মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২-১-এ সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। এবার চট্টগ্রামের সাগরিকায় দুই দল লড়বে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এ সিরিজ খেলতে দুই দলই এখন বন্দরনগরীতে ঘাঁটি গেড়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে (সাবেক জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম) ২৭, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এ সিরিজ সামনে রেখে গতকাল সফরকারীরা দুপুরে ও স্বাগতিকরা সন্ধ্যায় অনুশীলন সেরেছে সাগরিকায়।
আজ শতবর্ষের পুরনো ব্রিটিশ শাসনামলের স্মৃতিবিজড়িত সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিংয়ের (সিআরবি) সামনে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে অংশ নেবেন দুই দলের অধিনায়ক। একদিন পরই এ ট্রফির জন্য সাগরিকায় ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
বৃহস্পতিবার শেষ ওয়ানডে ম্যাচ চলার সময়ই প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে ফিরেছেন লিটন দাস। এশিয়া কাপের শেষাংশ ও এর পরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি লিটন। তার অনুপস্থিতিতে জাকের আলীর নেতৃত্বে খেলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানদের ৩-০-তে হারায় বাংলাদেশ। যদিও পরে ওয়ানডে সিরিজে একই ব্যবধানে হেরে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বাদ পড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে, তিনি এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজে স্কোয়াডে ছিলেন।
টি-টোয়েন্টিতে দুই দল রয়েছে বিপরীত মেরুতে। বাংলাদেশ টানা চার সিরিজ জিতলেও ক্যারিবীয়রা সর্বশেষ পাঁচটির মধ্যে চারটিতেই হেরেছে! এর মধ্যে আবার টানা হার তিন সিরিজে। হারের বৃত্ত ভেঙে এবার জয়ে ফেরার চ্যালেঞ্জ শাই হোপদের সামনে।
মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজে ছিল স্পিনারদের দাপট। কালো মাটির ব্যবহার আর ধীরগতির উইকেট নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও সরাসরি তা করেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে সাগরিকায় ভালো উইকেটের প্রত্যাশা করছেন তিনি। স্যামি বলেন, ‘আমি সব সময়ই হোম অ্যাডভান্টেজ নেয়ার পক্ষে। বাংলাদেশ দলকে তো আমি বলতে পারি না, কী ধরনের উইকেট তৈরি করতে হবে। আমার দল যেন দেশের বাইরে খেলতে গেলে যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর মতো দক্ষতা অর্জন করে, সেদিকেই আমার মনোযোগ থাকে।’
উইকেট নিয়ে সমালোচনা না করে তিনি বরং বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখলেন। স্যামি বলেন, ‘উইকেটটা আমাদের কাছে নতুন ছিল। কিন্তু এক দল এ উইকেটে খেলল, আরেক দল অন্যটায়; বিষয়টা তো এমন নয়। সবাই একই জায়গায় খেলেছে। এখানেই বোঝা যায়, কে মানিয়ে নিতে পেরেছে, কে পারেনি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আমাদের চেয়ে এ জায়গায় এগিয়ে ছিল।’
টি-টোয়েন্টিতে ১৯ বারের মোকাবেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়টি ও বাংলাদেশ আটটি জয় পেয়েছে। দুই দল মোট আটটি সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চারটি ও বাংলাদেশ তিনটি জিতেছে, আরেকটি ড্র হয়। দুই দলের সর্বশেষ দেখায় একপেশেভাবে জয় পায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখায় লিটন দাসের দল। সেন্ট ভিনসেন্টে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি ম্যাচ।
এবার এমন এক সময়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ক্যারিবীয়রা, যখন সদ্যই আইসিসির সহযোগী দেশ নেপালের কাছে ১-২ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছে তারা। এছাড়া দুইবারের সাবেক বিশ্বজয়ীরা নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে বছরজুড়েই বিপর্যস্ত ছিল। জুনে ইংল্যান্ডের মাঠে ৩-০-তে সিরিজ হারের পর আয়ারল্যান্ডকে একমাত্র ম্যাচে হারায় তারা। পরে দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা পাঁচ ম্যাচে হেরেছে তারা। এরপর মায়ামিতে পাকিস্তানের কাছে ১-২ ব্যবধানে ও আরব আমিরাতে নেপালের কাছে একই ব্যবধানে সিরিজে পরাজিত হয় মেরুন রঙারা। চলতি বছর ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে ১২টিতেই হেরেছেন শাই হোপ, আকিল হোসেনরা।
এদিকে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ রয়েছে দারুণ ফর্মে। এ মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে আফগানিস্তানকে ৩-০-তে হারিয়ে দেয় টাইগাররা, যে সিরিজে আবার ছিলেন না নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। তার জায়গায় জাকের আলী নেতৃত্ব দেন টি-টোয়েন্টি দলকে।
এশিয়া কাপে হংকং, আফগানিস্তান ও শ্রীলংকাকে হারানোর পর সুপার ফোরে ভারত ও পাকিস্তানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ দল। এশিয়া কাপের আগে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার বিপক্ষে টানা তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়েছে নেপাল সিরিজে অভিষিক্ত বামহাতি পেসার র্যামন সিমন্ডস ও ব্যাটসম্যান আমির জাঙ্গুকে। এদিকে ঢাকায় স্পিনের দাপট দেখার পর খারি পিয়েরেকে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে যুক্ত করে শক্তি বাড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডটি এখন ১৪ জনের। ইনজুরির কারণে আগেই ছিটকে পড়েন শামার জোসেফ ও জেডেন সিলস।










