩২ গোলের রেকর্ডটা ভাঙতে হবে তাকে।
৯৫ বছর আগে এভারটনের হয়ে শুধু লিগেই ৬০ গোল করেছিলেন ডিক্সি ডিন। সেই রেকর্ডটা ভাঙা কঠিনই। তবে হালান্ডকে নিয়ে বাজি ধরাই যায়।










