গোলাম রব্বানী ছোটন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ। নারী ফুটবলে একের পর এক সাফল্য বয়ে এনে গড়েছেন ইতিহাস। নারীদের জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে ঈর্ষণীয় সব সাফল্য এনে দিয়েছেন দেশকে। এছাড়া সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ (দুবার), সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ (একবার), এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ গার্লস রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপ (দুবার) ও বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ উইমেনস ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড কাপের শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে ছোটনের।  গত বছর নেপালের মাঠে সাফ শিরোপা জয় করে আনা ছোটন এখন অনূর্ধ্ব-১৭ দল নিয়ে রয়েছেন সিঙ্গাপুরে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব (প্রথম রাউন্ড) খেলছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। প্রথম ম্যাচেই তারা ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তুর্কমেনিস্তানকে। আজ দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। এ ম্যাচেও জিততে চায় বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর থেকে টেলিফোনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন ছোটন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম 

প্রথম রাউন্ড, এরপর দ্বিতীয় রাউন্ড। ২৯ দল থেকে চূড়ান্ত পর্বে উঠবে চারটি দল। বাংলাদেশকে নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

এখনই চূড়ান্ত পর্ব নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা প্রথম রাউন্ড খেলতে আসছি, আপাতত এটা নিয়েই ভাবছি। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে ভাবব, তারপর অন্য কিছু।

তুর্কমেনিস্তানকে হারানো ম্যাচে মেয়েদের পারফরম্যান্স কেমন লেগেছে আপনার?

ম্যাচের শুরু থেকে দল ভালো খেলেছে। বিশেষ করে শুরু থেকে চাপ প্রয়োগ করে খেলার ধরনটা ছিল দেখার মতোই। সত্যি বলতে, মেয়েদের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ আমি। প্রতিদিনই আমাদের মেয়েরা কঠোর অনুশীলন করে। জিমসহ সবকিছুই করে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তারা একসঙ্গে আছে। আর ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে যে ভুলগুলো হয়েছিল, তা নিয়ে গত এক মাস কাজ হয়েছে। এ ম্যাচে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। এ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের বেশকিছু খেলোয়াড় আছে, যারা ঢাকায় খেলেছে। এ দলটির অভিজ্ঞতা কিন্তু কম নয়। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা নতুন। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ধরেই খেলেছি। আমরা যে প্রতিনিয়ত উন্নতি করছি তার প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো মেয়েদের উন্নতি।

সিঙ্গাপুর ম্যাচ নিয়ে কতটা আশাবাদী?

সিঙ্গাপুর ভালো দল। বেশকিছু ভালো খেলোয়াড় আছে তাদের। আমাদের টিম মিটিং হয়েছে, আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছি, মেয়েদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলব। এটা পরিষ্কার যে আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামব এবং ইনশাআল্লাহ আমরা জিতব।

জাপান, চীনের মতো দলের সঙ্গে কি আমাদের মেয়েরা লড়াই করতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?

এরই মধ্যে ২০১৬-১৭ সালে তো তাদের সঙ্গে খেলেছি।  আমি মনে করি যত বেশি খেলা হবে মেয়েরা তত বেশি উন্নতি করবে, তত বেশি পরিণত হবে ও তত বেশি বড় দলের সঙ্গে লড়াই করতে পারবে। আমরা তো ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও লড়াই করেছি। অথচ একটি সময় তাদের নিয়ে একটা ভয় ছিল। ভালো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ যত পাবে ততই আত্মবিশ্বাস বাড়বে মেয়েদের, পারফরম্যান্সে উন্নতি হবে।’

মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই পর্বে অর্থাভাবে মেয়েদের দল পাঠায়নি বাফুফে। এ নিয়ে কি আপনি হতাশ?

এ নিয়ে আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না।

মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য মানেই এখন আপনার নাম। আপনি একের পর এক ইতিহাস গড়েছেন। কোন স্বপ্নটি আপনি দেখেন, যা এখনো পূরণ হয়নি।

আমি মনে করি ফুটবল ফেডারেশন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেলে মেয়েদের ফুটবল এগিয়ে যাবে। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা যদি সম্মিলিতভাবে কঠোর পরিশ্রম করে যায়, তবে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব। আমার আশা, মেয়েরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাক, সাফল্য নিয়ে আসুক বাংলাদেশের জন্য। 

বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দলকে কি কখনো কোচিং করাতে চান আপনি?

আমি তো এখন নারী ফুটবল দলকে নিয়ে আছি, এখন এটি নিয়েই ভাবতে চাই, পুরুষ ফুটবল দলকে নিয়ে নয়। আর আমি একটি সময় পুরুষ ফুটবল দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছি।

কোচিং ক্যারিয়ারে স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?

২০২২ সালে নেপালের মাটিতে জয় করা নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ই আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।

আপনার সেরা আবিষ্কার কারা?

আমি মনে করি, ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলটিই আমার সেরা আবিষ্কার। এ দলটিতে যারা খেলেছে তারাই দেশের নারী ফুটবলের সেরা তারকা বলে আমার মনে হয়।

অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইয়ে পরবর্তী লক্ষ্য কী?

এখানে আমরা এসেছি ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়ে। এটা মেয়েদের প্রথম বিদেশ ট্যুর। দেশের মাটিতে খেললেও তারা কখনো বিদেশে যায়নি। তাই মেয়েদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল। যদিও সেটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। প্রথমবার বিদেশে এসেই তারা যেভাবে খেলেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর মধ্য দিয়ে আমাদের প্রথম লক্ষ্যটা পূরণ হয়েছে, আমরা তুর্কমেনিস্তানকে ভালো ব্যবধানে হারাতে পেরেছি। আমাদের পরের লক্ষ্য সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও ভালো ফুটবল খেলা।