উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৭ গোলের থ্রিলারে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল ম্যানচেস্টার সিটি। ২৬ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা) ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে সিটি জিতেছে ৪-৩ গোলে।
রোমাঞ্চকর এক লড়াই এক দেখল ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচে তিন তিনবার দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জেতা হয়নি সিটির। মাত্র এক গোলের লিড নিয়ে স্পেনে পরের লেগ খেলতে যাওয়া সিটিজেনরা একটু হতাশই, কারণ তাদের ১০ গোল করার সুযোগ এসেছিল।
ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানো এ ম্যাচে মাত্র ২ মিনিটের সময় কেভিন ডি ব্রুইনের হেডে এগিয়ে যায় ম্যানসিটি। রিয়ালকে হতবিহ্বল করে দিয়ে ১১ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এরপর ব্যবধান ৪-০ করারও সুযোগ এসেছিল পেপ গার্দিওলার দলের জন্য। যদিও ৩৩ মিনিটে ব্যবধান ২-১ করেন পিএসজি ও চেলসির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা করিম বেনজেমা।
৫৩ মিনিটে ফিল ফডেনের হেড ব্যবধান আবারো আগের জায়গায় নিয়ে যায়। কিন্তু অতিথিরা জবাব দিল দুই মিনিটের মধ্যেই। ৫৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অনবদ্য এক সলো গোলে ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নদের রেসে রাখেন।
৭৪ মিনিটে ফের কার্লো অ্যানচেলত্তির হৃদয় ভেঙে রিয়ালের জালে বল পাঠালেন বের্নার্দো সিলভা (৪-২)। জটলার মধ্য থেকে বাম পায়ের জোরালো শটে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর ব্যবধান ৫-২ করার সুযোগ এসেছিল রিয়াদ মাহরেজের সামনে, যদিও তিনি সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি। ভুল করেনি রিয়াল। ফ্রি-কিকে সময় আগুয়ান বেনজেমাকে রুখতে দিয়ে হ্যান্ডবল করে বসেন সিটির ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে। তাতে পেনাল্টি পায় রিয়াল। বেনজেমা পানেনকা শটে গোল করে ব্যবধান ৪-৩ করলে স্বস্তি ফেরে রিয়াল শিবিরে।
পরের সপ্তাহে কী অপেক্ষা করছে রিয়ালের জন্য? ইতিহাস বলছে, ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সেমিফাইনালের প্রথম লেগে হারল এবং আগে যে পাঁচবার প্রথম লেগে হেরেছে সেই পাঁচবারই তারা ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়।
সেমিফাইনালের কোনো ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল সিটি ও রিয়াল। ১৯৯৫ সালে আমস্টারডামে আয়াক্সকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ এবং ২০১৮ সালে অ্যানফিল্ডে এএস রোমাকে প্রথম লেগে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল লিভারপুল।
জয় শেষে সিটির পর্তুগিজ তারকা সিলভা বলেন, সত্য বলতে কী, প্রথম ২০ মিনিট আমরা অনেক অনেক ভালো খেলেছি। যেভাবে আমরা চাপ সৃষ্টি করেছি, বলের নিয়ন্¿ণ রেখেছি ও সুযোগ তৈরি করেছি তা অসাধারণ। ৯০ মিনিটের কথা বললে, আমরা আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারতাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ৪-২ গোলের ব্যবধানটা পেলাম না। এটা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং আমরা খেলছি বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে। তাই এটা আমাদের জন্য ভালো ফলই বলতে হবে। এখন পরের ম্যাচের অপেক্ষায়।
তিনি আরো বলেন, আমরা যেভাবে খেলেছি তাতে সমর্থকদের গর্ব করা উচিত। আমরা আরো গোল করতে পারতাম, তবে এটাই ফুটবল। তারা সুযোগ লুফে নিয়েছে। আমরা খানিকটা দুর্ভাগাও।
বিবিসি










