আয়ারল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজে ২-০তে হারানোর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচেই হেরে বসে বাংলাদেশ। যদিও বড় লজ্জায় পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এ সিরিজে শেষ দুটি ম্যাচে টানা জয় পেল টাইগাররা। ফলে লিটন দাসের দল সিরিজ জিতল ২-১-এ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলংকায় বসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। তার আগে শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিতে নিল লাল-সবুজরা।
গতকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। এরপর তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন আর সাইফ হাসানের ব্যাটে ভর করে দাপটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। টাইগাররা ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় ৩৮ বল হাতে রেখে।
এর আগে টিম টেক্টরকে নিয়ে দারুণ সূচনা করেন আইরিশ দলনায়ক পল স্টার্লিং। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে টিম টেক্টরকে বোল্ড করে ডেডলক ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। টেক্টর আউট হওয়ার পরও বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন স্টার্লিং। যদিও এরপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেন স্বাগতিক বোলাররা। শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমানরা উইকেট শিকারের উৎসবে মেতে ওঠেন। রিশাদ ও মুস্তাফিজুর তিনটি করে এবং শরিফুল দুটি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন মেহেদী ও মো. সাইফউদ্দিন।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন অধিনায়ক স্টার্লিং। এ ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ নিয়েছেন তানজিদ হাসান। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যেই তিনিই প্রথম ফিল্ডার হিসেবে পাঁচটি ক্যাচ নিলেন। এর আগে মালদ্বীপের ভেদাগি মালিন্দা ও সুইডেনের সেদিক সাহাক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি ক্যাচ নেন। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে সর্বোচ্চ তিনটি ক্যাচ নেয়ার রেকর্ড ছিল স্পিনার ইলিয়াস সানির।
এরপর ব্যাট হাতেও নায়ক তানজিদ। টি-টোয়েন্টিতে ৪৫তম ম্যাচে ১১তম ফিফটি করে বাংলাদেশকে জেতান তিনি। ক্রেগ ইয়াংকে মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে ছক্কা মেরে ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বামহাতি এ ব্যাটার। ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। এছাড়া ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ৪৬ রানের মধ্যে দুই উইকেট পতনের পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে এ দুজন যোগ করেন ৫০ বলে ৭৩ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে তানজিদ বলেন, ‘প্রথমেই সিরিজ জিততে পারায় আলহামদুলিল্লাহ এবং আমি পাঁচটি ক্যাচ নিয়েছি। এটা খুবই চমকপ্রদ ছিল। আমি ও আমার সতীর্থরা খুবই উপভোগ করেছি। প্রথম ইনিংস শেষে সবাই এটা নিয়েই কথা বলছিল, আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। এরপর বল বিচার করে ব্যাট করেছি আমি। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন এলে আমরা পরিকল্পনা করি, শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে যাব। আমার অবশ্য ইনিংসের শেষ পর্যন্ত যেতে হয়নি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১১৭ (স্টার্লিং ৩৮, ডকরেল ১৯; মুস্তাফিজ ৩/১১, রিশাদ ৩/২১, শরিফুল ২/২১)। বাংলাদেশ: ১৩.৪ ওভারে ১১৯/২ (তানজিদ ৫৫, ইমন ৩৩*, সাইফ ১৯; টেক্টর ১/১৭)। ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: তানজিদ হাসান। প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: শেখ মেহেদী হাসান। সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী।










