মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে প্রথম দিনটিতে খুব খারাপ করেনি বাংলাদেশ। ২৫৮ রানে স্বাগতিকদের ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন অতিথি দলের বোলাররা। কিউইদের এই আড়াইশোর্ধ্ব রানের মধ্যে ১২২ রানই এসেছে ডেভন কনওয়ের ব্যাট থেকে। তিনি ২২৭ বলে ১৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় এই রান করেন। তার ইনিংসে ভর করেই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে স্বাগতিকরা সংহত অবস্থান গড়ে নিয়েছে।
গতকাল সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন কনওয়ে। মাত্র ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। গত বছর জুনে লর্ডসে অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরি করেন। এবার ঘরের মাঠেও পেলেন তিন অংকের ছোঁয়া।
সেঞ্চুরির পর কনওয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করলেন এভাবেই, খুবই বিশেষ এক সেঞ্চুরি এটি। আমি মনে করি আজ প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে এটা করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বললে, মাঠে রস টেলরের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলার সময় মাইলফলকে পৌঁছতে পারায় আমি বেশি আনন্দিত। তিনি খুবই ইতিবাচক মানুষ। আমাকে উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন এবং সেঞ্চুরির পর অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটা আমার স্মৃতিতে বহুদিন টিকে থাকবে।
দলীয় এক রানে টম ল্যাথামের উইকেট পতনের পর চতুর্থ ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা কনওয়ের জন্য কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। বাংলাদেশ বোলাররা তখন প্রচণ্ড চাপ তৈরি করেন, যার মুখে কনওয়ে ও তার পার্টনার উইল ইয়ংকে বুক চিতিয়ে লড়াই করে প্রথম এক ঘণ্টা টিকে থাকতে হয়েছে। এ নিয়ে কনওয়ে বলেন, আমরা দুজন যতটা সম্ভব ধৈর্যশীল থাকার চেষ্টা করেছি। আমি দেখেছি, বাংলাদেশের বোলাররা ওই সময়টাতে দারুণ বোলিং করেছেন। উইকেটও তাদের বেশ সাহায্য করেছে। কিন্তু জানতাম, দিনের শেষ ভাগে আমরা আগ্রাসী শট খেলতে পারব।
পরিকল্পনামাফিক খেলে সফলতা পেয়েছেন কনওয়ে। নিজে দারুণ এক মাইলফলকে পৌঁছার পাশাপাশি দলকেও নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন ৩০ বছর বয়সী এই বামহাতি ব্যাটার। বল যখন পুরনো হয়েছে তখনই বেশির ভাগ রান তুলেছেন কনওয়ে, তিনি অন-সাইডে বেশিবার বলকে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন।
কনওয়ে স্বীকার করলেন, এই টেস্টের আগে তার প্রস্তুতিটা মোটেও ভালো হয়নি। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেই তিনি ‘ডাক’ করেছেন, হাতের চোট থেকে ফেরার পর যা ছিল তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। গত নভেম্বরে তিনি এই চোট পান। অনুশীলনের ঘাটতি নিয়ে তিনি বলেন, এটা খুবই হতাশার ছিল যে আমি উইকেটের মাঝে অনেকটা সময় কাটাতে পারিনি। ফলে আমাকে নেটেই বেশি সময় দিতে হয়েছে। টেস্টের আগে আমি এমন প্রস্তুতি চাইনি, যদিও টেস্ট থেকে আমার প্রাপ্তিটা অনেক বড়।
হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির প্রথম কীর্তিটা ১২৬ বছর আগের। ১৮৯৩ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ১০৭ রানের ইনিংস খেলার পর ১৮৯৫ সালে নিজ দেশে ১০৫ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি গ্রাহাম। এরপর ১৯৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কেপলার ওয়েসেলস, যিনি পরবর্তী সময়ে খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে, ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের আজহার মাহমুদ, ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের অ্যান্ড্রু স্ট্রস, একই বছর অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ক ও সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে কনওয়ের এই সেঞ্চুরিটা নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১৯তম। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন কেন উইলিয়ামসন (৩টি), টম
লাথাম (২টি), ব্রেন্ডন
ম্যাককালাম (২টি), মার্টিন
গাপটিল, ক্রেগ ম্যাকমিলান, কোরি অ্যান্ডারসন, ম্যাথিউ বেল, মার্ক রিচার্ডসন, স্টিফেন ফ্লেমিং, হেনরি নিকোলস, জ্যাকব ওরাম, জিত রাভাল, বিজে ওয়াটলিং ও রস টেলর।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার কীর্তি সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে তিনি ২০২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তার উত্তরসূরি কেন উইলিয়ামসন ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে খেলেন ২০০ রানের হার না মানা ইনিংস। ডাবল আছে রস টেলরেরও, যিনি ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে পৌঁছেছিলেন দুশর চূড়ায়। কিউইদের আধিপত্যের মধ্যে এই দ্বৈরথে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার গৌরব বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে তিনি খেলেছিলেন ২১৭ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস।
উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ বানিয়ে কনওয়েকে ফেরান বাংলাদেশ দলনায়ক মুমিনুল হক। এতে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরে। ২০ ওভার বোলিং করে ৫৩ রানে দুটি উইকেট নিয়ে প্রথম দিন বাংলাদেশের সফলতম বোলার পেসার শরিফুল ইসলাম। মুমিনুল হক কর্তৃক বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কনওয়েকে আউট করা ও আজকের পরিকল্পনা নিয়ে শরিফুল বলেন, কনওয়ের উইকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সে ভালো খেলছিল। মুমিনুল ভাই এসে ‘ব্রেক থ্রু’ দিল। এতে দলের জন্য অনেক উপকার হয়েছে। আমরা রান রেট কমিয়ে রাখার এবং ওদের তাড়াতাড়ি অলআউট করার চেষ্টা করব।










