আয়ারল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে ২১৪ রানে অলআউট
করার পর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বসে। যদিও সাকিব
আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের দেড়শ রানের পার্টনারশিপে সেই বিপদ কাটিয়ে ওঠে
স্বাগতিকরা। আজ বুধবার দ্বিতীয় দিন সাকিব ৮৭ রান করে বিদায় নেয়ার পর মুশফিক
ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি পেয়েছেন। রান পেয়েছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজও।
দলগত প্রচেষ্টায় প্রথম ইনিংসে ৩৬৯ রান তুলে অলআউট হলে স্বাগতিকরা পায় ১৫৫ রানের
লিড।
ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও উজ্জ্বল সাকিব।
প্রথম ওভারে একটিসহ ১১ রানে নিয়েছেন দুটি উইকেট। সঙ্গে আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলামও
দুটি উইকেট নিলে আইরিশরা ১৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকে। অতিথিরা
দিন শেষ করে চার উইকেটে ২৭ রান নিয়ে। তারা ছয় উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম
ইনিংস থেকে এখনো ১২৮ রানে পিছিয়ে। সাকিব ও মুশফিকের কর্তৃত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের
সুবাদে তৃতীয় দিনই জয়ের সুবাস পাচ্ছে কি বাংলাদেশ?
প্রথম দিন শেষ
বিকেলে দলীয় দুই রানের মাথায় নাজমুল হোসেন শান্তকে ও ৩৪ রানে তামিম ইকবালকে হারায়
বাংলাদেশ। ভালো খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মুমিনুল হক। যদিও আজ সকালে নামের পাশে আর
পাঁচ রান যোগ করে তিনি আউট হয়ে যান (১৭)।
এরপর সাকিব ও
মুশফিকের অনবদ্য এক পার্টনারশিপ। ১৮৮ বলে ১৫৯ রান যোগ করেন দুজন। এ পথে সাকিব
মাত্র ৪৫ বলে ও মুশফিক ৬৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। তাদের দৃঢ়তায় ৩৭ ওভারে তিন উইকেটে
১৭০ রান নিয়েম মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশন শুরুর আধা
ঘণ্টার মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান সাকিব। ৯৪ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ১৪টি
বাউন্ডারিতে। তার উইকেট নেন স্পিনার অ্যান্ড ম্যাকব্রাইন।
মুশফিক ও সাকিবের কল্যাণে
প্রথম সেশনে ২৭ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান তোলার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ।
এরপর লিটন দাসকে নিয়ে ৮৪ বলে ৮৭ ও মিরাজকে নিয়ে ৫৭ বলে ৪৫ রান যোগ করে দলের
সংগ্রহ তিনশ পার করার মুশফিক। এ পথে তিনি টেস্টে দশম সেঞ্চুরি তুলে নেন। তার
সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় ১৩৫ বলে। ১৬৬ বলে ১২৬ রানের ইনিংস খেলে তিনি স্পিনার অ্যান্ড
ম্যাকব্রাইনের শিকার হন।
টেস্ট সেঞ্চুরিতে বাংলোদেশে দ্বিতীয়
অবস্থানে রয়েছেন মুশফিক। তার সমান দশটি সেঞ্চুরি রয়েছে তামিম ইকবালের। আর সর্বোচ্চ
১১টি সেঞ্চুরি করে শীর্ষে রয়েছেন মুমিনুল হক। টেস্টে মুশফিকের সর্বোচ্চ স্কোর ২১৯
রান।
টেস্ট রানে বাংলাদেশে শীর্ষ মুশফিক। ৮৫
টেস্টে মুশফিক করেছেন ৫৪৪৭ রান। তার সেঞ্চুরি ১০টি, আর হাফসেঞ্চুরি ২৫টি। তামিম ৭০
টেস্টে ৫১০৩ রান করে তালিকায় দুইয়ে অবস্থান করছেন। এরপর সাকিব (৪৪৫৪) ও মুমিনুল
(৩৬৩৫)।
এছাড়া মিরাজ ৮০ বলে ৫৫ ও লিটন ৪১ বলে ৪৩
রান করেন। ম্যাকব্রাইন ১১৮ রানে ছয়টি ও মার্ক অ্যাডায়ার ৬৪ রানে দুটি উইকেট নেন।










