আসন্ন কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালির। শুক্রবার ভোররাতে বিশ্বকাপের ইউরোপিয়ান প্লে-অফ রাউন্ডে নর্থ মেসেডোনিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে আজ্জুরিরা। এতে গত রাশিয়া বিশ্বকাপের পর সামনের কাতার বিশ্বকাপেও দেখা যাবে না আজ্জুরিদের।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে (৯০+২) আলেকজান্ডার ত্রাজকোভস্কির জয়সূচক গোলটি নর্থ মেসেডোনিয়াকে নিয়ে গেল প্লে-অফ রাউন্ডের ফাইনালে। এতেই শেষ হয়ে যায় ইতালির বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন।
ইতালি পা হড়কালেও ভুল করেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা। প্লে-অফের অন্য সেমিফাইনালে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে তারা। একবার করে গোলের দেখা পেয়েছেন মন্তেইরো, দিয়েগো জোতা ও ম্যাথিয়াস নুনেস। আগামী ২৯ মার্চ কাতারের টিকিট নিশ্চিতে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল-নর্থ মেসেডোনিয়া।
ঘরের মাঠ পালেরমোতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অভিযানে নেমেছিল ইতালি। প্রতিপক্ষ নর্থ মেসিডোনিয়া হওয়ায় জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই হেলে ছিল। বরং ফুটবল বিশ্ব এই ম্যাচ ছাপিয়ে ভাবনায় রেখেছিল পর্তুগাল-ইতালির প্লে-অফ ফাইনালের। কিন্তু নর্থ মেসেডোনিয়া জন্ম দিলো অঘটনের।
মাঠের লড়াইয়ে কয়েকটা গোল পাওয়ার কথা ছিল ইতালি। বল পায়ে যেন খেলেছে শুধু তারাই। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রেখেছে প্রতিপক্ষে রক্ষণভাগ। গোলের উদ্দেশ্যে শট রেখেছে ৩২টি! যদিও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র ৫টি।
এত চেষ্টার পরও যখন গোলের তালা খুলতে পারছিল না, তখন মনে হচ্ছিল গোলশূন্যভাবেই শেষ হতে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়। ঠিক সেই সময়ই আজ্জুরিদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে আচমকা এক শটে রূপকথা লিখে ফেলেন আলেকজান্ডার ত্রাজকোভস্কি। বক্সের বাইরে থেকে এই উইঙ্গারের হঠাত্ নেয়া শট ইতালি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা বুঝে ওঠার আগেই জড়িয়ে যায় জালে।
১৯৫৮ সালে প্রথমবার, এরপর ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না দ্য ব্লুজদের। অপর ম্যাচে সহজ জয়ে প্লে-অফের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ১৫ মিনিটে পর্তুগিজদের এগিয়ে নেন মন্তেইরো। ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দিয়েগো জোতা। ৬৫ মিনিটে বুরাক ইলমাজের লক্ষ্যভেদে তুরস্ক খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে মাথিয়াস নুনেস জাল খুঁজে পেলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় পর্তুগালের। নিজের শেষ বিশ্বকাপে খেলার আশাও বেঁচে থাকলো রোনালদোর।










