প্যারিসের বার্কি অ্যারেনায় আজ (১১ আগস্ট) মেয়েদের বাস্কেটবল ফাইনালে মুখোমুখি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও স্বাগতিক ফ্রান্স। তৃতীয় দল হিসেবে এই ম্যাচে চোখ ছিল চীনাদেরও! কেননা ফ্রান্স জিতলেই প্যারিস অলিম্পিকে পদক তালিকায় এক নম্বরে থাকার গৌরব অর্জন করতো এশিয়ার দেশটি। যদিও ফরাসিদের মতো চীনারাও এই ম্যাচ থেকে হতাশাই পেল শুধু। স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে স্বাগতিক মেয়েদের ৬৭-৬৬ পয়েন্টে হারিয়ে দেয় আমেরিকানরা। এতে ৪০টি স্বর্ণসহ মোট ১২৬টি পদক জিতে প্যারিস অলিম্পিকে সবার সেরা যুক্তরাষ্ট্র। সমান ৪০টি স্বর্ণসহ মোট ৯১টি পদক জিতে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে চীন।

 

মেয়েদের বাস্কেটবল ফাইনালে শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ায়। গ্যাবি উইলিয়ামস থ্রি-পয়েন্টার স্কোর গড়লে আশা বেঁচে থাকে ফ্রান্সের। একেবারে শেষ সেকেন্ডে তিনি আরেকবার থ্রি পয়েন্টারের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটে বল থ্রো করেন। বল সঠিক নিশানায় ঠিকই চলে যায়, যদিও সমতায় ফেরা হলো না ফরাসিদের। কেননা গ্যাবির পা ততক্ষণে বৃত্তের সীমানা থেকে ভেতরে চলে যায়ে!  

 

এভাবে হেরে যাওয়ায় কেঁদেছেন উইলিয়ামস ও মেরিন জোহানেসরা। অন্যদিকে, টানা অষ্টম অলিম্পিক স্বর্ণ জিতে উৎসবে মেতে ওঠেন আমেরিকান মেয়েরা।

 

আজ ১৬তম দিন ১১টি স্বর্ণের নিষ্পত্তি হয়। সকালে মেয়েদের ম্যারাথনে স্বর্ণ জিতেছেন নেদারল্যান্ডসের সিফান হাসান। নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে ২ ঘন্টা ২২ মিনিট ৫৪৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন ৩১ বছর বয়সী এই রানার। এ ইভেন্টে রৌপ্য জিতেছেন ইথিওপিয়ার তিগস্ত আসেফা ও ব্রোঞ্জ পান কেনিয়ার হেলেন ওবিরি। এর আগে ৫ হাজার ও ১০ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন সিফান হাসান। এবার জিতলেন ম্যারাথনের স্বর্ণ। সব মিলে প্যারিসে ৬২ কিলোমিটারেরও বেশি দৌড়েছেন তিনি।

 

সকালে মেয়েদের ৮১ কেজির ভারোত্তোলনে চীনের লি ওয়েনওয়েন চ্যাম্পিয়ন হলে চলতি আসরে ৪০তম স্বর্ণপদক নিশ্চিত হয় চীনের। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে এটা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে সর্বোচ্চ ৪৮টি পদক জিতেছিল স্বাগতিকরা। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ৩৯টি ও ২০২১ সালে টোকিও আসরে চীনারা পায় ৩৮টি স্বর্ণ। গতবার যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছিল ৩৯টি। যদিও আজ শেষ ইভেন্টের স্বর্ণ জিতে নিয়ে চীনকে টপকে আসরের সেরা হয় অলিম্পিক জায়ান্ট যুক্তরাষ্ট্র।

 

এবারের অলিম্পিকে জাপান (২০টি স্বর্ণ) তৃতীয়, অস্ট্রেলিয়া (১৮টি স্বর্ণ) চতুর্থ, ফ্রান্স (১৬টি স্বর্ণ) পঞ্চম, নেদারল্যান্ডস (১৫টি স্বর্ণ) ষষ্ঠ, ব্রিটেন (১৪টি স্বর্ণ) সপ্তম, দক্ষিণ কোরিয়া (১৩টি স্বর্ণ) অষ্টম, ইতালি (১২টি স্বর্ণ) নবম ও জার্মানি (১২টি স্বর্ণ) দশম হয়।