ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর ভীষণ চাপে পড়েছেন রোমান আব্রামোভিচ। এই রুশ ধনকুবের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির মালিক। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সংগত কারণেই লন্ডনভিত্তিক এ ক্লাবের মালিক হিসেবে তাকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আর এ ক্লাবের সঙ্গে থাকতে চান না, বিক্রি করে দিতে চান বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি।
কোটি কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করে আব্রামোভিচই চেলসিকে ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যুক্তরাজ্যে ভিসা নবায়ন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইংল্যান্ডে যেতে পারছেন না, ফলে কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাইরে থেকে। এবার চেলসির সঙ্গে সম্পর্কটাও ছেদ করতে চলেছেন তিনি।
গত বুধবার ক্লাবের এক বিবৃতিতে আব্রামোভিচ বলেন, অনুগ্রহ করে জানুন, এ সিদ্ধান্ত নেয়া আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। এভাবে ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাটা আমাকে ব্যথিত করছে। তবে আমার বিশ্বাস, ক্লাবের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য এটা করা উচিত।
আব্রামোভিচের অঢেল সম্পদ এসেছে মূলত রাশিয়ার তেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বেসরকারীকরণের ঢেউ শুরু হলে সাবেক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি তেল কোম্পানি কিনেই তিনি বাজিমাত করেছেন।
বরাবরই রাশিয়ার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক। বর্তমান প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যেমন ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলিসনের সঙ্গেও। আব্রামোভিচের মতো বিজনেস ম্যাগনেটের ওপর জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে ভীষণ চাপে ছিল যুক্তরাজ্য সরকার। যুক্তরাজ্য চিরাচরিতভাবেই রুশ ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ এক স্বর্গ ছিল। যদিও এখন বৈশ্বিক রাজনীতির কারণে চাপে রয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ কারণেই যুক্তরাজ্য ছাড়তে হচ্ছে আব্রামোভিচকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা নিয়ম কড়াকড়ি করতে এবং অবৈধ পন্থায় অর্জিত বিদেশী বিনিয়োগ জব্দ করতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছেন। এমনকি রুশ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করায় সমালোচিত হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি। চাপের মুখেই আব্রামোভিচ চেলসি বিক্রি করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০৩ সালে ২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারে তখন চেলসির সিংহভাগ শেয়ার কিনে নেন আব্রামোভিচ। তার সময়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য পায় চেলসি। ক্লাবটি এ সময় পাঁচবার লিগ শিরোপা, পাঁচবার এফএ কাপ ও দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছে। গত বছর ফোর্বসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এখন ক্লাবটির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ডলার!
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বিদেশী ধনকুবেরদের আসার পথটা তিনিই দেখিয়েছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, থাইল্যান্ড, মিসর, ইরান ও সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ এসেছে জনপ্রিয় এই ফুটবল লিগে। এনপিআর










