মিরপুর
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানকে ৬৬২ রানের বিশাল টার্গেট দিল
বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার তৃতীয় দিন নাজমুল হোসেন শান্তর পর মুমিনুল হকও সেঞ্চুরি
করেন। হাফসেঞ্চুরি করেন জাকির হাসান ও লিটন দাস। সব মিলে ৪ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে
দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। তাতে ৬৬২ রানের পর্বতসম টার্গেটের সামনে পড়ে
আফগানরা।
উল্লেখ্য,
এটা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টার্গেট। ১৯৩৯ সালে ডারবানে ইংল্যান্ডকে ৬৯৬
রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ইংলিশরা ৫ উইকেটে ৬৫৪ রান
তুলেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫১ রান নিউজিল্যান্ডের করা, ২০০২ সালে ক্রাইস্টচার্চে
ইংল্যান্ডের দেয়া ৫৫০ রানের টার্গেটে সাড়ে চারশ করেছিল কিউইরা। টেস্টের ইতিহাসে
সফলতম চেজ ৭ উইকেটে ৪১৮ রান। ২০০৩ সালে এন্টিগায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস
গড়েছিল ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম
ইনিংসে ১৪৬ রান করা শান্ত আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রান করে আউট হন। এটা তার চতুর্থ
টেস্ট সেঞ্চুরি। সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল ১২০ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তার ১২তম
টেস্ট সেঞ্চুরি।
এদিন
মুমিনুলের দারুণ এক কীর্তি ছুঁয়েছেন শান্ত। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে প্রথম বাংলাদেশি
হিসেবে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার দ্বিতীয় ক্রিকেটার
হিসেবে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে মুমিনুলের পাশে বসলেন ২৪ বছর বয়সী শান্ত।
এ নিয়ে এক
টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির ৯১তম নজির হলো। আর তিনবার এই কীর্তি আছে তিনজনের—ভারতের
সুনীল গাভাস্কার এবং অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নারের।
তবে এক
টেস্টে মুমিনুলের ২৮১ রানের রেকর্ডটা ভাঙতে পারলেন না শান্ত। চলমান টেস্টে শান্ত
করেছেন ২৭০ রান। তার মানে, ওই রেকর্ডটা মুমিনুলের দখলেই থাকছে।
এই টেস্টে
মোট ৩৮টি বাউন্ডারি মেরেছেন শান্ত। এটিও নতুন এক রেকর্ড। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের
বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্টে ৩৩টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন তামিম ইকবাল।
অধিনায়ক
লিটন অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। এর আগে জাকির হাসান করেন ৭১ রান। শান্তকে নিয়ে ১৭৩
রানের জুটি গড়েন জাকির। এরপর লিটন ও মুমিনুল বোর্ডে ১৪৩ রান যোগ করেন।
প্রথম
ইনিংসে আফগানিস্তানকে মাত্র ৩৯ ওভারে অলআউট করে দেয়া বাংলাদেশের বোলাররা দ্বিতীয়
ইনিংসে ২০৫ ওভার সময় পাচ্ছেন, যদি বৃষ্টি বাগড়া না দেয়। সাগর পাড়ি দিতে চলা
আফগানরা ৭ রানেই হারিয়েছে দুই উইকেট। অতিথি দলটি এরপর আর কোনো উইকেট না হারিয়ে তৃতীয়
দিন পার করে। দিনশেষে সংগ্রহ ৪৫/২। পুরো দুই দিনের খেলা বাকি, আফগানরা এখনো পিছিয়ে
৬১৭ রানে।
টেস্ট ইতিহাসে রানে সবচেয়ে বড় জয় ইংল্যান্ডের। ১৯২৮ সালে
ব্রিসবেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৬৭৫ রানে হারিয়েছিল ইংলিশরা। অবশ্য পাঁচদিনের টেস্ট
শুরুর পর সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৮ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে
অস্ট্রেলিয়াকে ৪৯২ রানে হারায় প্রোটিয়ারা। তারা অজিদের দিয়েছিল ৬১২ রানের টার্গেট।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে একমাত্র দেখায় বাংলাদেশকে ২০৯ রানের বিশাল
ব্যবধানে হারিয়েছিল আফগানিস্তান। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিতে চলল টাইগাররা।










