তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটের মধ্যে টি২০-তে সবচেয়ে বেশি অনুজ্জ্বল বাংলাদেশ। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১৪৫টি ম্যাচ খেলে ৫০টি জিতেছে বাংলাদেশ, পরাজয় ৯২টিতে। ফলহীন ছিল তিনটি। সদ্যই হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। এটা টি২০ ক্রিকেটে টাইগারদের পঞ্চাশতম জয়। স্বাগতিকদের এ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণরা। তাতে নতুন প্রাণে জেগেছে নতুন আশা।
টি২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে পুরনো প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ২০টি ম্যাচ খেলে ১৩টি জিতেছে টাইগাররা, হার সাতটি।
সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮টি ম্যাচ খেলে জয় মাত্র দুটি, হার ১৬টিতে। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ১৭ ম্যাচের মধ্যে জয় মাত্র তিনটি ও হার ১৪টি। তিন জয়ের মধ্যে দুটি আবার ২০২১ সালে হোম সিরিজে। সে সময় কিউইদের সিরিজে পরাজিত করেছিল টাইগাররা। কাছাকাছি সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। অজিদের বিপক্ষে মোট ১০টি টি২০ ম্যাচ খেলে চারটি জয় পেয়েছেন টাইগাররা, হার ছয়টিতে।
এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ১৬টি ম্যাচ খেলে জয় পাঁচটি, শ্রীলংকার সঙ্গে ১৩ ম্যাচে চারটি, ভারতের সঙ্গে ১২ ম্যাচে একটি ও আফগানিস্তানের সঙ্গে নয় ম্যাচে তিনটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ খেলে তিনটি জয় পেলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড দুর্বল বাংলাদেশ। দুইবারের লড়াইয়ে স্কটিশরাই জিতেছে।
টি২০-তে বাংলাদেশের যাত্রা ২০০৬ সালে। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অভিষেক ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে হারিয়েছিল স্বাগতিকরা।
সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে ৫৫ ম্যাচ খেলে জয় এসেছে ২৬টি, আর হার ২০টিতে। বিদেশে রেকর্ড খুবই দুর্বল। ৩০ হারের বিপরীতে জয় এসেছে মাত্র ১৫টি। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ৩৩ হারের বিপরীতে টাইগাররা জিতেছে ৯টি।
টি২০ বিশ্বকাপে ৩৮টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে ৯টি জয় এসেছে, পরাজয় ২৮টি। জয়ের হার ২৪.৩২ শতাংশ।
টি২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক সাকিব। এখন পর্যন্ত ১১০ ম্যাচে ২৩.৪৭ গড় ও ১২২.০২ স্ট্রাইট রেটে তিনি করেছেন ২ হাজার ২৭৭ রান। এর পরই মাহমুদউল্লাহ (২ হাজার ১২২), তামিম ইকবাল (১ হাজার ৭০১), মুশফিকুর রহিম (১ হাজার ৫০০) ও লিটন দাস (১ হাজার ৪০০)। এক হাজার রান করেছেন আরো দুজন—সৌম্য সরকার (১ হাজার ২১২) ও আফিফ হোসেন (১ হাজার ১৮)।
টি২০-তে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল। ২০১৬ সালের আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের ধর্মশালায় ওমানের বিপক্ষে ১০৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছিলেন তামিম, যিনি টি২০ ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৮ রানের ইনিংসও তামিমের।
রানের মতো উইকেটেও সেরা সাকিব। ১১০ ম্যাচে তার শিকার ১২৯ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ৪-০-২০-৫। তিন ফরম্যাটেই তিনি উইকেটে দেশের সেরা। সম্প্রতি দেশের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়া সাকিব টেস্টেও সর্বোচ্চ ২৩১ উইকেটের মালিক।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১২১টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১০ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। একশর বেশি ম্যাচ খেলেছেন আর একজন—মুশফিকুর রহিম (১০২টি)। অধিনায়ক হিসেবেও সর্বোচ্চ ৪৩ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তার অধ্যায়ে বাংলাদেশ ১৬টি জিতেছে, হেরেছে ২৬টিতে। সাকিবের সাফল্যের হার (৩১.২৫%) মাহমুদউল্লাহর (৩৯.০৯) চেয়ে খারাপ। মাশরাফির সময় ২৮ ম্যাচে ১০টি ও মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ২৩ ম্যাচে আটটি জয় পেয়েছে টাইগাররা।
টি২০-তে এখন ২০০ ছাড়ানো স্কোরের ছড়াছড়ি। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তিনবার দুশর বেশি স্কোর গড়তে সমর্থ হয়েছে। ২০১৮ সালে কলম্বোয় শ্রীলংকার বিপক্ষে ২১৫ রান, একই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২১১ রান ও ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২০০ রানের স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।
টি২০ বিশ্বকাপে গৌরবের একটি রেকর্ডের অধিকারী সাকিব আল হাসান। সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক তিনি। এখন পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪৭টি উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯টি উইকেট নিয়েছেন শহিদ আফ্রিদি। সাকিবের পরের পাঁচজনই এখন অবসরে! আবার ৭৯৯ রান নিয়ে তিনি তালিকার আট নম্বরে। সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪১ রান করে বিশ্বকাপে সবার শীর্ষে ভারতের বিরাট কোহলি।










