এক মাসের দরকষাকষি ও প্রতীক্ষার পর ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গাভির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব এফসি বার্সেলোনা। চুক্তি হয়েছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত, চুক্তির রিলিজ ক্লজ ১০০ কোটি ইউরো! চুক্তিবদ্ধ থাকাকালে বার্সার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ গাভিকে কিনতে চাইলে গুনতে হবে ১০০ কোটি ইউরো।
চুক্তি নবায়ন অনুষ্ঠানে সপরিবার হাজির হন তরুণ গাভি। এ সময় বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা ও ক্লাবের পরিচালকদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেন। এরপর চুক্তি নবায়নের মূল অনুষ্ঠান হয়েছে ন্যু ক্যাম্পে হাজার চারেক দর্শকের সামনে। সেখানে লাপোর্তা বলেন, আজ ঐতিহাসিক এক দিন। চুক্তি নবায়ন করায় আমি গাভিকে ধন্যবাদ জানাই। গাভি যখন ছোট ছিল তখন মানুষজন বলত, সে প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করে।
বার্সা প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আজ বার্সেলোনা, গাভি ও ক্লাবের সব সমর্থকের জন্য খুব খুশির একটি দিন। ক্লাবের যেসব মানুষ এ চুক্তি নবায়নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এটা খুবই আবেগের ও ঐতিহাসিক দিন, কেননা আমরা ক্লাবের বর্তমান, অদূরভবিষ্যৎ আর ভবিষ্যতের সঙ্গেই চুক্তি করছি। আমরা এটি অর্জন করেছি। বার্সেলোনা দীর্ঘজীবী হোক, গাভি দীর্ঘজীবী হোক।
লাপোর্তা মূলত কৃতজ্ঞ থাকবেন গাভির এজেন্ট আইভান ডে লা পেনার প্রতি। রিয়াল বেতিসে খেলার সময় তিনিই গাভিকে বার্সেলোনায় নাম লেখাতে রাজি করান। কেননা ওই সময় বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ছিল তার।
এরপর চুক্তি নবায়ন নিয়ে কথা বলার পালা এল গাভির। যদিও মিতভাষী এ খেলোয়াড় খুব বেশি কথা বলেননি। তিনি শুধু চুক্তি নবায়ন করতে পেরে যে ভীষণ আনন্দিত, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। তার কথায়, চুক্তি নবায়ন নিয়ে আমি খুব খুশি। শৈশব থেকেই এটা আমার কাছে ছিল একটা স্বপ্নের মতো। আমি যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। আমি এখানেই থাকতে চেয়েছিলাম। (লা ম্যাসিয়া, বার্সার যুব একাডেমি) এটা বিশেষ কিছু। এখানকার বাবুর্চি, শিক্ষক আর প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে বিনয়ী থেকে কাজ করতে হয়। এ কারণেই আমি কাজটি ভালোভাবে, সহজাতভাবে করতে শিখেছি।
লা লিয়ারায় ফুটবলে হাতেখড়ি জাভির। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফুটবল শিখেছেন বেতিসে। রিয়াল বেতিস যুবদলের হয়ে ৯৫ গোল করেন তিনি। ২০১৫ সালে ১১ বছর বয়সে তাকে সই করায় বার্সেলোনা। সেই থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বার্সার বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি লা ম্যাসিয়ায় বেড়ে ওঠা তার।
২০২০ সালে বার্সেলোনা ‘বি’ দলের হয়ে অভিষেক। ২০২১ সালে সিনিয়র ফুটবলেও অভিষেক ঘটে যায় তার। গত বছর ২৯ আগস্ট লা লিগায় গেতাফের বিপক্ষে ৭৩ মিনিটে সের্জি রবার্তোর বদলি হিসেবে নামেন তিনি। ১৮ ডিসেম্বর সিনিয়র ফুটবলে নিজের প্রথম গোল করেন এলচের বিপক্ষে।
এরই মধ্যে স্পেন জাতীয় দলের হয়েও ১০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এ তারকা। তার আগে অবশ্য স্পেন অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়েও তিনি খেলেছেন। এ বছর জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে স্পেনের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল করেন গাভি।
এখন তিনি বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে সমাদৃত। খেলার স্টাইলের কারণে গাভির মাঝে সাবেক বার্সা ও স্পেন গ্রেট জাভি হার্নান্দেজের ছায়া দেখেন অনেকে। জাভি বর্তমানে বার্সায় গাভির কোচ।
গাভির চুক্তি নবায়ন বিলম্বিত হচ্ছিল মূলত বের্নার্দো সিলভা ইস্যুতে। ম্যানচেস্টার সিটির পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের এ গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় নাম লেখানোর জোর গুঞ্জন ছিল। গাভি জানিয়ে দেন, সিলভা ন্যু ক্যাম্পে এলে তিনি চুক্তি নবায়ন করবেন না! তার শঙ্কা ছিল, সিলভা এলে তিনি গুরুত্ব হারাবেন আর খেলায় সময়ও কম পাবেন। এ কারণে সরাসরি বলে দেন, সিলভা এলে তিনি চুক্তিই নবায়ন করবেন না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সিলভাকে কিনতে পারেনি বার্সা।
বলা বাহুল্য, লা ম্যাসিয়ায় থাকাকালে গাভিকে কেনার চেষ্টা করছিল ম্যানসিটি। যদিও প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি কাতালান ক্লাবেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
চুক্তি নবায়নের আগে মাসে ১ লাখ ইউরো পারিশ্রমিক পেতেন গাভি, যা একাডেমি থেকে উঠে আসা অন্য সব তারকার সমান। চুক্তি নবায়নের দরকষাকষির সময় তার এজেন্ট চুক্তির প্রথম বছরে ৪০ লাখ, দ্বিতীয় বছরে ৫০ লাখ ও তৃতীয় বছরে ৬০ লাখ ইউরো পারিশ্রমিক দাবি করেন। যদিও ক্লাবটি বার্ষিক পারিশ্রমিক ২০ লাখ ইউরো দিতে চেয়েছে। বার্সা ইউনিভার্সাল, মার্কা










