ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের
রেকর্ড এরই মধ্যে ভেঙেছেন। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো সুপারস্টার এত
অল্প বয়সে এমন কীর্তির কথা কল্পনাও করেননি। লামিনে ইয়ামাল এই মধ্যে ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে
দিয়েছেন। রোববার ইউরোর ফাইনাল জিতে রূপকথাকে পরিপূর্ণতা দেয়ার দিন তার।
ইউরোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়,
সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে গোলে অ্যাসিস্ট করা ও সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার কীর্তি এরই মধ্যে গড়েছেন
ইয়ামাল। এবার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোর শিরোপার স্বাদ নেয়ার কীর্তির সামনে তিনি,
যদি রোববার তার দল স্পেন বার্লিন ফাইনালে হারাতে পারে ইংল্যান্ডকে।
তিনি শুধু রেকর্ডই ভাঙছেন
তা নয়, দারুণ স্টাইলেই সব কীর্তি গড়ে চলেছেন। একটি গোল করেছেন, আর তিনটি গোলে অ্যাসিস্ট
করেছেন। ২০২৪ সালের ইউরোতে এত গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন শুধু তারই সতীর্থ দানি ওলমো।
ইউরোর পারফরম্যান্স দিয়ে
মুগ্ধ করেছেন বিশ্বকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে অবিশ্বাস্য এক গোলের পর ইংলিশ
গ্রেট গ্যারি লিনেকার তো বলেই দিয়েছেন, ‘সুপারস্টারের জন্ম হলো’। গোলটিকে টুর্নামেন্টের
সেরা বলেও অভিহিত করছেন অনেকে।
বার্সেলোনায় খেলা ইয়ামাল
আজই পা দিয়েছেন ১৭ বছরে। এই কিশোর উইঙ্গার আলোচনায় রয়েছেন মূলত বলের ওপর তার অবিশ্বাস্য
রকমের নিয়ন্ত্রণ, রেশমি ছোঁয়া আর দারুণ সব পাসের বাহারের কারণে । ১৭ বছরে পা দেয়ার
আগেই বার্সেলোনার হয়ে ৫১টি ম্যাচ খেলেছেন। কাতালানদের হয়ে সাতটি গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট
করেছেন আরো সাত গোলে। স্পেনের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে তিন গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট
ছয়টি।
কিংবদন্তি ফুটবলার মেসি
কিংবা রোনালদোর কেউই ১৬ বছরে ক্লাব কিংবা দেশের হয়ে এত বেশি ম্যাচ খেলার কথা ভাবেননি।
এমনকি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরওয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডও।
১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মোনাকোর হয়ে চার ম্যাচ খেলেন এমবাপ্পে, আর নরওয়ের দ্বিতীয় বিভাগের
দল ব্রাইন ও শীর্ষ লিগের দল মোল্ডের হয়ে মোট ২৩ ম্যাচ খেলেন হালান্ড। আবার ১৬ বছরে
তারকা হিসেবে আবির্ভুত ওয়েন রুনি ১৭ পূর্ণ হওয়ার আগে এভারটনের জার্সিতে ১০ ম্যাচ খেলে
তিন গোল করেন।
এত সব সুপারস্টারকে পেছনে
ফেলা লামিনে ইয়ামালের সবে শুরু!
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে
নেমেই রেকর্ড গড়েন ইয়ামাল। তিনিই ইউরোতে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। ওই ম্যাচে দানি কারবাহালের
গোলে অ্যাসিস্ট করে গড়েন আরেক রেকর্ড। তিনিই ইউরোতে সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়।
সেমিফাইনালে গোল করে ভেঙেছেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপে গড়া ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দুটি রেকর্ড।
ইউরো কিংবা বিশ্বকাপে তিনিই এখন সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এবং উভয় আসরের সেমিফাইনালেও সর্বকনিষ্ঠ
লামিনে ইয়ামাল। মরোক্কান বাবা ও ইকুয়াটোরিয়াল গিনির মায়ের ঔরসে জন্মগ্রহণ করা ইয়ামাল
ইউরো জিততে পারলে আরেকবার ইতিহাসের অংশ হবেন।










