শেষ ৩০ বলে ৭ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হাতে তখনও ৭টি উইকেট। এমন ম্যাচও কিভাবে হারা যায় সেটাই দেখিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে লংকানদের কাছে ৭ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশে বিদায় নিল বাংলাদেশ।

নাভি মুম্বাইয়ে গতকাল (সোমবার) লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। অর্থাৎ, হারলেই ছিটকে পড়তে হবে বিশ্বকাপ থেকে। যথারীতি এদিনও জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররা। টপ অর্ডারে বড় জুটির পর লঙ্কানরা মিডল অর্ডারে বিপর্যয়ে পড়ে। ফলে ৪৮.৪ ওভারে ২০২ রানেই গুটিয়ে যায় চামারি আতাপাত্তুর দল। সেই লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ কক্ষপথেই ছিল। কিন্তু তাদের যে হারের উপায়টা ভালোভাবেই জানা! লক্ষ্যটা যখন ৬ বলে ৯ রানের, তখন মাত্র ১ রান তুলতেই হারিয়েছে ৫ উইকেট। ফলাফল ৭ রানে হেরে বিদায়।

এদিনও ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে পুরনো ঘরানার ক্রিকেট দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ১ উইকেট স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৩ রান। এরপর অভিজ্ঞ ফারজানা হক পিংকি আউট হন ৩৫ বলে ৭ রান করে। সোবহানা মোস্তারিও দ্রুত আউট হয়ে বিপদ বাড়ান। সেখান থেকে জ্যোতি ও শারমিন সুপ্তা মিলে গড়েন ৮২ রানের জুটি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের তখনই শুরু, ব্যক্তিগত ৬৪ রানে পায়ে ক্র্যাম্প নিয়ে সুপ্তা রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর জ্যোতি-স্বর্ণা জুটিতে ৫০ রান এলে জয়টা হাতের কাছেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু স্বর্ণার বিদায়ের পর একের পর এক উইকেটের মিছিল শুরু হয়।

রিতু মনি তো ডট দিয়েছেনই, ৭০ পেরিয়ে ব্যাট করা জ্যোতির ব্যাটেও রান আসছিল না। ক্রমেই চাপ বাড়তে থাকে, সেই চাপ ১২ বলে ১২ রানের সমীকরণও মেলাতে দিলো না। ৪৯তম ওভারে আসে ৩ রান। শেষ ওভারে যখন ৯ রান প্রয়োজন, লঙ্কান অধিনায়ক আতাপাত্তু হাতে বল তুলে নেন। প্রথম বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন রাবেয়া খানকে, পরের বলে নিশ্চিত সিঙ্গেল রান নিতে গিয়ে নাহিদা আক্তার রানআউট। ৭৭ রান করা জ্যোতি স্ট্রাইকে গিয়ে বিলাসী শট খেলতে গিয়ে ঠিকঠাক হলো না, ক্যাচ দিলেন লং অফে। পরের বলে নেমেই

সুপ্তা ফের ক্রিজে এসে শেষ বলটা পেলেন, কিন্তু ততক্ষণে সব আশা শেষ। ১ বলে দরকার ছিল ৮ রান। কিন্তু বলটা তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে যায়। বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবেই বিদায় নিল বাংলাদেশ। অথচ শুরুটা হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক জয় দিয়ে। পরবর্তী ৫ ম্যাচে টানা হার দেখল জ্যোতির দল।