ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ২০২৩-২৪ মৌসুমের জন্য ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। এ তালিকার একেবারে শীর্ষ গ্রেড অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এ প্লাস’ গ্রেডে জায়গা ধরে রেখেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজা। 

গতবার চুক্তিতে ছিল ২৬ জন, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩০ জনের। যদিও ৩০ জনের তালিকায় জায়গা হয়নি কৃতী ব্যাটসম্যান শ্রেয়াস আইয়ার ও ইশান কিশানের। ন্যূনতম ম্যাচ খেলার শর্ত পূরণ করার পরও ‘বি’ গ্রেডে জায়গা হারিয়েছেন শ্রেয়াস। গত নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতকে ফাইনালে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর পরও তিনি বোর্ডের চুক্তিতে না থাকায় সবাই বিস্মিতই হয়েছেন। বোর্ডের নির্দেশের পরও রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ না খেলায় ‘শাস্তি’ হিসেবে শ্রেয়াস ও কিশানকে এবারের চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সর্বশেষ চুক্তির সময় শুরু হয় গত বছর ১ অক্টোবর। সেই সময় থেকে শ্রেয়াস আইয়ার চারটি টেস্ট, ১২টি ওয়ানডে ও দুটি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। এতে তার শর্ত পূরণ হয়ে যায়। কেননা চুক্তিতে জায়গা পেতে হলে নির্দেশিত সময়ে তিনটি টেস্ট কিংবা আটটি ওয়ানডে কিংবা দশটি টি২০ ম্যাচ খেলতে হয়। 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজেও দুটি টেস্ট খেলেছেন শ্রেয়াস। যদিও ভালো পারফর্ম না করায় তিনি দল থেকে বাদ পড়েন। এবার বাদ পড়লেন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও। 

শ্রেয়াস অবশ্য মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছিলেন, পিঠের চোটের কারণে তিনি রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে পারবেন না। যদিও এখন সুস্থ হয়ে ওঠায় তিনি গতকাল শুরু হওয়া সেমিফাইনালে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।  

উইকেটকিপার ব্যাটার কিশান আগের চুক্তিতে ছিলেন ‘সি’ গ্রেডে। সর্বশেষ চুক্তির সময়কালে তিনি দুটি টেস্ট, ১৯টি ওয়ানডে ও দশটি টি২০ খেলেছেন। বর্তমান চক্রেও তিনি দুটি ওয়ানডে ও তিনটি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। কাজেই তার শর্ত পূরণ হয়েছে। এর পরও বাদ পড়লেন কিশান। তিনি বিভিন্ন সময়েই ভারতের স্কোয়াডে ছিলেন। গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নেন। সেই থেকে কোনো ফরম্যাটেই আর ভারতের স্কোয়াডে তাকে নেয়া হয়নি। 

চুক্তির দ্বিতীয় স্তরে (গ্রেড-এ) রয়েছেন স্পিনার রবিচন্দ্র অশ্বিন, পেস বোলার মোহাম্মদ শামি ও মোহাম্মদ সিরাজ, লোকেশ রাহুল, শুভমান গিল ও হার্দিক পান্ডিয়া। সিরাজ, গিল ও রাহুল তিনজনই ‘বি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে উঠে এসেছেন।

চুক্তির ‘বি’ গ্রেডে আছেন টি২০ স্পেশালিস্ট সূর্যকুমার যাদব, ঋষভ পন্ত, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল ও উদীয়মান সুপারস্টার জশস্বী জয়সাল। ইংল্যান্ডের সঙ্গে চলমান টেস্ট সিরিজে দু দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন জয়সাল। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে টেস্ট অভিষেক ঘটা জয়সাল এই প্রথম বোর্ডের চুক্তির আওতায় এলেন। 

সর্বশেষ স্তরে (গ্রেড-সি) জায়গা পেয়েছেন মূলত টি২০ স্পেশালিস্টরা। এই গ্রেডে আছেন রিংকু সিং, তিলক ভার্মা, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, শার্দূল ঠাকুর, শিভাম দুবে, রবি বিষ্ণয়, জিতেশ শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর, মুকেশ কুমার, সাঞ্জু স্যামসন, আরশদীপ সিং, কেএস ভারত, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আবেশ খান ও রজত পতিদার। 

এবারের চার গ্রেডে কত বেতন, সেটি উল্লেখ করেনি বিসিসিআই। তবে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, গতবারের চেয়ে বেশিই হওয়ার কথা। গতবার ‘এ প্লাস’ গ্রেডে ৭ কোটি রুপি, ‘এ’ গ্রেডে ৫ কোটি রুপি, ‘বি’ গ্রুডে ৩ কোটি রুপি ও ‘সি’ গ্রেডে ১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক ছিল। 

বিসিসিআই এটা জানিয়েছে, ঠিক গতবারের মতো কোনো ক্রিকেটার যদি চুক্তির সময়কালে তিনটি টেস্ট কিংবা আটটি ওয়ানডে কিংবা দশটি টি২০ ম্যাচ খেলে তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সি’ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধ্রুব জুরেল কিংবা সরফরাজ খান এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছেন। তারা যদি ধর্মশালায় সিরিজের পঞ্চম টেস্টটি খেলার সুযোগ পান তবে দুজনই ‘সি’ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।

বিসিসিআইয়ের চুক্তির তালিকা

গ্রেড-এ প্লাস: রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহ, রবীন্দ্র জাদেজা। গ্রেড-এ: রবিচন্দ্র অশ্বিন, মোহাম্মদ শামি, মোহাম্মদ সিরাজ, লোকেশ রাহুল, শুভমান গিল, হার্দিক পান্ডিয়া। গ্রেড-বি: সূর্যকুমার যাদব, ঋষভ পন্ত, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, যশস্বী জয়সাল। গ্রেড-সি: রিংকু সিং, তিলক ভার্মা, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, শার্দূল ঠাকুর, শিবাম দুবে, রবি বিষ্ণয়, জিতেশ শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর, মুকেশ কুমার, সাঞ্জু স্যামসন, আরশদীপ সিং, কেএস ভারত, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আবেশ খান ও রজত পতিদার।