শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০ সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ সিলেটে তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। কুশল মেন্ডিসের রাজসিক ফিফটিতে ১৭৪ রানের পুঁজি পায় অতিথিরা। এরপর নুয়ান তুষারার হ্যাটট্রিকে এলোমেলো বাংলাদেশ। বোলার রিশাদ হোসেন (৩০ বলে ৫৩) ও তাসকিন আহমেদের (২১ বলে ৩১) লড়াইয়ে মান বাঁচলেও সিরিজ আর জেতা হলো না স্বাগিতকদের। ১৯.৪ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ হেরেছে ২৮ রানে। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল সিংহলিজরা।  

 

শ্রীলংকার সঙ্গে এর আগে চারটি টি২০ সিরিজ খেলে তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাকিটি হয়েছে ড্র। ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে ১-০তে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে ২-০তে ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে ২-০তে টি২০ সিরিজ জয় করে শ্রীলংকা। ২০১৭ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের সিরিজটা ১-১-এ ড্র হয়। এবার প্রথমবারের মতো সিংহলিজদের হারানোর হাতছানি ছিল শান্তদের সামনে। যদিও এবারো হলো না। টাইগারদের অপেক্ষাটা বাড়ল।  

 

আজ ১৭৫ রান চেজ করতে নেমে তুষারার আগুণে বোলিংয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে টানা তিন বলে নাজমুল শান্ত, তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহকে আউট করেন ২৯ বছর বয়সী পেসার তুষারা। পরে আরো দুই উইকেট নেন তিনি। সব মিলে চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন পাঁচ উইকেট।  

 

এর আগে টস জিতে বোলিং বেছে নেন বাংলাদেশ দলনায়ক শান্ত। টস হারলেও ব্যাটে শক্তি দেখাল সফরকারীরা। কুশল মেন্ডিসের ৮৬ রানের রাজসিক ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে সিংহলিজরা।

 

৫৫ বলে সমান ৬টি চার ও ৬ ছক্কায় ৮৬ রান করেন শ্রীলংকার ওয়ানডে দলনায়ক কুশল। এছাড়া ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ১৩ বলে ১৫ ও শেষ দিকে দাসুন শানাকা ৯ বলে ১৯ রান করেন। তাসকিন আহমেদ ২৫ রানে ও রিশাদ হোসেন ৩৫ রানে দুটি করে উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।

 

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টাইগারদের স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন ছিল না। সফরকারীদের দলে আসে তিনটি পরিবর্তন। চোটে পড়া পেস সেনসেশন মাথিসা পাথিরানার জায়গায় নেন নুয়ান তুষারা আর দিলশান মাদুশঙ্কা জায়গা ছেড়ে দেন অধিনায়ক হাসারাঙ্গা ডি সিলভাকে। রানখরায় ভোগা আভিস্কা ফার্নান্দোর জায়গায় আসেন ধনাঞ্জয়া।  

 

আজকের হারের পর টি২০তে এখন পর্যন্ত ১৬ ম্যাচের মুখোমুখিতে সিংহলিজরা ১১ জয় নিয়ে এগিয়ে থাকল, বাংলাদেশের জয় ৫টি।