গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল-২০২২) নিলাম। দুদিনের এ নিলামে ২০৪ জন খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো, যা আইপিএলের ইতিহাসে রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬৯ খেলোয়াড় এসেছিলেন হাতুড়ির নিচে। এবার ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি খরচ করেছে ৫৫১ কোটি ৭০ লাখ রুপি। যদিও সাড়ে ৫০০ কোটি রুটিরও বেশি ব্যয়ের এ নিলামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দল পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, যাকে ২ কোটি রুপিতে কিনে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। এছাড়া দেশের শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ২ কোটি রুপির ক্যাটাগরিতে থাকলেও তাকে কেনেনি কেউ।

আইপিএলে এর আগে কোনো আসরেই খেলোয়াড় কিনতে এত বেশি অর্থ ব্যয় হয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। ২০১৮ আসরের নিলামে ৪৩১ কোটি ৭০ লাখ রুপি খরচ হয়েছিল।

সর্বোচ্চ ব্যয়ের কারণ নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির যুক্ত হওয়া। আগে ছিল আটটি, এবার সর্বোচ্চ ১০টি দল নিয়ে হবে এ প্রতিযোগিতা। ২০২২ আসরে খেলবে লক্ষেৗ সুপার জায়ান্টস ও গুজরাট টাইটানস।

১৯ ঘণ্টার নিলামে ৫৯০ জন খেলোয়াড়কে তোলা হয়। যাদের মধ্যে ৩৭০ জন ভারতীয় ও ২২০ জন বিদেশী। দল পেয়েছেন ২০৪ জন, যার মধ্যে বিদেশী ৬৭ জন ও ভারতীয় ১৩৭ জন। প্রাথমিকভাবে এ নিলামে অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ১২১৪ ক্রিকেটার।

ক্রিকেটারদের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েক ক্যাটাগরিতে। সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি রুপি। এ ক্যাটাগরিতে ছিলেন ১৭ জন ভারতীয় ও ৩১ জন বিদেশী। ২ কোটি ছাড়াও দেড় কোটি ও ১ কোটি ভিত্তিমূল্যের ক্রিকেটাররাও নিলামে ছিলেন। বিদেশী কোটায় সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের লিয়াম লিভিংস্টন। ১১ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছে পাঞ্জাব কিংস। আর দেশী কোটায় সর্বোচ্চ দামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দিয়েছেন ইশান কিষাণ। তার দাম ১৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি। এছাড়া ১১ খেলোয়াড় ১০ কোটির ওপরে দাম পেয়েছেন।

গত আসরের স্কোয়াড থেকে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ চারজন ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে, বাকিদের ছেড়ে দিতে হয়েছে। নিলাম ছাড়া নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লক্ষেৗ লোকেশ রাহুলকে ১৭ কোটিতে দলে নেয়, যা এবারের আইপিলে সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল ক্রিকেটার। এর আগে বিরাট কোহলিকে বেঙ্গালুরু ১৭ কোটি দিয়েছিল। এবার কোহলি নিজের দাম দুই কোটি কমিয়ে ১৫ কোটিতে নিয়ে এসেছেন।

নিলামে একটি দল সর্বোচ্চ ২৫ জন ক্রিকেটার স্কোয়াডে রাখতে পারবে। খরচ বেঁধে দেয়া হয় সর্বোচ্চ ৯০ কোটি রুপি। চেন্নাই, মুম্বাই, পাঞ্জাব ও কলকাতা ২৫ জন ক্রিকেটার স্কোয়াডে নিয়েছে। দিল্লি ও রাজস্থান ২৪ জন, গুজরাট ও হায়দরাবাদ ২৩, বেঙ্গালুরু ২২ ও লক্ষেৗ ২১ জন নিয়ে স্কোয়াড সাজিয়েছে। সাতটি দলে আছেন আটজন করে বিদেশী। পাঞ্জাব, লক্ষেৗ ও দিল্লিতে আছেন সাতজন করে বিদেশী।

নবাগত লক্ষেৗ একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি যারা ক্রিকেটার কিনতে কোটার পুরো ৯০ কোটি রুপি খরচ করেছে। অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির খরচই কোটার আশপাশে। সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত ছিল পাঞ্জাবের। এছাড়া চেন্নাইয়ের ২ কোটি ৯৫ লাখ, বেঙ্গালুরুর ১ কোটি ৫৫ লাখ, রাজস্থানের ৯৫ লাখ, কলকাতার ৪৫ লাখ, গুজরাটের ১৫ লাখ, দিল্লি, মুম্বাই ও হায়দরাবাদের ১০ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত ছিল।

আইপিএলের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ নিলাম। ২০২১ আসরে ৫৭ ক্রিকেটারের জন্য ১৪৫ কোটি ৩০ লাখ রুপি, ২০২০ আসরে ৬২ ক্রিকেটারের জন্য ১৪০ কোটি ৩০ লাখ রুপি, ২০১৯ আসরে ৬০ ক্রিকেটারের জন্য ১০৬ কোটি ৮০ লাখ , ২০১৮ আসরে ১৬৯ ক্রিকেটারের জন্য ৪৩১ কোটি ৭০ লাখ, ২০১৭ আসরে ৬৬ ক্রিকেটারের জন্য ৯১ কোটি ১৫ লাখ, ২০১৬ আসরে ৯৪ ক্রিকেটারের জন্য ১৩৬ কোটি, ২০১৫ আসরে ৯৪ ক্রিকেটারের জন্য ৮৭ কোটি ৬০ লাখ ও ২০১৪ আসরে ১৫৪ ক্রিকেটারের জন্য ২৬২ কোটি ৫০ লাখ রুপি খরচ করে দলগুলো। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আইপিএল আসরের নিলাম হতো মার্কিন ডলারের ভিত্তিতে। এরপর থেকে রুপিতে করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২২ ও ২০২৩ আসরে আইপিএলের টাইটেল স্পন্সর ‘টাটা’ গ্রুপ। এ দুই আসরের জন্য বিসিসিআইকে ৬৭০ কোটি রুপি দিচ্ছে টাটা। আইপিএলটি২০ ডটকম