চলতি বিপিএলে অনবদ্য পারফর্ম করে চলেছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। সাকিব ব্যাট ও বল হাতে সমান পারঙ্গমতা দেখিয়ে বরিশালকে প্রায় একাই টানছেন এবং জায়গা করে দিয়েছেন শীর্ষ দুইয়ে। এ পথে টানা পাঁচ ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’
হওয়ার ইতিহাসও গড়েছেন তিনি। জাতীয় দলের আরেক জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার তামিম চারটি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরিসহ ৪০৭ রান করে গতকাল পর্যন্ত ছিলেন চার্টের শীর্ষে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই দুই স্তম্ভের সফলতার পাশাপাশি চলতি বিপিএলে চমক দেখাচ্ছেন একঝাঁক তরুণ। এদের মধ্যে আবার বিশেষভাবে নজর কাড়ছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পেস বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও ফরচুন বরিশালের ব্যাটার মুনিম শাহরিয়ার।
সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা পেস বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ১২.১৫ গড়ে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এর মধ্যে হ্যাটট্রিকও করেছেন একটি। ২৯ জানুয়ারি সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে বিপিএল অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে তাক লাগিয়ে দেন এই বাঁহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার। মৃত্যুঞ্জয় চমক ওখানেই শেষ নয়। ১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের বিপক্ষে ১২ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। আর গতকাল চট্টগ্রামের প্লে-অফে ওঠা জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। নিয়েছেন তিন উইকেট। তার গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ৫৭ বলে ৯১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে চট্টগ্রামকে জেতান ইংলিশ ব্যাটার উইল জ্যাকস।
২০ বছর বয়সী মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের মূল্যায়ন, সে তো অসাধারণ বোলিং করছে। আমি তাকে নিয়ে আশাবাদী। হয়তো শিগগিরই সে জাতীয় দলে খেলবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। দেশে তো এখন পেস বোলিংয়ের একটা ব্যাংক তৈরি হয়েছে রীতিমতো। যখন আমাদের একটা ব্যাংক থাকবে তখন যেকোনো সময় রিপ্লেসমেন্ট করা সম্ভব হবে। ওটিস গিবসন (সাবেক পেস বোলিং কোচ) বেশ ভালো কিছু কাজ করে গেছেন বলে পেসার তৈরি হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত বললেন, আমি তো ওকে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ থেকেই চিনি। তবে ওর সম্ভবত আরো কিছুদিন ‘এ’ দল কিংবা এইচপিতে খেলা উচিত। একটি বিপিএল দিয়েই বিচার করা উচিত হবে না। এত তাড়াতাড়ি চিন্তা করা উচিত নয়। জাতীয় দলে একটু পরে এলে ওর জন্য ভালো।
চলতি বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশাপাশি উচ্চারিত হচ্ছে বরিশালের ব্যাটার মুনিম শাহরিয়ারের নাম। এবার সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে বরিশাল। দলটির এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান সাকিবের, মূল্যবান অবদান রাখেন ২৩ বছর বয়সী মুনিমও। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে ৩৩.৫০ গড়ে ও ১৬৭.৫০ স্ট্রাইট রেটে ১৩৪ রান করেছেন তিনি। ৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বিপক্ষে ২৫ বলে ৪৫, পরদিন সিলেটের বিপক্ষে ২৮ বলে ৫১ ও ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিপক্ষে ২৫ বলে ৩৭ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এই তিন ইনিংস দিয়েই বাজিমাত করেছেন, এসেছেন আলোচনায়।
মুনিম শাহরিয়ারকে নিয়ে এখন ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনা। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ব্যাটাররা যখন চার-ছক্কা খেলতে রীতমতো ধুঁকতে থাকেন তখন কিনা অবলীলায় বলকে সীমানার ওপাড়ে আছড়ে মারেন মুনিম। তার এই সাহসী ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে রকিবুল হাসান বলেন, হ্যাঁ সে বেশ ভালো করছে। তবে উইকেট ভালো ছিল। চিটাগংয়ে ভালো ছিল, সিলেটেও। এখন ঢাকার উইকেট বেশ স্লো।
মুনিম শাহরিয়ারের ভালো ব্যাটিংয়ে মোটেও অবাক নন হাসিবুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, সে তো অনেক আগে থেকেই খেলে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ছিল। ভালো খেলছে। বাংলাদেশ চাইলে টি২০ বিশ্বকাপে তাকে নিতে পারে। সামর্থ্য আছে। সম্ভবত জাতীয় দলে চান্স পেলে সে ভালো করবে। নাইম শেখের যেমন স্ট্রাইক রেট খুব কম, সেক্ষেত্রে চাইলে মুনিমকে নিতে পারে।
বিপিএল থেকে ক্রিকেটার উঠে আসার প্রত্যাশা নিয়ে রকিবুল হাসান বলেন, এবার তো বেশ কয়েকটি ছেলে ভালো খেলছে। তবে প্রতিটি বিপিএল এলেই পাঁচ-সাতজন করে ক্রিকেটার বেরিয়ে আসবে, এমনটা আমরা আশাও করি না। এটা তো আলাউদ্দিনের চেরাগ নয়। এই ফরম্যাটে দুটি ভালো প্লেয়ার পেলে চার বছরে আটটি প্লেয়ার পাব। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আরো কিছু ভালো খেলোয়াড় পেতে পারতাম। অনেকে আছে ধারাবাহিক নয়। আমি আশা করি, সুযোগগুলো যেন তরুণরাা ভবিষ্যতেও কাজে লাগায়।










