বিশ্বের নামকরা ফুটবল লিগগুলোয় খেলা অধিকাংশ ক্লাবেরই রয়েছে নিজস্ব ভেন্যু। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ (বিপিএল) শুরু হলেও ক্লাবগুলোর কোনো নিজস্ব স্টেডিয়াম ছিল না। এ রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটল এবার। দেশের ফুটবলের নবাগত শক্তি বসুন্ধরা কিংসের নিজস্ব ভেন্যু ‘বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা’র যাত্রা হলো।
গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বসুন্ধরা মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ পুলিশের
রেফারি আনিসুর রহমান সাগর কিক অফের বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের সূচনা ঘটে। এটাই কিংস অ্যারেনায় প্রতিযোগিতামূলক প্রথম ম্যাচ। হোম ভেন্যুর ইতিহাসের দিন বাংলাদেশ পুলিশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে যাত্রার শুরুটা স্মরণীয় করে রাখল বসুন্ধরা।
২০১৯ সালে ৫৫ বিঘা আয়তনের বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের শুরু। ক্রিকেট, ফুটবল, ফুটসাল ও ইনডোর স্টেডিয়াম অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের পরিকল্পনায়। সময়ের সঙ্গে বসুন্ধরার সাফল্যে তার পরিধি বেড়ে ৩০০ বিঘায় পরিণত হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার পুরো কমপ্লেক্সে ক্রিকেট, ফুটবল, হকির সঙ্গে বাস্কেটবল, ভলিবল, গলফ, সুইমিং ও আরচারির মতো ইভেন্ট আয়োজন করা যাবে।
বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুনে কমপ্লেক্সের পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, কিংস অ্যারেনা শুধু উপমহাদেশ নয়, আমি যতটুকু জানি, পুরো এশিয়ায় গুটিকয়েক ক্লাবের নিজস্ব মাঠ থাকার ঐতিহ্য আছে। এটা আমাদের জন্য গৌরবের।
কমপ্লেক্সের ৫০ বিঘা জমির ওপর তৈরি হচ্ছে কিংস অ্যারেনা। ইমরুল হাসান জানান, ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর কয়েক মাসের মধ্যে দুই হাজার ৫০০ লাক্সের ফ্লাডলাইট বসবে।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার আইন অনুযায়ী করা হয়েছে অ্যারেনার সবকিছু। একটি আন্তর্জাতিক মাঠের দৈর্ঘ্য হতে হবে ১০০ থেকে ১১০ মিটার ও প্রস্থ ৬৪ থেকে ৭৫ মিটারের মধ্যে। কিংস অ্যারেনার দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ও প্রস্থ ৬৮ মিটার। বিখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু আর রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ের মাঠের আয়তনও ১০৫/৬৮ মিটার। ম্যানইউ ওল্ড ট্রাফোর্ড, ম্যানসিটির ইতিহাদ স্টেডিয়ামসহ আরো অনেক মাঠের আয়তনও তা-ই।
এর চেয়ে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ছোট লিভারপুলের অ্যানফিল্ড, দৈর্ঘ্য ১০১ ও প্রস্থ ৬৮ মিটার। চেলসির স্টামফোর্ড ব্রিজের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০৩/৬৭ মিটার।
মূল পরিকল্পনায় ১৪ হাজার আসনসংখ্যা থাকলেও বর্তমানে আছে সাত হাজার। হোম ও অ্যাওয়ে দলের জন্য আধুনিক ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি ডাগআউট, প্রেসবক্স ও দর্শকদের বসার আসন। মাঠে সাত স্তরবিশিষ্ট পিচের ওপর ভাগে লাগানো হয়েছে দেশী দূর্বাঘাস। ম্যাচশেষে রয়েছে আইসবাথ নেয়ার ব্যবস্থাও। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি, বৃষ্টি হলেও পানি জমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ প্রসঙ্গে ইমরুল হাসান বলেন, পেশাদার লিগের প্রথম শর্ত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ হবে। সুতরাং হোম ম্যাচে হোম টিম সুবিধা পাবে, আমরাও সেটা পাব।










