শিগগিরই বছরে অন্তত এক হাজার ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনে লক্ষ্য স্থির করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ্য দুবাই এবং এর মাধ্যমে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বার্ষিক জিডিপিতে ক্রীড়ার অবদান দ্বিগুণ করার লক্ষ্য তাদের। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের ক্রীড়া কেন্দ্র থেকে যা যা কিছু করা প্রয়োজন সবই করবে তারা। এজন্য আরো বেশি অনুশীলন ক্যাম্প, আরো বেশি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ও আরো বেশি প্রাইভেট ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করতে চায় দুবাই।

দুবাই স্পোর্টস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ মনসুর বিন মোহাম্মদ আল মাকতুম সম্প্রতি ২০২৩-৩৩ সময়কালের স্পোর্টস স্ট্র্যাটেজি ঘোষণাকালে এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসে দুবাই স্পোর্টস কাউন্সিল এবং সেখানে ক্রীড়া খাতের উন্নয়নের জন্য নতুন সব প্রজেক্ট অনুমোদন দেন শেখ মনসুর।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ২০২৩ সালকে ঘোষণা করেছেন ‘টেকসই বছর’ হিসেবে। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এ বছর ক্রীড়া ক্ষেত্রে টেকসই সাফল্য অর্জনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন ৩৩ বছর বয়সী শেখ মনসুর। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে যেতেই আরব আমিরাতের নেতৃত্ব সব প্রকল্প এমনভাবে নিয়েছেন যা টেকসই হয়। আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ প্রতিপালনের অংশ হিসেবে আমরা ক্রীড়া খাতকে টেকসই করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘দুবাই স্পোর্টস কাউন্সিলের সভায় আমরা ১০ বছর মেয়াদি কৌশল প্রণয়নে জোর দিয়েছি, যাতে দুবাইয়ের জিডিপিতে ক্রীড়া খাতের অবদান ২% থেকে বাড়িয়ে ৪% করা যায়। ডি৩৩ অর্থনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুবাইকে বিশ্ব ক্রীড়ার একটি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের লক্ষ্য।’

বৈঠকে তিনি দুবাইয়ে বছরে অন্তত ৫০০ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন। ক্রমান্বয়ে এটিকে বাড়িয়ে এক হাজারে উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি।

শেখ মনসুর আরো বলেন, ‘কাউন্সিল ঘোষিত নতুন ২০২৩-৩৩ কর্মপরিকল্পনায় ক্রীড়া খাতের ভূমিকার ওপর জোর দেয়া হয়েছে যাতে শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের দর্শন ও দুবাইয়ের অর্থনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যায়। এ কর্মপরিকল্পনা বৈশ্বিক ক্রীড়ার কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের মর্যাদা বাড়িয়ে তুলবে এবং মেধাবী খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করবে।’

তরুণ এ প্রশাসক আরো বলেন, ‘দুবাইয়ের জিডিপিতে ক্রীড়ার অবদান ২% থেকে ৪% বৃদ্ধি করাই আমাদের কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য। আমাদের লক্ষ্য বছরে তিন হাজার স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করা ও এক হাজার আন্তর্জাতিক ট্রেনিং ক্যাম্প আয়োজন করা। আর প্রাইভেট খাতের ক্রীড়া আসর আয়োজন ৯০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য আমাদের।’

গত বছরের সাফল্যের পর এবার ক্রীড়া খাতে আরো বড় লক্ষ্য দুবাইয়ের। গত বছর দুবাই সুপার কাপ, ওয়ার্ল্ড টেনিস লিগ, দুবাই ডেজার্ট ক্ল্যাসিকরা মতো বড় বড় আয়োজন করা হয়। এ মাসেই টেনিসের বড় আসর বসছে দুবাইয়ে। দুবাই ডিউটি ফ্রি টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবেন সদ্যই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী নোভাক জোকোভিচ, নারী টেনিসের এক নম্বর খেলোয়াড় ইগা সিয়ানতেকের মতো বড় নাম। ১৯-২৫ ফেব্রুয়ারি দুবাই ডিউটি ফ্রি টেনিস স্টেডিয়ামে এ আসরে নারী ইভেন্টে শীর্ষ র্যাংকধারী ২০ খেলোয়াড়ের ১৯ জনই অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী দুই খেলোয়াড়দের এক মাসের মধ্যেই সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন দুবাইয়ের টেনিস সমর্থকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের ধনী এ দেশটিতে এ বছর আরো বহু ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে।