নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজে হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে আজ পাকিস্তানের কাছে ২১ রানে হার মেনেছে নুরুল হাসান সোহানের দল। ১৬৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৪৬ রান তুলতে সমর্থ হয়। হারের পর বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান বলেছেন, তাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি আনতে হবে।

 

সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চে দলের সঙ্গে যোগ দেন। পরদিনই ম্যাচ থাকায় তাকে বিশ্রাম দেয় ম্যানেজমেন্ট। ফলে এ ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন সোহান। টস জিতে ফিল্ডিং নেন সোহান। বোলারদের প্রচেষ্টা খুব খারাপ ছিল না। মোহাম্মদ রিজওয়ান ছাড়া পাকিস্তানের অন্য কেউই বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারেনি। তবে ব্যবধান গড়ে দেয় রিজওয়ানের রানগুলোই। ওপেনিংয়ে নেমে ৫০ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৭৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের সংগ্রহটা ভদ্রস্থ করেন তিনি।

 

রান তাড়া করতে নেমে যে সূচনাটা বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল তা করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাব্বির রহমান। অনেকটা জোর করে বাউন্ডারি মারতে যাওয়ার প্রাণঘাতী প্রচেষ্টা দেখান তারা। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। ৪.২ ওভার টিকতে পেরেছেন দুজন। টি২০ ফরম্যাটে এ নিয়ে চার ম্যাচে ওপেন করলেন মেহেদী ও সাব্বির। তবে আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু এখনো করে দেখাতে পারেননি। এমনকি কোনো ম্যাচেই পাওয়ার প্লের গন্ডিও পার হতে পারেননি দুজন। ওভারপ্রতি রান তোলার গড়ও ছয়ের একটু বেশি, যা টি২০তে বড্ড বেমানান। আজ ৪.২ ওভার টিকে থেকে দুজন তুলেছেন ২৫ রান।

 

মোহাম্মদ ওয়াসিমকে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে আসিফ আলীকে ক্যাচ দেন মিরাজ। করেছেন ১১ বলে ১০ রান। পরের ওভারে হারিস রউফের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির। তিনি ১৮ বল খেলে করেছেন ১৪ রান। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৫.৫ ওভারশেষে ৩৭/২। এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিম, হারিস রউফ ও শাদাব খান দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে দেড়শর নিচেই আটকে দেন।

 

ওপেনিং জুটির এই শ্লথ সূচনাই পরবর্তীতে গোটা ইনিংসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরপর লিটন দাস ও আফিফ হোসেন ভালো ব্যাটিং করলেও তাদের বিদায়ে আবার ব্যাকফুটে চলে যায় দল। একমাত্র ইয়াসির আলী ছাড়া লোয়ার-মিডল অর্ডার ছিল ব্যর্থ। ইয়াসির অনবদ্য খেলে ২১ বলে ৪২ রান করেন। শেষ ওভার থেকে ২০ রান নিয়ে তিনি সামর্থ্যের প্রমাণ রাখেন। যদিও ততক্ষণে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশ দলের।

   

সাকিবের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেয়া সোহান ম্যাচ শেষে বলেছেন, আমরা খুবই হতাশ। উইকেট বেশ ভালো ছিল এবং বোলাররাও তাদের কাজটি ঠিকমতো করেছে। আমাদের কিছু কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। ব্যাটিংয়ের মধ্য পথে কিছু উইকেট হারানোর খেসারত দিয়েছি আমরা। লিটন ও ইয়াসির ভালো ব্যাট করেছে, কিন্তু আমি মনে করি, ব্যাটিংয়ে আমাদের উন্নতি আনতে হবে।

জয় পেয়ে খুশি পাকিস্তান দলনায়ক বাবর আজম। তিনি বলেন, শুভ সূচনা করতে পেরে, একটি দল হিসেবে আমরা খুশি। রিজওয়ান ভালো খেলেছে। প্রথম ইনিংস শেষে একটি ব্যাটিং ইউনিট হিসেবেও নিজেদের পারফরম্যান্সে আমরা খুশি। পাওয়ার প্লেতে আমরা ৫০ রান চেয়েছিলাম, তখন মাসুদ (শান) এসে ভালো খেলল। সূর্য না থাকায় বাতাসের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে, তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। আজ আমাদের পেসার ও স্পিনাররা বিভিন্ন পর্যায়ে ভালো বল করেছেন। এখন আমাদের কিছু চিন্তার জায়গা হলো ফিল্ডিং, সেখানে এখনো উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে।

 

৭৮ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া রিজওয়ান বলেন, আমার জন্য এটা গৌরবের মুহূর্ত। আমরা সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলাম। এটা ভালো ব্যাটিং ট্র্যাক ছিল, আমরা ভালো খেলার পরও ভেবেছিলাম ১০-১৫ রান কম হয়েছে। এরপর আমাদের বোলাররা ভালো বল করে এই রান রক্ষা করতে পেরেছে। কিছু কিছু জায়গায় বাউন্ডারি বেশ বড় ছিল, যদিও আমরা বলের মেধা বিচার করে খেলেছি। পরিকল্পনা না থাকলে এটি করা কঠিন ছিল।

 

আগামীকাল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। রোববার পরবর্তী ম্যাচে কিউইদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে একাদশে ফিরবেন সাকিব।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৭/৫ (রিজওয়ান ৭৮*, মাসুদ ৩১, বাবর ২২; তাসকিন ২/২৫, মিরাজ ১/১২)। বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৬/৮ (ইয়াসির ৪২*, লিটন ৩৫, আফিফ ২৫; ওয়াসিম ৩/২৪, নওয়াজ ২/২৫)। ফল: পাকিস্তান ২১ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ রিজওয়ান (পাকিস্তান)।