প্লেয়ার্স ইউনিয়নকে দেয়া কথা এবার রাখতে যাচ্ছে ফিফা। চলতি ফিফা নারী ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৭৩৬ জন খেলোয়াড়ের হাতে সরাসরি চলে যাচ্ছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৯১১ কোটি টাকা) প্রাইজমানির সিংহভাগ।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৩২টি দল। ৩২ দলের ২৩ সদস্যের স্কোয়াডের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় প্রাইজমানি। তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বাড়ি ফিরলেও পাবেন ন্যূনতম ৪৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার)। আর শিরোপা জিততে পারলে পাবেন ৪ লাখ ডলারেরও বেশি! এ প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য গ্যারান্টেড প্রাইজমানি রেখে ইতিহাস গড়ল ফিফা।
শিরোপাজয়ী দলের ২৩ সদস্যের জন্যও বিরাট সুখবর। ‘স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়া’য় শিরোপা হাতে নিতে পারলেই তারা প্রত্যেকে ৪ লাখ ৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার নিয়ে ঘরে ফিরবেন। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৯৩ লাখ ডলার খেলোয়াড়দের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হবে, বাকিটা ৬৪ লাখ ডলার যাবে ফেডারেশনের কোষাগারে।
বৃহস্পতিবার শুরু হয় নবম ফিফা নারী ফুটবল বিশ্বকাপ। এবার আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ২০১৯ সালের তুলনায় তিনগুণ ও ২০১৫ সালের তুলনায় ১০ গুণ বাড়িয়েছে ফিফা। তবু এখনো পুরুষ-নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে বৈষম্য অনেক। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, গত বছর কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পুরুষদের উপার্জিত ১ ডলারের বিপরীতে নারীরা পাচ্ছেন গড়ে ২৫ সেন্ট। অর্থাৎ, এক-চতুর্থাংশ। অবশ্য ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপের তুলনায় এবার অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ওই সময় পুরুষদের তুলনায় নারীদের আয় ছিল ১ ডলারের বিপরীতে ৮ সেন্টের কম! গত নারী বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি ছিল ৪৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার, এবার ১৬৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
তবু এবার খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে যে ১৬টি দেশ বিদায় নেবে তারা প্রত্যেকে পাবে ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার প্রাইজমানি। এর মধ্যে ১০ লাখ ৩ হাজার পাবেন খেলোয়াড়রা, আর ২৩ লাখ ডলার পাবে ফেডারেশন।
নারী বিশ্বকাপের জন্য ফিফা গত মাসে রেকর্ড ১১ কোটি ডলারের (১৬ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করে। পুরস্কার ছাড়াও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য ফেডারেশন ও ক্লাবকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার দেয়ার কথা ফিফার।
গত মার্চে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতন বৈষম্য নিয়ে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো জানান, নারী ফুটবল ও সমতার ঐতিহাসিক যাত্রা নিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা আনা।
গত মার্চে ১৫০ জন আন্তর্জাতিক ফুটবলারের সইকৃত চিঠি ফিফার কাছে পাঠায় খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো। তাতে প্রাইজমানিতে সমতার দাবি তোলা হয়। সেই দাবির পরই প্রাইজমানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এবার মোট প্রাইজমানি ২২৮ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর মধ্যে ১৬৫ মিলিয়ন খেলোয়াড়দের, ১৬.৮ মিলিয়ন ক্লাবগুলোকে দেয়া হবে বেনেফিট প্রোগ্রাম হিসেবে এবং ৪৫.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বাবদ।
যদিও কাতারে অনুষ্ঠিত পুরুষদের বিশ্বকাপের তুলনায় এ প্রাইজমানি অনেক কম। কাতারে দেয়া হয়েছিল ৬৫৬ মিলিয়ন ডলার। এবার খেলোয়াড়রা পাচ্ছেন ১৬৫ মিলিয়ন ডলার। কাজেই এখনো দুটি বিশ্বকাপের মধ্যে ৪৯৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৩৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার) ব্যবধান। ফিফা ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে সমান প্রাইজমান করার কথা ভাবছে।
আশার কথা, বিশ্বব্যাপী ফুটবলাররা বছরে গড়ে যে বেতন পান এ বিশ্বকাপ খেলে তার চেয়ে বেশি অর্থ পাবেন। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো এ নিয়ে বলেন, ‘নজিরবিহীন এ নতুন বণ্টন মডেল অনুসারে, প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এখন টুর্নামেন্টে যতদূর যাবে তার বিপরীতে সম্মানজনক পারিতোষিক পাবে। নারী পেশাদার ফুটবলাররা বছরে গড়ে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার (২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার) পারিশ্রমিক পান, কাজেই এবার বিশ্বকাপের বণ্টন মডেল অনুসারে তারা যে প্রাইজমানি পাবেন সেটা তাদের ক্যারিয়ার ও জীবনমানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া সদস্য দেশগুলো এবার রেকর্ড আর্থিক সুবিধা পাবে, যা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে তারা নিজ নিজ দেশে ফুটবলের উন্নয়ন করতে পারবে এবং এভাবে নারী ফুটবল আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।’
ব্যবধান ঘুচিয়ে আনার প্রতিশ্রতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নারী ফুটবলের প্রাইজমানিতে ঐতিহাসিক যাত্রা করেছি। এটা সমতার পথ তৈরি করতে সাহায্য করবে। ২০২৩ সালে প্রাইজমানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩ আসরে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ মিলিয়ন ডলারে। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ ও ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপেই সমান প্রাইজমানি পাবেন খেলোয়াড়রা।’










