বিশ্বের প্রবীণতম ম্যারাথন দৌড়বিদ ফৌজা সিং আর নেই। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের বিয়াস শহরের কাছে সোমবার একটি পথ দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১১৪ বছর। খবর সিএনএন।

১৯১১ সালে পাঞ্জাবের এক গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন ফৌজা সিং। জীবনের একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। ৮০ বছর বয়স পেরিয়ে ম্যারাথন দৌড়ে নাম লিখিয়ে ‘টারব্যান্ড টর্নেডো’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। একে একে ৯টি পূর্ণ ম্যারাথন (২৬ দশমিক ২ মাইল) শেষ করেন।

ম্যারাথন দুনিয়ায় তাকে বিশ্বের প্রবীণতম দৌড়বিদ হিসেবে মনে করা হলেও, জন্ম সনদ না থাকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম ওঠেনি।

পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাজ্যের জালন্ধর জেলার বিয়াস শহরের কাছে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একটি অজ্ঞাত যান তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফৌজা সিংকে জালন্ধরের শ্রিমন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাথা ও পাঁজরে মারাত্মক আঘাত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জালন্ধর জেলার গ্রামীণ পুলিশ সুপার হরবিন্দর সিং ভির্ক জানিয়েছেন, ‘আমরা গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তে কয়েকটি টিম কাজ করছে।’

ফৌজা সিংয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি ছিলেন অসাধারণ এক ক্রীড়াবিদ, যার অধ্যবসায় ও মনোবল আমাদের প্রেরণা জোগায়।’

৮৯ বছর বয়সে স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুতে ভারাক্রান্ত হয়ে ফৌজা সিং ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানেই শুরু হয় তার ব্যতিক্রমী জীবনের নতুন অধ্যায়। ওই বয়সে ম্যারাথনে নাম লেখান তিনি। ২০১৩ সালে সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘দৌড় আমার জীবনে মমতা এনেছে, আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমার সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।’

প্রথম ম্যারাথনে অংশ নেয়ার জন্য কয়েক মাসের ট্রেনিংই ছিল তার প্রস্তুতি। এরপর ২০০৩ সালে টরন্টো ওয়াটারফ্রন্ট ম্যারাথনে তিনি নিজের সেরা ফল পান। পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করেন তিনি। ২০১১ সালে টরন্টোতে গিয়ে ইতিহাস গড়েন ফৌজা সিং। ১০০ বছর বয়সে পূর্ণ ম্যারাথন শেষ করে তিনিই হন বিশ্বের প্রথম শতবর্ষী দৌড়বিদ। সময় লাগে ৮ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৬ সেকেন্ড।

তবে এ কীর্তির অনেক আগে থেকেই তার জীবন ছিল সংগ্রামের প্রতীক। ছোটবেলায় শরীরের দুর্বলতার কারণে তিনি পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত হাঁটতেই পারতেন না। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ‘অলিম্পিক মশাল’ বহনের সুযোগ পান তিনি। এরপর ২০১৩ সালে হংকংয়ে ১০ কিলোমিটারের একটি দৌড়ের মধ্য দিয়ে নিজের শেষ প্রতিযোগিতামূলক রেস শেষ করেন।

যদিও তার নাম গিনেস রেকর্ডসে ওঠেনি, কিন্তু যুক্তরাজ্যের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ফৌজা সিংয়ের ১০০তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। ১০২ বছর বয়সে সিএনএনকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার দৌড়ের জুতোগুলোর ভীষণ ভক্ত। এগুলো আমার আনন্দের উৎস। আমি এগুলো শুধু দৌড়ানোর জন্য নয়, আনন্দের জন্য পরি। এগুলো ছাড়া আমার জীবন কল্পনাই করা যায় না।’