আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল রোববার। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। শিরোপা থেকে মাত্র একটি জয় দূরে মেগ ল্যানিং ও হিদার নাইটের দল। হ্যাগলি ওভালে কাল অজিরা সপ্তম শিরোপা জিতবে নাকি নাকি ইংলিশরা পঞ্চম শিরোপার উত্সব করবে?



নারী বিশ্বকাপে এর আগের ১১ আসরে ১০টিতেই চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া ছয়বার ও ইংল্যান্ড চারবার মুকুট জয় করেছে। এই দুই দলের বাইরে একমাত্র শিরোপা জিততে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। ২০০০ সালে কিউইরা শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়।


১৯৭৩ সালে প্রথমবার নারী বিশ্বকাপের আসর বসে। ১৯৭৩ ও ১৯৭৮ সালে চার দল নিয়ে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতির বিশ্বকাপ হয়েছিল। পয়েন্টের ভিত্তিতে প্রথম আসরে ইংল্যান্ড এবং দ্বিতীয় আসরে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই দুইবার রানর্সআপও হয়েছিল দুদল। ১৯৮২ সাল থেকে শুরু হয় গ্রুপ পর্ব, রাউন্ড রবিন লিগ, কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনালের নকআউট পদ্ধতির বিশ্বকাপ। এ পদ্ধতিতে হচ্ছে দশম আসর। এটা অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ ফাইনাল।


১৯৮২ সালে এই ক্রাইস্টচার্চেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয় অজি ও ইংলিশ নারীরা। সেবার ৩ উইকেটের জয়ে দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে অজিরা। ১৯৮৮ সালে ফের বিশ্বকাপ ফাইনালে লড়ে দুই দল, ওইবার অজিদের জয় ৮ উইকেটের। অস্ট্রেলিয়া এরপর আরো তিনবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ মুকুট জিতলেও ফাইনালে কখনো পায়নি ইংল্যান্ডকে। সে হিসেবে, আজ তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে দেখা হবে দুই দলের।


এবারো পারফরম্যান্স ও শক্তিতে ইংল্যান্ড থেকে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৫ সালের আসরে অজিরা অপরাজিত থেকে শিরোপা জিতলেও ল্যানিংয়ের দলটিকেই বলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা দল। গত চার বছরে তারা মাত্র একটি ওয়ানডেতে হেরেছে। ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত তারা খেলেছে ৩৫টি ওয়ানডে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গত চার বছরের বেশি সময় ধরে অপরাজিত ল্যানিং বাহিনী। ২০১৭ সালের অক্টোবরে অজিদের বিপক্ষে ২০ রানের একটি জয় রয়েছে ইংলিশদের। শেষ সাতবারের দেখায় পরাস্ত হয়েছে ইংলিশ নারীরা। চলতি বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন লিগে একবারের দেখায় ৩ উইকেটে হেরেছে নাইটের দল।


চলতি ১২তম ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়া। সব ম্যাচ জিতে রাউন্ড রবিন লিগে শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় ১৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। অন্যদিকে র্যাংকিংয়ের তিনে থাকা ইংল্যান্ড রাউন্ড রবিন লিগে শুরুর তিন ম্যাচেই টানা হেরে খাদের কিনারায় চলে যায়। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের চার ম্যাচ জিতে তিন নম্বর অবস্থানে থেকে জায়গা পায় সেমিতে। শেষ চারে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৩৭ রানে বিধ্বস্ত করে নাইটবাহিনী।


উজ্জীবিত ইংলিশ ব্রিগেড ও অপ্রতিরোধ্য অজিদের এই ফাইনাল দারুণ জমে ওঠারই দাবি রাখে। আইসিসি ও ক্রিকইনফো