অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হ্যাটট্রিকে ভর করে ভুটানকে ৮-০ গোলে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আজ কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল লাল সবুজ জার্সিধারীরা। 

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সিরাত জাহান স্বপ্নার গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ৩০ মিনিটে কৃষ্ণা রানী সরকার দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন। এর ছয় মিনিট পর স্কোরশিটে নাম লেখান ঋতুপর্ণা চাকমা।

৫৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করেন সাবিনা। দুই মিনিট পর জটলার মধ্য থেকে ভুটানের জালে বল পাঠান মাসুরা (৬-০)। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে বেসামাল হয়ে পড়া ভুটানের বক্সে তৈরি জটলার মধ্যে বাংলাদেশের সপ্তম গোল করেন তহুরা পারভিন (৭-০)। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবিনা।  

আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক নেপাল খেলবে পাঁচবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে। আগামী সোমবার একই মাঠে ষষ্ঠ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। 

মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গত পাঁচ আসরে ভুটানের রেকর্ড খুবই দুর্বল। এর আগে প্রতিপক্ষের জালে মাত্র তিনবার গোল দিতে পেরেছে দলটি।

এবার তারা ‘বি’ গ্রুপে খেলেছে শ্রীলংকা ও নেপালের সঙ্গে। এই তিন দলের মধ্য থেকে সেমিফাইনালে নেপালের সঙ্গী হয়েছে ভুটানও। এমনকি গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকাকে তারা দিয়েছে ৫ গোল, বিপরীতে একটিও হজম করেনি। এর আগে কখনই কোনো প্রতিপক্ষকে এক ম্যাচে ৫ গোল দিতে পারেনি ছোট্ট এই দেশের মেয়েরা। এমনকি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচও জেতেনি ভুটান! এবার তাই ভালো করার আশা ছিল। যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারল না তারা। 

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের পর সেমিফাইনালেও দাপুটে জয়।এবার শিরোপার ফেভারিট হয়ে উঠেছ গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে, পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে ও ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজরা।

সাফে আগের পাঁচ আসরে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। বাংলাদেশের সেরা অর্জন ২০১৬ সালের শিলিগুঁড়ি আসরে হওয়া রানার্সআপ ট্রফি জয়। এবার শিরোপা জিততে মরিয়া সাবিনা-মারিয়ারা।